Exim Bank Ltd.
ঢাকা, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

একাদশ সংসদ নির্বাচন

আশা নিরাশার দোলাচলে আওয়ামী লীগ

মহিউদ্দিন মখদুমী
তরুণ সাংবাদিক মহিউদ্দিন মখদুমী। পড়াশোনা ইসলাম শিক্ষা ও ধর্মতত্ত্বে হলেও বাংলা সাহিত্যের প্রতি রয়েছে বিশেষ ঝোঁক। দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোতে প্রবন্ধ লিখছেন নিয়মিত। ‘আমার আবেগ’ নামে একটি প্রবন্ধের বইও রয়েছে তার। আর লেখালেখির নেশা থেকেই কর্ম হিসেবেও বেছে নিয়েছেন সাংবাদিকতা।

কোরবানি ঈদের পরের দিন মেহমান আসবে। মা সাত কেজি চাল রান্না করার জন্য মেপে চুলায় দিয়েছেন। দাওয়াত পাওয়া সব মেহমান এসেছিলেন। তবু দুই কেজি চালের ভাত বেঁচে গেছে।

সেই ভাত নিয়ে করতে হলো ঘরোয়া মিটিংও। ভাত নেয়ার মতো অতিদরিদ্র পরিবার এখন আর নেই। ১০/১২ বছর আগে ছিল। অতিদরিদ্র পরিবারগুলো এখন স্বাবলম্বি হয়ে উঠেছে। গোস্তসহ দিলেও তারা ভাত নেবে না। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ভাতে পানি দিয়ে রাখা হবে। সকালে সবাই গোস্ত দিয়ে পান্তা খাবো। তখন মা স্মৃতিচারণ করে বলছিল, ‘এক সময় ভাতের মাড়ের জন্য বাড়ির সামনে বসে থাকতো দারিদ্র পরিবারগুলো। একবেলা ভাত খাবার চুক্তিতে একবেলা সংসারের কাজ করে দিতো। এখন কাজের লোক পাওয়া যায় না। ভাত নেয়ার মানুষ নেই। সেদিন রাতেই নোট করে রেখেছিলাম ‘প্রায় ১০ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে সরকার চালাচ্ছেন তাই মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। অভাব উধাউ, ভাত নেবার মতো অতিদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।’

পরে জেনেছি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) মতে, ২০০০ সালে দেশে প্রতি ১০ জনে প্রায় পাঁচজন ছিল গরিব। বর্তমানে প্রতি ১০ জনে দু’জন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। চলতি অর্থবছর শেষে তা আরো কমে যাবে। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে ১০ জনে একজন দরিদ্র থাকবে। আর অতি-দারিদ্র্য বলতে যা বোঝায় তা থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক শিক্ষার বিস্তার, কাজের সুযোগ বৃদ্ধি, কৃষির রূপান্তর, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কারণে দারিদ্র্যতা কমে হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকার জন্য বিশেষ কর্মসূচিও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করেছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ বিজয়ের পর বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল চরম দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে। যুদ্ধ বিধস্ত একটি দেশ আজ-এখন নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে উন্নয়নে অগ্রগামী হয়েছে।

বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের রূপকল্প হাতে নেয়। ২০২১ সালের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য স্থির করে। যার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এদিকে আয় বৈষম্য যাতে না বাড়ে সেজন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মেঠোপথের গ্রামের সড়ক পাকা করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করায় এসব এলাকায় উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত সহজ হয়েছে। কৃষির আধুনিকায়ন হয়েছে। উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিদ্যুতায়ন বেড়েছে। এখন গ্রামাঞ্চলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে। সূত্র হলো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেলে দারিদ্র্যতা কমে যাবে। এসডিজি বাস্তবায়নে অনেক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। যা আগামীতে দারিদ্র্য কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে রাজনীতিক কর্মসূচির ঝামেলামুক্ত বাংলাদেশ দারিদ্র্যতার হার কমানোর ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।

