ঢাকা, বুধবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৫,   ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪০

নিষেধাজ্ঞায় হতাশ জেলেরা

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৫:৫০ ৭ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৬:০৫ ৭ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইলিশের প্রজনন মৌসুম ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর মোট ২২ দিন সকল প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাই রামগতি থেকে কমলনগর পর্যন্ত  প্রায়  ৪০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এতে হতাশ লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরের জেলেরা।

আশ্বিন মাসের বড় পূর্ণিমার আগের চার দিন, পূর্ণিমার দিন ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন সময়। এসময় সাগর থেকে মা ইলিশ এসে মেঘনায় ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতেই সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

অভিযান সফল করতে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তারা জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভাসহ উপজেলা ডিসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ইলিশের প্রজনন মৌসুম সফল করতে কাজ করছেন।

স্থানীয় জেলে ফারুক, আজাদ, আবদুল হাইসহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন যাবত ইলিশ আসতে শুরু করেছে। অনেক জেলে এখনো মহাজনের দেনা পরিশোধ করতে পারেনি। তারমধ্যে অভিযান শুরু করায় হতাশায় ভুগছেন তারা।

তারা আরো জানান, অনেক জেলে সরকারি সুযোগ সুবিধার পায়। অনেকে পায় না। যারা পায় তাদের টাকা দিয়ে কার্ড কিনে চাল আনতে হয়।

২২ দিন জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিরতণ করবে সরকার। এছাড়াও প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান সফল করতে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

এরমধ্যে রয়েছে লিফলেট, পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেসহ সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, বরফ কলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্য কোথাও থেকে বরফ আসতে না দেয়া, নদী সংলগ্ন খাল থেকে নৌকা বের হতে না দেয়া, মাছঘাট সংলগ্ন বাজারের নৌকা ও ট্রলারের জ্বালানি তেলের দোকান বন্ধ রাখা, নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরের মাছঘাটগুলো বন্ধ রাখা প্রভৃতি।

কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে ইলিশসহ সব মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এ সময়ে মাছ শিকার, পরিবহণ, মজুদ ও বাজারজাতকরণ অথবা বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ আইন আমান্য করলে ১ বছর থেকে ২ বছরের জেল অথবা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে