আম্ফানের তাণ্ডব শান্ত হতেই মহাজাগতিক ঘটনা দেখা গেল বাংলার আকাশে

ঢাকা, সোমবার   ০১ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আম্ফানের তাণ্ডব শান্ত হতেই মহাজাগতিক ঘটনা দেখা গেল বাংলার আকাশে

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৫ ২৩ মে ২০২০   আপডেট: ১৩:১৬ ২৩ মে ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

লকডাউনের কারণে প্রকৃতি শুদ্ধ হওয়ায় ফিরেছে বহু লুকিয়ে পড়া পশু-পাখি, দূরের এভারেস্ট কিংবা কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু এবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ঝড় থামার পর এক মহাজাগতিক ঘটনা দেখা গেছে। অরোরা অস্ট্রালিস কিংবা অরোরা বরিয়োলিস দেখা গেলো বাংলার আকাশে। সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চল ছাড়া এই মেরুজ্যোতি অন্যান্য ভৌগোলিক স্থান থেকে দেখা খুবই বিরল ঘটনা। আম্ফানের ফলেই তা দেখা গেছে।

জানা গেছে, সেই মহাজাগতিক ছবিটি ধরা পড়ে মেদিনীপুরের বাসিন্দা সৌমেন্দু দে’র ক্যামেরায়। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিম মেদিনীপুরে চলছিলো আম্ফানের তাণ্ডব। ঠিক সেই সময়, তার পরিবারের সদস্যদের চোখে পড়ে, দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে এক সবুজ আলোর রেখা।

প্রথমে নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে না পারলেও, কয়েক সেকেন্ড পর আবার দেখা মেলে সেই রেখার। এরপর তা সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন সৌমেন্দু। একে তিনি, প্রোটন অরোরা হিসেবেও চিহ্নিত করতে চেয়েছিলেন। তার মতে, অরোরা বা অররাস হল পৃথিবীর আকাশে সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, আকস্মিক আলো প্রদর্শন।

উত্তর গোলার্ধে অরোরা বোরিয়ালিস বা সুমেরু জ্যোতি এবং দক্ষিনে আন্টার্কটিকার আকাশে অরোরা অস্ট্রালিস বা কুমেরু জ্যোতি নামে পরিচিত। সৌর বায়ু দ্বারা চৌম্বকীয় অঞ্চলে গোলযোগের ফলে এই ধরনের আলোর সৃষ্টি হয়। সৌর বায়ু এবং চৌম্বকীয় ইলেকট্রন ও প্রোটন কনাগুলো মুলত উর্ধ-বায়ুমণ্ডলে এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে প্রবাহিত হয় বলে জানান সৌমেন্দু।

তিনি আরো জানান, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানগুলোর আয়োনাইজেশনের ফলে বিভিন্ন বর্ণের আলো নির্গত হয়। এই আলোর ছটাটি বৃষ্টিপাতের কণাগুলোর প্রদত্ত ত্বরনের উপর নির্ভর করে। কখনো কখনো বিশেষত আবহমণ্ডলে বিপর্যয়ের সময় নিম্ন অক্ষাংশে মুলত ২৫-৪০ ডিগ্রি অক্ষাংশ এর মধ্যে প্রোটন অরোরা দেখা দেয়। নিম্ন উচ্চতায় বায়ুমন্ডলে অত্যন্ত উত্তেজিত নাইট্রোজেন অণুর সঙ্গে অক্সিজেন পরমাণুর সংঘর্ষের মাধ্যমে একটি সবুজ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য দ্বারা শক্তি স্থানান্তরিত হয়।

প্রায় ১০০ কিলোমিটার নিচে পারমাণবিক অক্সিজেনের ঘনত্বের দ্রুত হ্রাস এই আকস্মিক দর্শনীয় আলোর জন্য দায়ী। এই ধরনের আলো প্রথমবার ১৯০৯ সালে, বিজ্ঞানীরা সিঙ্গাপুর থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ মহাকাশে এই ঘটনাই ঘটেছিল বলে মনে করছেন শুভেন্দু।

সূত্রঃ কলকাতা ২৪/৭

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