একাদশ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। দুই প্রধান দলের মধ্যে চাপের সৃষ্টি হয়েছে। একটি জরিপ সংস্থা বলছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। অবশ্য এর কারণ আছে। আমার মতে প্রধান কারণ, দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণাগুলো, জঙ্গিদমন এবং বিডিআর বিদ্রোহসহ বড় বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা। শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিক এবং জনগনের সব দাবি মেনে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দাবিও তিনি মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন করছেন। এইসব কারণে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবার কথা। শেখ হাসিনা সরকারের হাতে আছে, মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, সামাজিক সূচক, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ অবকাঠামোসহ সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের তালিকা। মহাকাশ থেকে সমুদ্র জয়ের ইতিহাস। যা বাংলাদেশ জন্ম নেয়ার পর রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় উন্নয়নের বিশাল ফর্দ কিংবা ফিরিস্তি জনগণের সামনে গর্ব সহকারে তুলে ধরতে পারবে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা। অন্যদিকে, গত প্রায় ১০ বছরে ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপির কোনো সফলতা চোখে দেখেনি জনগণ। বিভিন্ন আন্দোলন ডেকে তারা সফল বাস্তবায়ন করতে পারেনি। নিরব হয়ে গেছে দলটির নেতাকর্মীরা। অনেকেই দল ছেড়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য কিংবা পেশাগত কাজে ঝুঁকে পড়েছে। আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ফিরিস্তির বিপরীতে দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মাদকের প্রসার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন, নির্বাচন-প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, আর্থিক দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু উন্নয়ন মুখীহয়ে উঠা জনগণ তা কতটুকু গ্রহণ করবে সেটা সময়েই বলে দেবে।

রাজনীতিক কর্মসূচির ঝামেলামুক্ত দেশ হোক। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসুক দেশের অনেক সাধারণ উপকারভোগী জনগণ চায়। এমনকি ভোট না করেও যদি আওয়ামী লীগ আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তাতে কোন যায় আসে না এমন মানসিকতার জনগণের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমি তাদের চিন্তাটিকে গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছি। মনে হয়েছে, সাধারণ জনগণ শান্তিতে আছে। আর শান্তিতে থাকলে সেই সরকারের উপর সমর্থন সৃষ্টি হবে, ভোট বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবু একাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণটি আওয়ামী লীগ সহজেই উতরে গিয়ে জয়ী হবে ভাবতে পারছি না। কারণ জনগণের মধ্যে কয়েক ভাগের জনগণ আছে। সবাই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করবে এটি ভাবা অমূলক।

গত ১০ বছরে দেশে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার সেই উন্নয়নকে মাস্টারকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই জনসমর্থন পাওয়া যাবে এ ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত ছিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। কিন্তু এরইমধ্যে একটি শঙ্কা উন্নয়নের আড়ালে জেগে উঠেছে। যা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মাঠে ভয়ংকর ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। সেটি হচ্ছে, মন্ত্রী, এমপি থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরমেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি আওয়ামী লীগ ঘরানার। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ মন্ত্রী-এমপিসহ জনপ্রতিনিধি ও দলের নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহার, দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঝগড়া-সংঘর্ষ ও খুনোখুনি, বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের রেষারেষি চরমে পৌঁছে গেছে দেখেছেন। তাই জনগণ বলছেন, কর্মী নয় নেতা সর্বস্ব হয়ে উঠছে আওয়ামী লীগ। আছে গ্রুপিং।

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও জনপ্রতিনিধিসহ নেতাদের আতি আতলামির কারণে চলমান সময়ে দেশে অবিচার ও জবরদস্তির উৎপাতও সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে সেই অভিযোগের তীর আওয়ামী লীগের দিকেই যাচ্ছে। এর ফলে জনগণ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পক্ষে রায় দেবে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তা বুঝে ফেলেছে। তাই একাদশ নির্বাচনকে নিয়ে আশা নিরাশার দোলাচলে দুলছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এবার অভয় দিয়ে একটি কথা বলতে চাই, মোটা বুদ্ধির সঙ্গে কৌশলের যুদ্ধ শুরু হলে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। কৌশল জয়লাভ করে। এটি ইতিহাস। সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেশবান্ধব সরকার, উন্নয়নকামী সফল সরকার হিসেবে খ্যাতি পাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারকে একাদশ নির্বাচনে জয়লাভ করতে হলে কৌশলী হতে হবে। বিশ্ব নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়া একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই সেই কৌশল ঠিক করবেন। যেহেতু তৃলমূল পর্যায়ে ভোট বেড়েছে তাই সন্দেহে কিংবা শঙ্কায় আশা নিরাশার দোলাচলে ঝুঁলে থাকলে চলবে না। আগাতে হবে সাহসী হয়ে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলের অনুসরণে। বিজয় আসবেই।

