আম্ফানে বিধ্বস্ত খুলনার উপকূল, আট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আম্ফানে বিধ্বস্ত খুলনার উপকূল, আট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০৮ ২১ মে ২০২০   আপডেট: ১১:২৬ ২১ মে ২০২০

আম্ফানের তাণ্ডবে খুলনায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

আম্ফানের তাণ্ডবে খুলনায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

উপকূলীয় জেলা খুলনায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। বুধবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে এ জেলায় সর্বোচ্চ ১১২ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হেনেছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে রাত ১২টার দিকে খুলনাকে অতিক্রম করে আম্ফান।

বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছে খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়া কর্মকর্তা আমীরুল আজাদ।

রাত ১০টা দিকে খুলনায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল সব থেকে বেশি। ঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি। ভেঙেছে গাছ, নদীর বাঁধ। প্রবল বেগের এই ঝড়ে খুলনার উপকূলীয় এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ভেঙে পড়েছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

আম্ফানের প্রভাবে খুলনায় বুধবার দিনভর বৃষ্টি হয়। দুপুরে ঝড়ো হাওয়া উঠতে থাকে। বিকেল ৪টায় প্রথম আঘাতের পর জোরালো দমকা হাওয়া বইছিল এবং নদ-নদীর পানি আছড়ে পড়ছিল বেড়িবাঁধের ওপর।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৫৩ মিলি মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে খুলনায়। ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বেড়ে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ও ফসলি জমি। এছাড়া হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পুরো উপকূলীয় অঞ্চল। সড়কে বড় বড় গাছ পড়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।

খুলনার কয়রা উপজেলার ১১টি জায়গায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশি, দক্ষিণ বেদকাশি, মহারাজপুর ইউপি প্লাবিত হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে গাছপালা, কাঁচা ঘর-বাড়ি, রাস্তা ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়রায় ৮টি পয়েন্ট দিয়ে বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ৮টি পয়েন্ট হলো, দক্ষিণ বেদকাশি ইউপির আংটিহারা এলাকার নিরাঞ্জন ও মাজিদ গাজীর বাড়ির সামনে, দক্ষিণ বেদকাশি ইউপির ছোট আংটিহারা এলাকার বাকের গাজীর বাড়ি এলাকা, দক্ষিণ বেদকাশি ইউপির গোলখালী গ্রামের তসলিম মোল্লার বাড়ির সামনে, দক্ষিণ বেদকাশীর চরামুখা খেয়াঘাট এলাকা, উত্তর বেদকাশি ইউপির গাজীপাড়া ও কাশির হাটখোলা, কয়রা সদর ইউপির হরিণখোলা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

আম্ফানের তাণ্ডবে খুলনায় ভেঙে পড়েছে গাছ (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)কয়রা ইউএনও শিমুল কুমার সাহা জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে নদ-নদীতে পানির চাপ বেড়ে যায়। কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর গোলখালী, আংটিহাড়া, হরিণখোলায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, খুলনায় রাতে ২ লাখ ৭ হাজার মানুষ ৮১৪টি সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নেন। ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। অনেক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম