আম্ফানে তলিয়ে গেল কৃষকের স্বপ্ন

ঢাকা, শনিবার   ৩০ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭,   ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আম্ফানে তলিয়ে গেল কৃষকের স্বপ্ন

রনি আকন্দ, কালাই (জয়পুরহাট) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০২ ২২ মে ২০২০   আপডেট: ২০:৪৫ ২২ মে ২০২০

জয়পুরহাটের কালাইয়ে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ক্ষেত

জয়পুরহাটের কালাইয়ে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ক্ষেত

করোনার প্রাদুর্ভাবে বোরো ধান কাটতে শ্রমিক সংকট চলছিল। অতিকষ্টে কিছু ধান কাটতে পারলেও বেশির ভাগ ধান রয়ে গেছে জমিতে। জমির বাকি ধান টুকুই ছিল স্বপ্ন। কৃষকের সেই স্বপ্ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 

গত বুধবার রাতের সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবে জয়পুরহাটের কালাইয়ের অধিকাংশ বোরো ধান এখন পানির নিচে। 

যদিও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, এ অবস্থায় ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। আর কৃষকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আবহাওয়া ভালো হলেই জমি থেকে পানি নেমে যাবে। তখন ওই জমির ধানগুলো আগের মতোই ভালো হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা ও কাঁচা ধানের গাছগুলো ক্ষেতে হেলে পড়ে মাটির সঙ্গে লেগে পানির নিচে ডুবে আছে। ডুবে যাওয়া ধানগুলো নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য কৃষকেরা মাঠে নেমে তাদের ধানের চারাগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। উপজেলার হাজার হাজার কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার মাত্রাই গ্রামের রঞ্জু তালুকদার জানান, এবার তিনি ১৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। উপজেলা কৃষি অফিস পরামর্শে ধানের গাছগুলোও দেখার মতো হয়েছিল। ধানগাছে যে শীষ এসেছিল তাতে ফলনও খুব ভালো হবে এটা আশা করেছিলেন তিনি। তার ধানও কাটার উপযোগী হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সাইক্লোন আম্ফানের কারণে টানা বৃষ্টি ও বাতাসে তার সব ধানগাছ মাটিতে পড়ে গেছে। এতে করে কিছু ধান মাটিতে পড়ে থেকে নষ্ট হবে এবং কিছু ধান কাটার সময় ঝরে পড়বে। এর ফলে তার ফলন অনেক কমে যাবে।

একই উপজেলার দেওগ্রামের অবু হোসেন জানান, ৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে তার ১ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। মাঠে এবার যে ধান হয়েছিল তাতে বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৪ মণ ধান হবে। হিসাব অনুযায়ী কৃষক এই ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলবেন। সেখানে ধানগাছ মাটিতে হেলে পড়ায় তার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এতে তার উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সদর উপজেলার সুড়াইল গ্রামের বর্গাচাষি যোবাইল ইসলাম জানান, ধান চাষ করেই সংসার চলে তার। আর এই ধান নিয়ে ছিলো তার অনেক স্বপ্ন। সাইক্লোন আম্ফানের কারণে তার ৮ বিঘা জমির প্রায় ধানক্ষেতে পড়ে গেছে। জমির ধানগাছ মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কৃষি শ্রমিকেরা কাটা ও মাড়াই করতে চাচ্ছেন না। অধিক টাকা দাবি করছেন তারা। একদিকে অধিক টাকার বিনিময়ে কৃষিশ্রমিক নিয়োগ আর অপর দিকে ধান নষ্ট হওয়ায় এবার বোরো-ধান চাষে তার লোকসান হবে।

কালাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো.আসাদুজ্জামান বলেন, কালাই উপজেলায় এবার চলতি বোরো মৌসুমে ১২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো-ধান চাষাবাদ হয়েছে। এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছে। এরইমধ্য কৃষকেরা প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির ধান কেটে ফেলেছেন। 

কিন্তু বুধবার রাতে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের কারণে কিছু কিছু স্থানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির পাকা ও কাঁচা ধানের গাছগুলো হেলে পড়েছে। তবে ধানের তেমন ক্ষতি হবেনা। আর কৃষকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। 

আবহাওয়া ভালো হলেই জমি থেকে পানি নেমে যাবে। তখন ওই জমির ধানগুলো আগের মতোই ভালো হবে। তাছাড়া উপজেলার সব কৃষদের সু-পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। তাই আশা করছি এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/জেডএম