আলো ছড়াচ্ছে দক্ষিণের বাতিঘর

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

ক্যাম্পাস স্টোরি

আলো ছড়াচ্ছে দক্ষিণের বাতিঘর

শফিকুল ইসলাম, ববি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৬ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৮ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

লালচে ইটের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

লালচে ইটের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশালের বুক চিড়ে নেমে এসেছে এক জাদুকাটা নদী ‘কীর্তনখোলা’। নদীতে প্রতিদিন চলে পালতোলা নৌকা, শতশত বালি কয়লার জাহাজ আর শ্রমিকের জীবনযুদ্ধ। নদীর তীর ঘেঁষে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এক লীলাভূমি গড়ে উঠেছে। আকাশের সমস্ত নীল ঠেকেছে তীরে। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবত সেতুর উপর দাঁড়ালেই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে। 

চারদিকে ঘন সবুজ। এ যেনো রংতুলিতে আঁকা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নয়নাভিরাম দৃশ্যপট। সেতু থেকে নেমেই বাম পাশে পথচারীরা জানালা দিয়ে অপলক তাকিয়ে থাকে নান্দনিক স্থাপত্যশৌলির দিকে। 

বলছিলাম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। নীল আকাশ ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমুতে যাওয়া ছোটো ছোটো গাছগুলো যেনো ঘোষণা করে এর মহিমা। এখানে ক্ষয়ে যাওয়া প্রতিটি সময়ে স্বপ্নেরা ডানা মেলে। দুঃস্বপ্নগুলো হারিয়ে যায় দূর আকাশে। সন্ধ্যায় শহীদ মিনার, মুক্তমঞ্চে জমে গানের আড্ডা, মুক্তমঞ্চের নির্মল বাতাস আর গানের সুর মুহূর্তেই দূর করে দেয় বিষন্নতা। সকালে এক রূপ বিকেলে আরেক রূপ। ভোরে বঙ্গবন্ধু হলের সমস্ত নিরবতা ফালি ফালি করে দেয় শালিকের গান। ক্যাম্পাসে ভোরের আকাশটা অন্য রকম। সূর্য রশ্মীর খেলা ছায়া ধরা দেয় প্রতিটি বালুকনায়।

নীলাকাশের সঙ্গে ক্যাম্পাসের মিতালি

এরইমধ্যেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কালচার গড়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘র‍্যাগিং, মাদক ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস’ ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম ক্যাম্পাস যা র‍্যাগিং ও ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে স্বীকৃত। অধূমপায়ী শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এখানে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অল্প সময়ে নিয়ে এসেছে একাধিক সাফল্য। তারা তাদের অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের মুখ করেছে উজ্জ্বল। 

বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদল এরইমধ্যে খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে জাতীয় পর্যায়ে। ‘দ্বীন দ্যা ডে’ সিনেমার জন্য সারা দেশ থেকে মুনসুন ফিল্মস এর ট্যালেন্ট হান্ট রিয়ালিটি শো’ তে এণ্টি হিরো ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদলের রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ। রয়েছে ক্রীড়া অঙ্গনেও অসামান্য সাফল্য। সাংস্কৃতিক চর্চায় রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রতিভার বিকাশ। ক্যাম্পাস সূচনার পর থেকে ঘরে-বাইরে খেলাধুলায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, বইমেলা, কবিতা উৎসব, পিঠা উৎসব, ফুসকা ফেস্টসহ নানা আয়োজনে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে মুখরিত। ডিবেটিং সোসাইটি ও নাট্যদল মুক্ত বুদ্ধি চর্চা ও সাংস্কৃতি কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখে আসছে। 

জোড়াজুটির কথোপকথন

তাছাড়াও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, পেশাভিত্তিক উন্নয়নের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে রয়েছে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও অর্জন। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত স্পাইক এশিয়া ফেস্টিভ্যাল অব ক্রিয়েটিভিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের (সিএসই) শিক্ষার্থীদের তৈরি কৃষি কাজে ব্যবহার উপযোগী ড্রোন উদ্ভাবনের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে আকাশে উড়ানো হয়েছে। 

কাশফুল ঘেরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক থেকে শুরু করে ক্লাসরুম, গ্রন্থাগারে বই, আবাসিক হল, বাসসহ  নানান সংকট রয়েছে। নানা সংকট সত্ত্বেও ছাত্রদের মেধা মননকে কাজে লাগিয়ে সুপ্ত প্রতিভার উন্মেষ ঘটানোর জন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্বন্বয়ে গৃহীত হয়েছে বহুমুখী পদক্ষেপ। এ দর্পনে ধরা পড়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে দেশ, সমাজ, সভ্যতা ও সংস্কৃতির বাস্তব চিত্র। সত্যের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ানো অপসংস্কৃতির সব বেড়াজাল ছিন্ন করে, বাধার বিন্দাচল উপেক্ষা করে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে, বিশ্বজনীন আলো ছড়িয়ে দিতে এক ঝাঁক তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলছে অবিরাম প্রচেষ্টা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে বেলস পার্কের জনসভায় বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা বাস্তবায়ন করেন। চারশ শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় পরের বছর। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা সাড়ে ৭ হাজার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ অনুষদে বর্তমানে ২৪টি বিভাগ রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম