Alexa আহা আজি এ বসন্তে...

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

আহা আজি এ বসন্তে...

 প্রকাশিত: ০০:০২ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ০০:২৬ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফুল ফুটুক বা নাই ফুটুক আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন।প্রকৃতির চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী সবুজ প্রকৃতির ঝড়া পাতার কাননে কাননে পারিজাতের রংয়ের কোলাহলে ভরে উঠেছে চারদিক।

কচি পাতায় আলোর নাচন আর রঙিন মনের রঙের মতোই আমাদের মনে লেগেছে আবিরের দোলা। হৃদয় হয়েছে প্রাণের ছন্দে আন্দোলিত।

আজ বাঁধন হারার দিন, আজ মুক্ত মনে আকাশ পানে মন হারানোর দিন। পাতার আড়ালে আবডালে সুর্য উকি দেয়। লুকিয়ে থাকা বসন্তের কোকিলের কুহুকুহু ডাক, ব্যাকুল করে তুলবে অনেক বিরহী অন্তর।

কবি তাই বলেছেন, সে কি আমায় নেবে চিনে / এই নব ফাল্গুনের দিনে...। তবে বসন্তের সমীরণ বলছে এ ঋতু সব সময়ই বাঙালির মিলনের বার্তা বহন করে।

কারণ এই বসন্তেরই আবাহনে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। এই বসন্তেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল। তাই স্বাধীন বাংলার এই নতুন সময়ে বসন্তের রয়েছে আলাদা এক মর্যাদা।

বসন্তেই বাঙালি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করেছিলেন।

আবার এ বসন্তেই তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়। আর শহরের নাগরিক জীবনে বসন্তের আগমণবার্তা নিয়ে আসে `আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি` ও একুশের বইমেলা।

আবার কালের ধারাবাহিকতায় এদিনেই অসংখ্য তরুণ লাল রংয়ের পাঞ্জাবী ও রমনীর বাসন্তী রংয়ের শাড়িতে নিজেদের রাঙিয়ে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরসহ পুরো নগরী সু-শোভিত করে তোলে। যার রেশ গিয়ে লাগে সারা বাংলায়।

বসন্তের পূর্ণতার এ দোলা ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের সর্বত্র এবং সারা পৃথিবীর সকল বাঙালির ঘরে ঘরে। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নুপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন, সব এ বসন্তেই।

তাই বসন্ত মানে পূর্ণতা। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানে একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রংয়ে, মানুষকে করে আনমনা।

কবিও তাই ব্যক্ত করেছেন, ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত। বসন্তের এ সময়ে শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি।

গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীরগতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর।

১৮ বছর আগে বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে সর্ব প্রথম `বসন্ত উৎসব` উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে বাঙালি প্রাণে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে।

উৎসবে শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, আদিবাসী পরিবেশনা, বসন্ত কথন পর্ব, আবীর ও প্রীতিবন্ধনী বিনিময়, দলীয় সংগীত, দলীয় আবৃত্তি, একক সংগীত, একক আবৃত্তি, বাউল সংগীত পরিবেশিত হয়।

আর এমন রঙিন দিনে মনের গহীনে থাকা ভালোলাগা নিয়ে বিশ্বের সব ভাষার সবাইকে জানাই ফাল্গুনের শুভেচ্ছা...

ডেইলি বাংলাদেশ: সালি/আরএজে