আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে রাসূলের (সা.) হাদিস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১০ ১৪২৭,   ০৭ সফর ১৪৪২

আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে রাসূলের (সা.) হাদিস

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৯ ২৯ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১২:৩২ ২৯ জুলাই ২০২০

আল্লার তায়ালা সব মুসলিম উম্মাহকে আরাফার দিবসের রোজা রাখার এবং এর পরিপূর্ণ ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আল্লার তায়ালা সব মুসলিম উম্মাহকে আরাফার দিবসের রোজা রাখার এবং এর পরিপূর্ণ ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

জিলহজের ৯ তারিখ যাকে ইয়াওমে আরাফা বলা হয়- এই দিনটি বছরের শ্রেষ্ঠ দিবস।

বছরের শ্রেষ্ঠ রাত যেমন লাইলাতুল কদর, তেমনি শ্রেষ্ঠ দিবস হচ্ছে আরাফা দিবস। এই দিনে নফল রোজা রাখা অত্যধিক ফজিলতপূর্ণ। হজরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, আরাফার দিনের একটি রোজার বদৌলতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আগের-পরের দুই বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।

আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে রাসূলের (সা.) হাদিস:

অনুগ্রহপূর্বক হাদিসটির প্রতি খেয়াল করুন-

وَعَنْ أَبي قَتَادَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ صَومِ يَوْمِ عَرَفَةَ، قَالَ: «يُكَفِّرُ السَّنَةَ المَاضِيَةَ وَالبَاقِيَةَ» رواه مسلم

আবূ কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরাফার দিনে রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, তার পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গোনাহ মোচন করে দেয়। (মুসলিম ১১৬২, রিয়াদুস সলেহিন,হাদিস নম্বর: ১২৫৮, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)। 

অপর বর্ণনায় এসেছে, 

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَه

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘ইয়াওমে আরাফার (নয় জিলহজ) রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২; জামে তিরমিযী, হাদিস: ৭৪৯; সুনানে আবু দাউদ,হাদিস: ২৪২৫)। 

তাহলে বুঝতেই পারছেন, মাত্র একদিন সিয়াম পালন করে কী অসীম মর্যাদা লাভ করতে পারেন। এরকম কাছাকাছি মর্যাদার কথা আছে আশুরার রোজা সম্পর্কে। আশুরার রোজা দ্বারা এক বছরের গুনা মাফ করে দেয়া হয়। 

কিন্তু একটি মুশকিল হলো, বিভিন্ন আলেম দিনটি নির্ধারণ নিয়ে মতপার্থক্য করছেন। কোন ৯ তারিখ রোজা রাখব? সৌদি আরবের ৯ তারিখে হাজিরা আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকেন। আর হাদিসে বলা হয়েছে ইয়াওমে আরাফা (আরাফার দিন)। তাই তারা বলেন, যেদিন আরাফার ময়দানে হাজিরা থাকেন, সেই দিন সিয়াম পালন করতে হবে। 

অপরদিকে অন্যরা বলছেন, আরাফার দিন হলো ৯ জিলহজ। তাই প্রত্যেকে তাদের নিজনিজ এলাকার ৯ জিলহজ অনুসারে সিয়াম পালন করবেন । কারণ, আমরা তো সৌদি আরবের দিনের সঙ্গে রোজা বা ঈদ করি না, তবে এটি করব কেন? তাদের এই যুক্তিও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তাই অনেক বিজ্ঞজন বলে থাকেন, এত গুরুত্বপূর্ণ দিনটির ফজিলত যেন বাদ না যায়, সেজন্য ২ দিন সিয়াম পালন করব। হাজিরা যেদিন আরাফার ময়দানে উপস্থিত হন সেদিন এবং নিজ দেশে যেদিন ৯ জিলহজ হয় সেদিন । আমার কাছে মনে হয়, এটি একটি নিরাপদ সিদ্ধান্ত। এমনিই তো এই ৯ দিন সিয়াম পালনের গুরুত্ব খুব বেশি। আর অনেকেই ধারাবাহিকভাবেই রোজা রাখছেনও। আমি বেশ কয়েকজনকে পেয়েছি তারা পুরো ৯ দিনই বা বেশিরভাগ দিন রোজা রাখছেন ।  সুতরাং এরমধ্যেই পড়ে ৮ ও ৯ যিলহজ্জ । বিশেষ করে এই ২ দিন (অর্থাৎ এবার (২০২০) বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকলেই রোজা রাখতে চেষ্টা করব। 
 আর যারা জিলহজ মাসের প্রথম ০৯ দিনই সিয়াম পালন করছেন তাদের কথা আলাদা।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লার তায়ালা সব মুসলিম উম্মাহকে আরাফার দিবসের রোজা রাখার এবং এর পরিপূর্ণ ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে