আসন ধরে রাখতে কৌশলী আওয়ামী লীগ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

ঢাকা-৩

আসন ধরে রাখতে কৌশলী আওয়ামী লীগ

 প্রকাশিত: ১৬:৩৭ ১৯ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৭:০০ ১৯ জুলাই ২০১৮

ঢাকা-৩ আসনে সম্ভাব্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী

ঢাকা-৩ আসনে সম্ভাব্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র পাঁচ মাস। সময়ের বিষয়টি মাথায় নিয়েই ভোটের মাঠে নেমে পড়েছে প্রায় সব দল। অঘোষিতভাবে চলছে প্রচার, প্রার্থী বাছাই, ইশেতহার তৈরির কাজসহ নির্বাচনের নানান প্রস্তুতি। আসন ভাগাভাগি নিয়ে শুরু হয়েছে জোট শরিকদের আলোচনা। দলগুলোর নেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন কোন্দল নিরসনে। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে সার্বিক বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করছেন তারা।

সরেজমিনে নির্বাচনী ঢাকা-৩ আসন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান এমপি বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বলানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুকে ঘিরেই রয়েছে আওয়ামী লীগের সব আলোচনা। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার কাছ থেকেও জানা গেছে তার সম্ভাবনার কথা।

স্থানীয় নেতারা বলেন, কেরানিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ দুই অংশে বিভক্ত হলেও, দলে নেই কোনো অন্তর্কোন্দল। বিপু রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা প্রয়াত হামিদুর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ। রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বিপুর মা হাসনা হামিদও। তাদের অনুপ্রেরণায় বিপুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদ, পরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক-আহ্বায়ক, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং বিগত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন।

তারা বলেন, ঢাকা-৩ আসনটিতে নসরুল হামিদ বিপু ছাড়া দলের অন্য প্রার্থী নেই, তিনি অপ্রতিরোধ্য। এ আসনে তার কোনো বিকল্প নেই। এখানে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী তিনি। আর বিপুই এমপি হবেন এটা নিশ্চিত। কারণ তিনি কেরানিগঞ্জে সবক্ষেত্রেই উন্নয়ন করেছেন। জানা গেছে, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো রাজনৈতিক সংঘাত নেই ঢাকা-৩ আসনে। বিপুর উদার নৈতিক ও সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএনপিও নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেরানিগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-৩ আসন গঠিত । এছাড়া কেরানিগঞ্জ উপজেলা দু’টি থানাও রয়েছে এ আসনে। কেরানিগঞ্জ দক্ষিণ থানা ও অপরটি মডেল থানা। একসময় কেরানীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে ছিল একটি আসন। মানুষ জানত বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানের ঘাঁটি হিসেবে। আমান এ আসনে চারবার বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে আসনের পাঁচটি ইউনিয়ন জিনজিরা, আগানগর, শুভাঢ্যা, তেঘরিয়া ও কোণ্ডা নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা-৩ আসন। আর উপজেলার বাকি সাতটি ইউনিয়ন, সাভার ও কামরাঙ্গীর চরের কিছু অংশ নিয়ে গঠন করা হয় ঢাকা-২ আসন।

এদিকে আসনটিতে (ঢাকা-৩)  বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র পক্ষ থেকে তাকেই প্রার্থী করা হবে বলে দলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, দলীয় প্রাক্তণ এমপি ও সাবেক ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমান ঢাকা-২ আসনে চলে যাওয়ায়, গয়েশ্বর এখানে বিএনপির একক প্রার্থী। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক নেই। আর তিনিও তাদের সঙ্গে মিশতে চান না। আগামী নির্বাচন নিয়ে এখন স্থানীয় বিএনপির একটাই প্রশ্ন ‘গয়েশ্বর কি পারবেন হারানো আসন ফিরিয়ে আনতে’? 

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, যদি আগামী নির্বাচন হয় তাহলে এ আসন থেকেই নির্বাচন করবো।

আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরইমধ্যে তাদের অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন আগাম প্রচারণায়। আর আসন রাখতে কৌশলী হয়ে উঠছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সাধারণ মানুষের মন জয় করতে বলছেন উন্নয়নের কথা। পাশাপাশি বিএনপি সব দুর্বলতা কাটিয়ে ওই আসনটি ফেরাতে চালিয়ে যাচ্ছে নানামুখী তৎপরতা। 

এদিকে জোটের রাজনীতিতে ভোট না হলে এককভাবে নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি। আর সে কারণে এ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নের রমজান ভূঁইয়াও প্রচার চালাচ্ছেন।

জিনজিরা ইউনিয়নের একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, ঢাকা-৩ আসনে নসরুল হামিদ বিপু অনেক উন্নয়ন করেছেন। এখানে বিপু ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্য কোনো প্রার্থী নেই। বিপু এলাকার মানুষের পাশে আছেন সব সময়। তিনি খুবই ভালো মানুষ। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের এমপি আমানউল্লাহ আমানের কথা উল্লেখ করে ওই ভোটার বলেন, তার সব কাজ ভালো ছিল। ভালো ইমেজের মানুষ ছিলেন তিনি। কিন্তু কালভার্ট, ব্রিজ, রাস্তা করেননি। তবে তিনি ঢাকা-২ আসনে চলে যাওয়ার পর থেকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। কিন্তু তিনি উপযুক্ত প্রার্থী নন। এখানে তার কোনো অবস্থান নেই। গয়েশ্বর কোন্ডা ইউনিয়নের ভোটার।

তবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুযাদ্দেদ আলী বাবু বলেন, আগামী নির্বাচনে দল অংশ নিলে ঢাকা-৩ আসনে আমাদের একক প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নির্বাচন ঘিরে আমরা জিনজিরা, আগানগর, কোণ্ডা ও তেঘরিয়ায় তৈরি করেছি একটি করে কমিটি। শুধু শুভাঢ্যা ইউনিয়নকে তিন ভাগ করে তিনটি কমিটি করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা কেরানীগঞ্জের এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব।

জিনজিরা ইউনিয়ন বন্দরপাড়া এলাকার জামাল বলেন, এক সময় এই এলাকা বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল। এখন কেউ আর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মুখ খুলেও কথা বলে না।

বাস্তবতা হলো প্রার্থী যতজনই হোক, ঢাকা-৩ আসনে ভোটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন নৌকার নসরুল হামিদ বিপু। 

ডেইলি বাংলাদেশ/ডিএম/এএএম/ আজ/এলকে