Alexa আর কত বছর হলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবেন জলিল

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

আর কত বছর হলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবেন জলিল

 প্রকাশিত: ১৮:১৭ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিজয়ের ৪৬ বছর। দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে উদযাপিত হচ্ছে লাল সবুজের মহোৎসব। মহান মুক্তিযুদ্ধ আর সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়েছে জাতি।

বিজয়ের এই রঙ্গিন উৎসবের মধ্যেও নিরানন্দে কাটাচ্ছেন এক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল মিয়া। অসহায় বিধবা মায়ের মলিন মুখের বিষন্নতাকে উপেক্ষা করে দেশ মায়ের ডাকে যুদ্ধে গিয়েছিলেন তিনি। সেই দেশেই এখন তিনি দিনযাপন করেছেন নিতান্ত অবহেলায়।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায়। তাই আশায় উজ্জীবিত হয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন দরজায় গিয়ে ঘুরেছেনও। সঠিক কাগজপত্র থাকার পরও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ঘুষের অভাবে ভাতা বঞ্চিত তিনি।

প্রায় দিনমজুরি করে দুর্বিষহ অভাবের সঙ্গে চলছে তার বর্তমানের যুদ্ধ। ধার দেনা করে ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়ে খেয়ে না খেয়ে ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে দিন পার করছেন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় ভোলাব ইউনিয়নের পূবেরগাঁও কুতুবপুরের মৃত বাবর আলীর ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল জলিল। দুই নম্বর সেক্টরে, সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফের অধীনে যুদ্ধ করেছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নাম এম এ জলিল, ক্রমিক নং-১৪৩৬৭৮। ১৯৭১ সালে তিনি ২০ বছরের টগবগে যুবক। স্থানীয় ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি।

তপ্ত মে মাসের এক দুপুরে সহপাঠী নিতুনদের বাড়িতে আগুন দেয় হানাদাররা। প্রিয়বন্ধুর চোখের পানি রক্তে আগুন ধরিয়ে দেয় জলিলের। সিদ্ধান্ত নেন মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার।

সামনে বিবধা মা আর ভাই। চার বছর আগে স্বামী হারানো মা মানিকজান বিবি তার সন্তান হারাতে চান না। এক পর্যায়ে জুনের প্রথম সপ্তাহে গোপনে আরো ১০ বন্ধুর সঙ্গে আখাউড়া সীমান্তের পথে পা বাড়ান প্রশিক্ষনের উদ্দেশ্যে। নরসিংদীর পাচদোনা গিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে পড়ে উল্টো রাস্তায় বাড়ির পথে ফিরতে হয় তাদের। জুলাই মাসের মাঝামাঝি উপজেলার আঞ্চলিক প্রশিক্ষক কমান্ডার খন্দকার সিরাজউদ্দিন আহমেদ শিশুর কাছ থেকে আরো অনেকের মত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর সিরাজউদ্দিন আহমেদ শিশুর নেতৃত্বে ৫ মাস বিভিন্নস্থানে পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন জলিল। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর নারায়ণগঞ্জের মিলিশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র সমর্পণ করেন তিনি।

নিয়মতান্তিকভাবে যোদ্ধার প্রমান হিসেবে এক টুকরো কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয় তার হাতে। এরপর ফেরেন জীবন যুদ্ধে।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম তালিকা যখন করা হয় সে সময় জলিল মিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে একই সার্টিফিকেট পাওয়া পূবেরগাঁও বারেক মিয়া, উকিল উদ্দিন, নিয়ত আলী সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। অজ্ঞাত কারণে সেই তালিকায় ঠাঁই পাননি জলিল মিয়া।

বর্তমানে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে দিন চলে তার। কাজে না গেলে বেতন থেকে কাটা হয় টাকা।

কাঞ্চন পৌরসভার ভুইয়াপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মোল্লা বলেন, জলিল ভোলাব এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শিশুর অধীনে থেকে যুদ্ধ করেছে এটা আমিসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা জানি। আমি তার ব্যাপারে অনেক জায়গায় কথা বলেছি। তার সার্টিফিকেটটি তৎকালীন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক মুহাম্মদ আতাউল গনী ওসমানীর স্বাক্ষর করা।

এদিকে, স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা নেতা তালিকায় জলিলের নাম উঠানোর জন্য দুই লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। বর্তমানে পাঁচ হাজার টাকা মাসিক বেতন পওয়ায় জলিলের কাছে দুই লাখ টাকা হিমালয় সমান বিশাল অর্থের পাহাড়। তাই আশাহত হয়ে চিরদিনের মতো হাল ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

আবেগআপ্লুত ও কান্নাজড়িত কন্ঠে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল মিয়া ডেইলি বাংলাদেশের এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন, মুক্তিযুদ্ধের আর কত বছর পার হলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবেন তিনি। বয়স ৬৫ হয়েছে। শরীরটাও তেমন ভাল নেই। হয়তো আর বেশি দিন বাচবেনও না। মৃত্যুর পর অন্যসব মুক্তিযোদ্ধার মত রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়তো সম্মানও পাবেন না।

যে দেশে অনেক নামধারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আর বরাদ্দ অর্থে ভাগ বসাচ্ছে সে দেশে এমন একজন কি নেই যিনি জলিলের মতো একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কান্না শুনতে পান?

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এআর

Best Electronics
Best Electronics