Alexa আশ্চর্যজনক রহস্যে ঘেরা কাসপিয়ান সাগর!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৭ ১৪২৬,   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

আশ্চর্যজনক রহস্যে ঘেরা কাসপিয়ান সাগর!

সাদিকা আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৫ ১৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৮:২২ ১৭ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দুনিয়াতে রহস্যের শেষ নেই। প্রাচীনযুগ থেকেই রহস্য ঘেরা পৃথিবী মানুষকে করেছে রোমাঞ্চিত, ভিত ও উৎসাহী। আর তাদের মধ্যে যারা গবেষণার অ্যাডভেঞ্চারে নেমে পড়েছে এসব রহস্যভেদে তারা এখনো এসব রহস্যের পেছনের কথা বের করতে পারেননি।

আবার কিছু ক্ষেত্রে আংশিক পারলেও পরিপূর্ণ তৃপ্তি আসেনি। এমনই একটি রহস্য জনক ঘটনা রয়েছে কাসপিয়ান সাগরের। যা জানলে গা শিউরে উঠবে।

কাসপিয়ান সাগরইউরোপীয় সভ্যতার মাঝে কাসপিয়ান সাগর, প্রকৃতির এক বিস্ময়কর দান। কাসপিয়ান সাগর হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম অন্তর্দেশীয় হ্রদ। সুবিশাল এবং রহস্যে ঘেরা এক আজব সাগর এটি। এই হ্রদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার পৌরাণিক কাহিনি। কাল্পনিক এবং আরো অনেক রহস্যের জন্ম এই কাসপিয়ান সাগরে।

অতি বাস্তব কিছু কাহিনি আছে এখানে যেমন, কাসপিয়ান সাগরে গেলে দেখা যায় যে হঠাৎ আপনার সামনে দিয়ে কে চলে গেল। বিজ্ঞানীরা এটা বিশ্বাস করেন যে কাসপিয়ান সাগর এক রহস্যময় চাঁদর দ্বারা আবৃত। এটা অবিশ্বাস করার কোন উপায় নাই যে এখানে কিছু একটা আছে, যা আপনি সেখানে গেলেই বুঝতে পারবেন। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কাসপিয়ান সাগর সম্পর্কে-

কাসপিয়ান সাগর কাসপিয়ান সাগর দেখতে সত্যিই অসাধারণ। ১,২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ, ৩২০ কিলোমিটার (২১০ মাইল) প্রশস্ত, এবং প্রায় ৩৭১,০০০ ভূ-পৃষ্ঠ (১৪৩,২০০ বর্গমাইল) পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর। এর এক তৃতীয়াংশ জল লবণাক্ত। এটার পশ্চিমে আজারবাইজান এবং পূর্বে তুর্কেমেনিস্তান পর্বতমালা। এর উপকূলে আছে আজারবাইজান, ইরান, কাজাখস্তান, রাশিয়া, এবং তুর্কমেনিস্তান। কাসপিয়ান তিনটি স্বতন্ত্র অঞ্চল নিয়ে গঠিত তা হলো উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিন কাসপিয়ান অঞ্চল।

এই গভীরতম হ্রদে আছে মহামূল্যবান মাছ, কারুকার্য পাথর, উচ্চাসন, হেরিং এবং কার্প। এসব ছাড়াও অনেক মহামূল্যবান পদার্থ এখানে আছে যার জন্য এই হ্রদকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে মানুষের কাছে। এই সাগরের উপকূলে থাকেন এমন মানুষের ভাষ্য মতে কয়েকদিন পর পর এক ধরনের মানুষ বের হয় এই সমুদ্র উপকূল থেকে।

কাসপিয়ান সাগর অন্ধকারে দেখতে মনে হয় কোনো একটা কালো পশু যার চুল দীর্ঘকায় চুলের রঙ সবুজ, ঘার মসৃণ যার মধ্যে দিয়ে বের হয় পিচ্চিল এক ধরনের পদার্থ, গন্ধও খুব বিকট, দাঁত চিকন চিকন, মুখ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বড়, লম্বা লম্বা আঙ্গুল। এরা বের হলে উপকূলে যত ধরনের মাছ থাকে তাদের দল শুধু সাগরের গভীরের দিকে যেতে থাকে এবং তাদের পিছন পিছন ধাওয়া করতে থাকে এই নাম না জানা পশুগুলো। একটা সময় তারা মাছ ধরে নিয়ে আসে এবং উপকূলে বসে সারা রাত ধরে খায়।

এর পরদিন সকাল থেকে প্রায় ৫-৮ দিন পর্যন্ত জেলেরা কোনো মাছ পায় না সাগরে। তার কারণ হিসেবে তারা বলেন যে, মাছ হয়তো ভয় পেয়ে সাগরের গভীরে চলে যায়। যেদিন এই অশরীরী গুলো মাছ খায় তার পরের দিন সকালে জেলেরা গিয়ে উপকূলে দেখতে পান শুধু মাছের হাড় পরে আছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে এই হাড় কোনো পাখি অথবা কিট পতঙ্গ খাবে তো দুরের কথা ছুয়েও দেখেনা।

কাসপিয়ান সাগর এভাবে অনেক দিন চলার পর জেলেরা মনে করলেন এভাবে চলতে দেয়া যাবে না। এতে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় জেলেদের। তাই তারা চিন্তা করলো, যে রাতে এই অশরীরী সমূহ আসবে সেই রাতে তারা অশরীরীদের মোকাবিলা করবে এটা দেখার জন্য যে এরা আসলে কি? কথা মত একদিন এক রাতে এরা (অশরীরী) বের হল এবং জেলেরাও ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হল। ঐ দিন তারা সমুদ্র উপকূলে বসে সারা রাত পার করে দিল কিন্তু ঐ  অশরীরী গুলো আর উপকূলে ফিরল না। তারা ভাবতে শুরু করল এরা হয়তো আর আসবেনা।

কাসপিয়ান সাগর কিন্তু তিন চার দিন পর জেলেদের মধ্যে কয়েকজন খুব বেশি জ্বরে আক্রান্ত হলো। তারপর হাসপাতালে ১০ থেকে ১৫ দিন থাকার পর সবাই মারা গেল। এরপর থেকে এই উপকূল থেকে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। আজ পর্যন্তও নিষিদ্ধ আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা দিতে পারেন নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ/এসআর