Alexa আল্লাহ’র সন্তুষ্টি অর্জনে মুআমালাত, মুআশারাত ও আদব রক্ষা  

ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

আল্লাহ’র সন্তুষ্টি অর্জনে মুআমালাত, মুআশারাত ও আদব রক্ষা  

শেষ পর্ব

মাওলানা ওমর ফারু ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫৭ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:৫৯ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আল্লাহু (ছবি: সংগৃহীত)

আল্লাহু (ছবি: সংগৃহীত)

মুআমালাত: আল্লাহর তায়ালা সন্তুষ্টি অর্জনে মুআমালাত বা লেনদেনও যথাযথভাবে রক্ষা করা আবশ্যক।

জীবনে রুজি রোজগার, কাজ-কারবার ও লেনদেন অপরিহার্য। ইসলাম এর গুরুত্বকে অস্বীকার করে না। কিন্তু ইসলামি অর্থনীতির ক্ষেত্রেও মানুষকে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ও খেয়াল খুশি মোতাবেক চলতে অনুমতি দেয় না। ইসলামের নির্দেশ এই যে, অর্থ উপার্জন ও অর্থ ব্যয় উভয় ব্যাপারে আল্লাহর বিধান মেনে চলতে হবে। 

আরো পড়ুন>>> সর্বশ্রেষ্ঠ জান্নাতি চার নারী

ইসলামের বিধান অনুযায়ী যে অর্থ উপার্জন করা হয় একে বলা হয় হালাল রুজি, আর ইসলামি বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করে যে অর্থ উপার্জন করা হয় একে বলে হারাম রুজি। ইসলাম হালাল রুজি অর্জন করাকে এবং এর জন্যে ব্যবসা বাণিজ্য এবং কৃষি শিল্পী প্রভৃতি উপায় অবলম্বন করাকে বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হালাল খানা খাও’।

রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হালাল রিজিক অন্বেষণ করাও এক প্রকার জিহাদ’। অন্য এক হাদিসে আছে, নবীয়ে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নেক আমলের সত্তর ভাগ, তন্মেধ্যে সর্বোত্তম হলো হালাল রুজি অন্বেষণ করা’। তিরমিযি শরিফে আছে, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সত্যবাদী বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতে নবী, সিদ্দিক ও শহিদগণের সঙ্গী হবে।’

বুখারি শরিফে আছে, হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিজ হাতের দ্বারা উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ খেতে পারে না। (এ জন্য হজরত দাউদ (আ.) নিজ হস্ত উপার্জিত খাদ্য ভক্ষণ করতেন।) কৃষি কাজ সম্বন্ধে হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা মাটির মধ্যে রুজি তালাশ করো। অর্থাৎ কৃষি কাজ করো। পক্ষান্তরে হারাম উপার্জিত অর্থকে ইসলাম অত্যন্ত ঘৃণ্য ও পাপের কাজ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তিরমিযি শরিফে আছে, ‘রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শরীরের যে গোস্ত হারাম খাদ্য দ্বারা উৎপন্ন হয়েছে তা বেহেস্তে যাবে না। বরং তা দোজখের জন্যই উপযুক্ত। ইমাম আহমদ (রা.) বর্ণনা করেছেন, নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি দশ দিরহাম মূল্যে একখানা কাপড় ক্রয় করে যার মধ্যে এক দিরহাম হারাম উপায়ে উপার্জিত হয় তাহলে ওই কাপড় পরিধান করে সে যত নামাজ পড়বে আল্লাহ তায়ালার নিকট তা কবুল হবে না।’ 