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
শিস দিয়েই দুই বাংলার তারকা জামালপুরের অবন্তী
শিস দিয়েই দুই বাংলার তারকা জামালপুরের অবন্তী
আশুরার রোজা: নিয়ম ও ফজিলত
আশুরার রোজা: নিয়ম ও ফজিলত
তরুণীদের বেডরুমে নেয়ার পর হত্যা করাই কাজ
তরুণীদের বেডরুমে নেয়ার পর হত্যা করাই কাজ
রাতে ফেসবুক বন্ধ চান রওশন
রাতে ফেসবুক বন্ধ চান রওশন
সূরা আল নাস এর গুরুত্ব ও ফজিলত
সূরা আল নাস এর গুরুত্ব ও ফজিলত
অবন্তী সিঁথির জয়জয়কার
অবন্তী সিঁথির জয়জয়কার
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ!
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ!
যৌনতায় ঠাসা ৫টি সিনেমা
যৌনতায় ঠাসা ৫টি সিনেমা
উচ্চতা বাড়ায় যেসব খাবার
উচ্চতা বাড়ায় যেসব খাবার
মিলনে ‘অপটু’ ট্রাম্প, বোমা ফাটালেন এই পর্নো তারকা!
মিলনে ‘অপটু’ ট্রাম্প, বোমা ফাটালেন এই পর্নো তারকা!
‘শাহরুখ’ আর রেডি গোয়িং টু জাহান্নাম!
‘শাহরুখ’ আর রেডি গোয়িং টু জাহান্নাম!
‘তারেকের তিন গাড়ি, আমার বোন চলে বাসে’
‘তারেকের তিন গাড়ি, আমার বোন চলে বাসে’
নিককে প্রকাশ্যে চুমু খেলেন প্রিয়াঙ্কা
নিককে প্রকাশ্যে চুমু খেলেন প্রিয়াঙ্কা
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন জিৎ-এর প্রেমিকা!
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন জিৎ-এর প্রেমিকা!
স্টিফেন হকিংয়ের পাঁচ ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী
স্টিফেন হকিংয়ের পাঁচ ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী
‘পবিত্র আশুরা’
‘পবিত্র আশুরা’
সূরা বাকারার শেষ অংশের ফজিলত
সূরা বাকারার শেষ অংশের ফজিলত
চাকরি না পাওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে যুবকের আত্মহত্যা
চাকরি না পাওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে যুবকের আত্মহত্যা
স্টিফেন হকিংয়ের জীবন বদলানো ১০ উক্তি
স্টিফেন হকিংয়ের জীবন বদলানো ১০ উক্তি
বিবাহিতা বা সন্তানের মা হলে ১০ লাখ জরিমানা!
বিবাহিতা বা সন্তানের মা হলে ১০ লাখ জরিমানা!
সর্বশেষ:
ইরানের আহবাজ শহরে সেনা প্যারেডে বন্দুকধারীর হামলা, আহত ২০ ইরানের আহবাজ শহরে সেনা প্যারেডে বন্দুকধারীর হামলা, আহত ২০ সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে: যাত্রীকল্যাণ সমিতি সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে: যাত্রীকল্যাণ সমিতি ২০১৮ শেষ অথবা ২০১৯’র শুরুতে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি ২০১৮ শেষ অথবা ২০১৯’র শুরুতে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি যশোরে ও বান্দরবানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ যশোরে ও বান্দরবানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গণি মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গণি মারা গেছেন তানজানিয়ায় ফেরি ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৬ তানজানিয়ায় ফেরি ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৬