ঢাকা, শনিবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৩ ১৪২৫,   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০

আমি একজন গল্পকার, দর্জি না – আশীফ এন্তাজ রবি

নুহিয়াতুল ইসলাম লাবিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২০ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:০০ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আশীফ এন্তাজ রবি

আশীফ এন্তাজ রবি

আশীফ এন্তাজ রবি, একাধারে একজন লেখক ও সাংবাদিক। বর্তমানে তিনি একটি ফেলোশিপ নিয়ে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। লেখালেখির জগতে তার অনুপ্রবেশ ঘটে কলেজ জীবনে। সেসময় তার প্রথম উপন্যাস ‘জলসিঁড়ি’ প্রকাশিত হয়। তবে পাঠকদের মাঝে তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন 'কাগজের নৌকা' উপন্যাসটির মাধ্যমে। তার অন্যান্য বইগুলোর মাঝে রয়েছে 'আমার আছে ফেসবুক', 'চন্দ্রমুখী'। এবারের বইমেলায় আদর্শ প্রকাশনী থেকে তার নতুন উপন্যাস 'পালিয়ে যাবার পরে' বের হচ্ছে। নতুন এই উপন্যাস ও নানা প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি ই-মেইলে ডেইলি বাংলাদেশ-এর মুখোমুখি হয়েছেন-

কেমন আছেন?  

এটা তো অনেক কঠিন প্রশ্ন! আমি যে কেমন আছি, এটা আমি নিজেও জানি না। মাঝে মাঝে মনে হয় খুব ভালো আছি। কখনো কখনো মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী মানুষ আমি! আসলে আমি আছি এক দ্বিধার জগতে। যে জগতে ভালো-মন্দ বলে কিছু নেই।

এবারের বইমেলায় আপনার নতুন উপন্যাস 'পালিয়ে যাবার পরে' এসেছে। পালিয়ে যাবার রহস্যটা যদি বলতেন-

- এটা খুবই গৎবাধা প্রশ্ন! একটা মজার ঘটনা বলি। আমার বাবা খুব ক্রিকেট পাগল। তো একদিন তিনি ক্রিকেট খেলা দেখছেন। খেলা শেষে মহা উত্তেজিত! বাংলাদেশ জিতেছে, বাংলাদেশ জিতেছে। আসলে ওইদিন বাংলাদেশ জেতেনি। শোচনীয়ভাবে হেরেছিল। আমার বাবা ভুল করে ভুল চ্যানেলে পুরনো কোনো ক্রিকেট ম্যাচ দেখছিলেন। বয়স্ক মানুষ তো। চোখে কম দেখেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোনটা ভালো।  ভুল খেলা দেখে সত্যিকারের আনন্দ পাওয়া, নাকি সত্যিকারের খেলা দেখে কষ্ট পাওয়া! পালিয়ে যাবার পরে উপন্যাসে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। 

আপনার লেখা পড়ে অনেকেই বলেছেন আপনার লেখায় হুমায়ূন আহমেদের আভাস পাওয়া যায়। আপনি কি তবে লেখার ক্ষেত্রে সত্যিই স্যারকে (হুমায়ূন আহমেদ) অনুকরণ করেন?

– আমাদের দেশে কোনো লেখক জনপ্রিয় হলেই বলা হয়, আপনি তো হুমায়ূন আহমেদের মতো। যেমন ফুটবলে কেউ ভালো খেললেই আমরা বলি, উনি তো পুরোই ম্যারাডোনা। হুমায়ূন আহমেদ একজন জাদুকর ছিলেন। তাকে অনুকরণ করার প্রতিভা আমার অন্তত নেই।

পাঠকরা আপনার লেখার যথেষ্ট ভক্ত হলেও উপন্যাসের আকৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। নতুন উপন্যাসটি কি পাঠকদের সন্তুষ্ট করতে পারবে?

- আমি একজন গল্পকার, দর্জি না। আমার একটা গল্প বলার জন্য যতটুকু পরিসর দরকার, ততটুকুই নিই। বইয়ের সাইজ নিয়ে মোটেও চিন্তিত না। ভবিষ্যতে আমার আধা পৃষ্ঠার বইও আসতে পারে। অবাক হবার কিছু নাই!

একজন পাঠক হিসেবে 'পালিয়ে যাবার পরে' উপন্যাসটিকে দশে কত নম্বর দিবেন?

- দশে দশ।

মাঝখানে বেশ কিছু বছর লেখালেখি থেকে দূরে ছিলেন। লেখালেখি নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

- এটি আরেকটা গৎবাধা প্রশ্ন! লেখালেখি নিয়ে কেন পরিকল্পনা থাকতে হবে। পরিকল্পনা ছাড়া কি একটা মানুষ বাঁচতে পারে না? লেখালেখি নিয়ে আমার একমাত্র পরিকল্পনা হচ্ছে- লেখালেখি নিয়ে আর কোনো ইন্টারভিউ না দেয়া!

'বনলতা সেনের খোঁজে' নাটকটির পর আর কোনো নাটক নির্মাণে দেখা যায় নি। ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে? 

- আমি একটা সিনেমা বানাবো।

আপনার পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন-

- আমি মনে করি মানুষের জীবনের অন্যতম প্রধান দুটি কাজের একটি হচ্ছে- গল্প বলা। আরেকটি, গল্প শোনা। একটা ছাড়া আরেকটা হয় না। লোকে গল্প শোনে বলেই আমি গল্প বলি। এই বলা ও শোনা দিয়েই গল্পের যাত্রা সম্পূর্ণ হয়। কাজেই আমার পাঠক- সে তো আমার আত্নার অংশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে