Alexa আশা নিরাশার দোলাচলে শ্রীলংকার বিশ্বকাপ

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

অর্জনে ব্যর্থতা-পর্ব ১

আশা নিরাশার দোলাচলে শ্রীলংকার বিশ্বকাপ

আসাদুজ্জামান লিটন  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০৭ ১২ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ। সেমিফাইনাল শেষে এখন চলছে ফাইনালের প্রস্তুতি। ১০ দলের বিশ্বকাপে প্রতিটি দলই এসেছিল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে। তবে ফরম্যাটের কারণে গ্রুপপর্বেই বাদ গিয়েছে ছয় দল। 

কেমন ছিল সেই দলগুলোর পথচলা? সেসব নিয়েই ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এবারের আয়োজন (অর্জনে ব্যর্থতা)। আজকের পর্বে থাকছে শ্রীলংকার ব্যর্থ হবার গল্প। 

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা। ১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনে-দিলশানদের অবসরের পরেই মূলত ভেঙ্গে পড়ে দলটি। এরপর গেলো ৪ বছর একের পর এক খেলোয়াড় আসলেও দলে নিজের অবস্থান শক্ত করতে পেরেছেন খুব কম খেলোয়াড়। 

বিশ্বকাপের আগেও লংকানদের ওয়ানডে দলের অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে অধিনায়ক কে হবেন এ নিয়ে ভাবতেও হিমশিম খান নির্বাচকরা। সবাইকে অবাক করে দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয় দিমুথ করুণারত্নের নাম। জাতীয় দলের হয়ে  সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন যিনি ৪ বছর আগে! ফলে দলের সাফল্যের ব্যাপারেও সন্দিহান ছিলেন সবাই। 

বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচে তাই ১০ উইকেটের বড় পরাজয়ে খুব বেশি অবাক হয়নি কেউ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একপেশে হারের পর আফগানদের বিপক্ষে কষ্টার্জিত ৩৪ রানের জয় পায় লংকানরা। 

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে পরবর্তী ২ ম্যাচই বৃষ্টিতে ভেসে যায় তাদের। ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট পেলেও এর ফলে লংকানদের আফসোসই বেড়েছে বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৭ রানে হারার পর ইংল্যান্ডের সঙ্গে ২০ রানের জয়ে উকি দেয় লংকানদের সেমির সম্ভাবনা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯ উইকেটে হারার পর আবারও ফিকে হয়ে যায় সেই স্বপ্ন। যা আবারও জেগে ওঠে উইন্ডিজের সাথে ২৩ রানের দারুণ জয়ে। 

আশা নিরাশার দোলাচলে থাকা লংকানদের সেমি ভাগ্য ঝুলে ছিল অনেকটা ইংল্যান্ডের জয় পরাজয়ে। ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলে শ্রীলংকার সেমির স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের হার তাই খুব বেশি আশাহত করেনি লংকানদের। 

গ্রুপ পর্বের ৯ ম্যাচে ৩ জয় ও ৪ পরাজয়ে ৮ পয়েন্ট অর্জন করে শ্রীলংকা। পয়েন্ট টেবিলের ৬ষ্ঠ স্থানে থেকে শেষ করে বিশ্বকাপ মিশন। 

লংকানদের ব্যর্থতার মূল কারণ দল হিসেবে খুব কম খেলতে পেরেছে তারা। দু-একটি ম্যাচে ঝলক দেখা গেলেও অধিকাংশ ম্যাচই ছিল দু-একজনের পারফরম্যান্স নির্ভর। তাই ফলাফলও পক্ষে এসেছে কম। 

কখনো বোলাররা সাফল হলে ব্যাটসম্যানরা ব্যার্থ আবার ব্যাটসম্যানরা সফর হলে বোলাররা তাদের কাজটা ঠিকমতো করতে পারেনি।

 ২ টি ম্যাচ পরিত্যক্ত না হলে হয়তো অন্যরকম হতো তাদের গল্প। তবে এই দল নিয়ে এতদূর আসতে পারাও বড় অর্জন তাদের জন্য। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল/সালি