আহত সাব্বিরের অবস্থা অপরিবর্তিত

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

আহত সাব্বিরের অবস্থা অপরিবর্তিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৫:০৫ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৫ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত খুলনার পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও মেধাবী শিক্ষার্থী সাঈদ মুনতাসির সাব্বিরের শারীরিক অবস্থা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। ৭২ ঘণ্টা অতিবাহিত না হলে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। 

শুক্রবার দুপুরে সাব্বিরকে দেখতে হাসপাতালে যান সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক। এদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় সমাজের বিত্তবানদের নিকট আর্থিক সহায়তার আহবান করা হয়েছে। 

বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের ধাক্কায় উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের দিনমজুর মুনসুর আলী সরদারের ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী সাঈদ মুনতাসির সাব্বির গুরুতর আহত হয়। ধাক্কা লাগার পর পরিবহনটি সাব্বিরকে কয়েক মিটার টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং মাথায় প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়। 

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।বুধবার থেকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রথমদিন সে রক্ত বমি করে এবং অচেতন অবস্থায় ছিল। তার নাক এবং কান দিয়ে রক্তও বের হয়। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়। শারীরিক অবস্থা ও আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে পরিবারের লোকজন তাকে গাজী মেডিকেলেই রেখে দেয়। ইতোমধ্যে তার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। 

বিশেষ করে, গত বৃহস্পতিবার থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ১৫ হাজার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন শেখ ১০ হাজার ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া বানু ডলি ৫ হাজার টাকা দিয়ে তার চিকিৎসার জন্য সহায়তা করেন। এত ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। তার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, থানার ওসি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবার। 

প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন শেখ বলেন, বুধবার সাব্বিরকে দেখতে আমি হাসপাতালে যাই। তার শারীরিক অবস্থা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। 

ডাক্তাররা বলেছেন, ৭২ ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাবে না। শুক্রবার তাকে দেখতে যান সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক। 

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়েছি। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও আশংকাজনক। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, তাকে সরকারি আবু নাসের হাসপাতালে স্থানান্তর করার জন্য। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে