আরো ভয়ানক রূপ নিতে পারে করোনা পরিস্থিতি: বরিস জনসন

ঢাকা, শনিবার   ০৬ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আরো ভয়ানক রূপ নিতে পারে করোনা পরিস্থিতি: বরিস জনসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৭ ২৯ মার্চ ২০২০  

ছবি: বরিস জনসন

ছবি: বরিস জনসন

যুক্তরাজ্যে চলমান মহামারি করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগে আরো ভয়ানক রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

শনিবার দেশটির প্রতিটি পরিবারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই বার্তা দেন তিনি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা বরিস চিঠিতে জানান, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

ওই চিঠির সঙ্গে প্রত্যেক ব্রিটিশ নাগরিককে, বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নিয়মকানুন এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত লিফলেটও দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ বিষয়ে সরকারী পরামর্শের স্পষ্টতা নিয়ে সমালোচনার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

শনিবার যুক্তরাজ্যে আরো ২৬০ জন লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় দেশটিতে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এখন ১ হাজার ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আক্রন্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৮৯ জন।

যুক্তরাজ্যের প্রায় তিন কোটি পরিবারকে ওই চিঠি পাঠাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৮ লাখ পাউন্ড।

চিঠিতে বোরিস লিখেছেন, “শুরু থেকেই আমরা সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি। বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা পরামর্শে আমাদের কিছু করতে বললে আমরা তা অবশ্যই করবো।”

“আমরা জানি পরিস্থিতি ভাল হওয়ার আগে আরও খারাপের দিকে যাবে। তবে আমরা সঠিক প্রস্তুতি নিচ্ছি, এবং আমরা সবাই নিয়ম যত বেশি মেনে চলবো, তত কম জীবন হারাবো এবং ততো তাড়াতাড়ি জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।”

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন জীবনে যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেগুলোর প্রভাব পড়ার আগেই সামনের দুই থেকে তিন সপ্তাহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বোরিস তার চিঠিতে মহামারিকে ‘জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা রক্ষা করতে এবং জীবন বাঁচাতে সবাইকে বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করেছেন।

তিনি চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য সেবাদানকারীর পাশাপাশি সেইসব লাখ লাখ মানুষ যারা অসহায় মানুষদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন তাদের কাজের প্রশংসা করেন।

চিঠির সাথে পাঠানো লিফলেটটিতে হাত ধোয়া সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা, করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলির ব্যাখ্যা, বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সরকারী নিয়ম এবং অসহায় মানুষদের সহায়তা করা সংক্রান্ত নানা পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে, উত্তর আয়ারল্যান্ডে মানুষের ঘরে থাকতে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার যে নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে সেগুলো কার্যকর করতে ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ জরিমানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে করা হবে। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ নিয়ম না মানলে ৯৬০ পাউন্ড জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চিঠি নিয়ে ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার মেডিকেল পরিচালকও শনিবার বলেছেন যে, ভাইরাসটি নিয়ে এখনও দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার সময় আসেনি।

সরকারের নিয়মিত করোনাভাইরাস ব্রিফিংয়ে প্রফেসর স্টিফেন পওইস বলেছেন, যুক্তরাজ্যে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার এর নিচে রাখতে “আমাদের প্রত্যেকেই” ভূমিকা পালন করেছে।

নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের চাহিদা মেটাতে লন্ডনের এক্সেল সেন্টারে যে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে সেজন্য সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন ৭৫০ জনেরও বেশি জন অ্যাম্বুলেন্স স্বেচ্ছাসেবকরা।

বার্মিংহাম এবং ম্যানচেস্টারে আরও দুটি অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।

অসহায় মানুষদের জন্য বাড়িতে খাবার পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে তাদেরকে পরবর্তী তিন মাস বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ইংল্যান্ডের হাসপাতালের কর্মীদের করোনাভাইরাস রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী