আসার চেয়ে যাওয়ার ব্যস্ততা বেশি

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদের চতুর্থ দিন

আসার চেয়ে যাওয়ার ব্যস্ততা বেশি

ইদ্রিস আলম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৩ ৮ জুন ২০১৯   আপডেট: ২১:৩২ ৮ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঈদের চতুর্থ দিন। কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। আবার একই ভাবে অল্প সময়ে আনন্দঘন মূহুর্ত স্বজনের সঙ্গে কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার ভিড়ও দেখা যাচ্ছে এ দুই রেলস্টেশনে। যেমন যাচ্ছে তেমন আসছে।

শনিবার সরেজমিনে রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সকালে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধু, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও জামালপুরগামী তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকিট কাটার জন্য স্টেশনে দীর্ঘ লাইন। ট্রেনের টিকিট কেটে সবাই প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অধীর অপেক্ষায় সময় পার করছেন। 

কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধুর যাত্রী নোমান বলেন, ঈদের সময় রাস্তায় অনেক জ্যাম থাকে আবার ট্রেনের টিকিটও পাওয়া যায় না তাই একটু শান্তিতে বাড়ি যেতে আজ যাচ্ছি। তবে ট্রেন যে কখন আসে বলতে পারছি না। তার পরও ভালো লাগছে। তিনি আরো বলেন, স্ত্রী, তিন সন্তান নিয়ে যাচ্ছি। কোন ঝামেলা ছাড়া যাওয়ার জন্যই আজ যাওয়া। 

এদিকে সদরঘাটেও একই অবস্থা চোখে পড়ে, ঈদ আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার যেমন চাপ রয়েছে ঠিক তেমনই যাওয়ারও চাপ দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, আজও সদরঘাটে যাত্রীর প্রচুর চাপ রয়েছে। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন সদরঘাটে পা ফেলানোর জায়গা নেই। এখনো রাজধানী থেকে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন অনেকেই। 

সদরঘাটে শুক্রবারে ৬০ টি লঞ্চ এলেও যাত্রী তেমন ছিল না। এখন ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার যাত্রীর সংখ্যায় বেশি বলে জানায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। 

বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক হুমায়ুন কবির বলেন, ভোররাত এবং সকাল পর্যন্ত ৬০ লঞ্চ আসে আর সদরঘাট থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ছেড়ে যায় ২০ টি লঞ্চ। ছেড়ে যাওয়ার লঞ্চে যাত্রীসংখ্যা অনেক বেশি ছিল। যা কল্পনাও করিনি।

তিনি আরো বলেন, আর যে লঞ্চগুলো দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সদরঘাটে এসেছেন যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই অল্প।

এএসআই দেলোয়ার বলেন, ঈদে ছুটি পায়নি। উত্তর বঙ্গে যাব ১১ তারিখ ট্রেনের টিকিটও পাচ্ছি না। এতো ভিড় কল্পনাও করতে পারবেন না। আমি ইউনির্ফম পরেই টিকিট পেলাম না তাহলে সাধারণ মানুষের যে কি অবস্থা বুঝতেই পারছেন। একই অবস্থা মহাখালী,গাবতলী, কল্যাণপুর,আব্দুল্লাহপুরসহ প্রায় সবখানে।

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ঈদের আগের মতোই এখনো একই নিরাপত্তা বলয় রাখা হয়েছে। সদরঘাট কেন্দ্রিক  ও বিভিন্ন বাস টার্মিনাল কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ঢাকা মহানগর পুলিশ সদস্যরা পালা বদল করে ডিউটি দিচ্ছে। এছাড়া নৌ পুলিশ, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড ও স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে।

এদিকে সকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদ উদযাপন শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। সুন্দরবন এক্সপ্রেস, এগারসিন্ধু, নীল সাগর, একতা এক্সপ্রেস, তিস্তা ও মহানগর প্রভাতীযোগে অনেকে সকাল সকাল ঢাকায় ফিরছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এমআরকে/এস