আমি কোনো সিন্ডিকেটে নেই: সজল

ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৮ ১৪২৬,   ০৭ শা'বান ১৪৪১

Akash

আমি কোনো সিন্ডিকেটে নেই: সজল

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০২ ১১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:১৬ ১১ জানুয়ারি ২০২০

আব্দুন নূর সজল

আব্দুন নূর সজল

শোবিজের জনপ্রিয় মুখ আব্দুন নূর সজল। রোমান্টিক নাটকের পাশাপাশি অ্যাকশন, সামাজিক, থ্রিলার নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেছেন। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্রেও পিছিয়ে নেই তিনি। তার অভিনীত ‘হারজিৎ’ সিমেনার শুটিং এখনো শেষ হয়নি। তার আগেই শেষ করেছেন নতুন ছবি ‘জ্বীন’র কাজ। চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকরে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশ এর সঙ্গে কথা হয় আব্দুন নূর সজলের। স্বাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাজমুল আহসান

‘প্রিয় কবিতা’ নামের নাটকে কাজ করলেন। নাটকটির সম্পর্কে জানতে চাই...
সম্প্রতি রাজধানী উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে নাটকটির দৃশ্য ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। মাহতাব হোসেনের গল্পে নাটকটি নির্মাণ করেছেন সরদার রোকন। নাটকে আমার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন সালহা খানম নাদিয়া। শিগগিরই একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হবে এটি।

নাটকটির নামের সঙ্গে সাহিত্যের যোগসূত্রের আভাস মিলছে, গল্প ও চরিত্র কেমন?
নতুন একটি চরিত্র। গল্পে একটি সামাজিক বার্তা আছে। এই নাটকে আমি একজন পঙ্গু কবি। ক্র্যাচ নিয়ে হাঁটতে হয়। জন্ম থেকে যে এমনটা তা কিন্তু নয়। সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই প্রতিবাদ করতে গিয়ে মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হই। তবে শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা আমার প্রতিবাদী জীবনে কোনো বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। লিখতে থাকি একের পর এক জনপ্রিয় সব কবিতা। গল্পে নাগরিক জীবনের জটিলতা ও প্রেম দুটিই পাওয়া যাবে।

ব্যক্তি জীবনে কখনো কবিতা লেখা হয় কিনা?
আমি বাস্তবে রাইটার না, অভিনেতা। আমি কবিতা ভীষণ পছন্দ করি। লিখতে আমারো ইচ্ছে করে। কবিতা লিখতে পারি না। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি ডায়েরিতে প্রতিদিন লিখি। কাজের সুবাদে অনেক মানুষের সাজেশন, অনেক মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়। এরমধ্যে যেগুলো বেশি আনন্দের যেগুলো আমাকে আকৃষ্ট করে, আবার কষ্ট দেয় তেমন গল্পগুলোই লিখে রাখার চেষ্টা করছি। খুব একটা যে ভালো হচ্ছে লেখাটা সেটা বলবো না। সব স্মৃতি মাথায় সবসময় থেকে যায় না। তাই টুকটাক করে লিখে রাখছি। তবে প্রকাশ করতে চাই না।

মুক্তি অপেক্ষায় রয়েছে আপনার অভিনীত ‘জ্বীন’ ছবিটি সম্পর্কে জানতে চাই?
আমাদের এখানকার জন্য একেবারেই নতুন প্যাটার্নের ছবি ‘জ্বীন’। ছবির শুটিং করার কারণে প্রায় চার মাস নাটকে কাজ করিনি। পুরো মনযোগ দিয়ে কাজটি শেষ করেছি। ছবিতে ভিএফএক্স-এর অনেক কাজ রয়েছে। এ ধরনের ছবি আমাদের এখানে হয়নি। এরইমধ্যেই সিনেমার ডাবিং শেষ হয়েছে। ‘জ্বীন’-এ কাজ করে আমি সত্যিই ভীষণ এক্সাইটেড! পুরো কাজ করে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব সন্তুষ্ট। আশা করবো সিনেমাপ্রেমীরাও ছবিটিতে নতুনত্ব খুঁজে পাবে।

শুটিংয়ের কোনো স্মৃতি...
‘জ্বীন’-এ কাজ করতে গিয়ে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। একেবারে ডায়লগ মুখস্থ করে শর্ট দিতে হয়েছে, মঞ্চে কাজ করার মতো। মাঝে আমরা মানিকগঞ্জের একটি পুরাতন জমিদার বাড়িতে ছবির শুটিং করেছি। সেখানে দুইশ’ বছরের একটি পুরাতন নোংরা কুয়ায় নামতে হয়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা কুয়ায় শুটিং করার পর পুরো শরীরে ঘা হয়ে গিয়েছিল। এর আগে কোনো কাজে এতো কষ্ট করিনি। ছবটি দর্শক দেখলেই তা বুঝতে পারবেন। আশা করবো আমাকে যারা পছন্দ করেন, বাংলা সিনেমা পছন্দ করেন সবাই হলে গিয়ে ছবিটি দেখবেন।

শোনা যায় নাটকে যারা কাজ করে তারা সিন্ডিকেটের মতো। আপনিও এমন কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে আছেন কিনা?
আমি কোনো সিন্ডিকেটে নেই, এসব বুঝিও না। সিন্ডিকেট আছে কিনা সে বিষয়েও আমার সুস্পষ্ট ধারণা নেই। তবে হ্যাঁ একজন ডিরেক্টর এবং আর্টিস্টদের মধ্যে ভালো যোগাযোগ থাকতেই পারে। একজন শিল্পীর অন্য আর একজন শিল্পীকে ভালো লাগতেই পারে গল্প বা কাজের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে কাজ করতেই পারে। এতে সিন্ডিকেটের কিছু দেখছি না।

ভক্তদের আগ্রহ আপনার বিয়ে, প্রেম নিয়ে জানার
বিয়ে যখন করবো সবাই জানবে, আমি লুকোচুরি করার মানুষ না। তবে প্রেম করি না বললে ভুল বলা হবে। প্রেম মানুষের জীবনে টুকটাক থাকে। কিন্তু আমি মনে করি ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগতই রাখা ভালো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