সুদ-ঘোষ, মদ-জোয়া, বেশ্যাবৃত্তি, অন্যায়-অবিচার, নাচ-গান, প্রতারণা, প্রভৃতি দ্বারা যে অর্থ উপার্জন করা হয়: এইভাবে ওজনে কম দিয়েও ভেজাল বিক্রি করে এবং চুরি, ডাকাতি ও গুÐামি করে যে অর্থ উপার্জন করা হয় তা সবকিছুই হারাম মালের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে ইসলামের বিধান অনুযায়ী ব্যবসা বাণিজ্য কৃষি-শিল্প, চাকুরি-নওকরি প্রভৃতি দ্বারা বৈধ উপায়ে যে অর্থ উপার্জিত হয় তা সকলই হালাল রুজির অন্তর্ভূক্ত। 

মুআশারাত:
মানুষ সামাজিক জীব। তাই প্রত্যেক মানুষকেই কোনো এক পরিবারের অন্তর্ভূক্ত হয়ে কোনো এক সমাজের অধিবাসী হয়ে এবং কোনো না কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে জীবন যাপন করতে হয়। পরিবারের অন্যান্য লোকদের মধ্যে যার সঙ্গে যেরূপ সম্পর্ক স্থাপিত হয় সে অনুযায়ী তার সঙ্গে ব্যবহার করাই পারিবারিক নীতি। রাষ্ট্রের অন্যান্য নাগরিকদের সঙ্গেও তার যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় তাদের সঙ্গেও এরূপ ব্যবহার করাই হলো রাজনীতি এবং নিজ রাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গেও যে সম্পর্ক গড়ে উঠে সে সম্পর্ক অনুযায়ী তাদের সঙ্গে ব্যবহার করা হলো আন্তর্জাতিক নীতি।

ইসলামের নির্দেশ এই যে, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মুসলমানকে ইসলামের বিধান ও আইন কানুনের নিয়ন্ত্রনাধীন থাকেত হবে। মাতা-পিতা, পুত্রকন্যা, ভ্রাতা-ভগ্নি, স্বামী-স্ত্রী, পাড়া-প্রতিবেশি, মনিব-চাকর, মুসলিম-অমুসলিম, রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক হিসেবে মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয় সেই সম্পর্ক হিসেবে কার সঙ্গে কীরূপ ব্যবহার করতে হবে এবং একের ওপর অন্যের কী অধিকার বর্তায়, ইসলামে তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী তাদের প্রত্যেকের সহিত আচার-ব্যবহার করা এবং প্রত্যেকের হক ও অধিকারাদি আদায় করাই হলো ইসলামি মুআশারাত বা ইসলামি পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নীতি। ইসলামি জিন্দেগি যাপনের নিমিত্ত ইসলামি মুআশারাতের ভিত্তিতে প্রত্যেকের সহিত আচার ব্যবহার করা এবং প্রত্যেকের হক হুকুক আদায় করা প্রত্যেক মুসমানের অবশ্য কর্তব্য।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, আমাদের অনেকেই ইসলামি মুআশারাত সম্পর্কে একেবারেই গাফেল। অথচ আল্লাহর হক আল্লাহপাকের মর্জি হলে মাফ করে দেবেন, কিন্তু বান্দার হক যে পর্যন্ত না তার হকদার মাফ করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তা মাফ করবেন না।

আদব:
পানাহার, কথা-বার্তা, আলাপ-আলোচনা, ওয়াজ-নসিহত, উঠা-বসা, চলা-ফেরা, দেখা-সাক্ষাৎ, সালাম-মুসাফাহা, শয়ন-স্বপন, হাসি-কান্না, পেরা, দেখা-সাক্ষাৎ, পেশাব-পায়খানা, লেবাস-পোশাক, চেহারা-সূরত প্রভৃতি যাবতীয় ব্যাপারে ইসলামে যে রীতিনীতি নির্ধারিত রয়েছে তাকেই বলে ইসলামি আদব। ইসলামি জিন্দেগি যাপন করতে ইসলামি আদব লালন করে চলা একান্ত আবশ্যক। 

অতএব, ইসলামি আদব শিক্ষা করে সব ব্যাপারে ইসলামি আদব পালন করে চলা মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে