আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা, সার্বজনীনতার সংস্কৃতি

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রা, সার্বজনীনতার সংস্কৃতি

 প্রকাশিত: ১৭:০২ ১৬ এপ্রিল ২০১৯  

১৯৮৩ সালের ২১ অক্টোবর চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শতরূপা দত্ত। বাবা কবি স্বপন দত্ত চট্টগ্রামের নামকরা একটি দৈনিক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক। মা শিক্ষিকা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন শতরূপা দত্ত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায়। দেশে ফিরে যোগ দেন বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনে। বর্তমানে সময় টেলিভিশনে অনলাইন জার্নালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ষোড়শ শতকে মোঘল সম্রাট আকবরের সময় বর্তমান বাংলা বর্ষপঞ্জী তৈরি হয়। মূলত হিজরি বর্ষ অনুযায়ী ফসল রোপন এবং কর আদায় বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিলো। সেটাকে সহজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিলো বাংলা বর্ষপঞ্জী। যদিও গবেষকদের মধ্যে এখনো বঙ্গাব্দের প্রচলন কে করেছিলেন তা নিয়ে মত পার্থক্য রয়েছে। 

নববর্ষ উদযাপনের সংস্কৃতি বাংলায় বেশ প্রাচীন। হালখাতা, মেলা, পিঠা-পুলি বানানো- ইত্যাদি উৎসবের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হচ্ছে বহু বছর ধরে। ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশে বাংলা বছরের গণনা সংস্কার করা হয়। এরপর থেকে ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে আসছে।

নববর্ষ উদযাপনের নানা উৎসবের মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন মোটামুটি নতুন সংযোজন বলা চলে। উইকিপিডিয়াতে দেয়া সংজ্ঞানুযায়ী, মঙ্গল শোভাযাত্রা বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজিত একটি তুলনামূলক নতুন বর্ষবরণ উৎসব। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ঢাকা শহরে এটি প্রবর্তিত হয়। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হিসেবে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে ঢাকার শাহবাগ-রমনা এলাকায় এই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার, বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম বহন করা হয়, পাশাপাশি থাকে বাংলা সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরণ, বাঘ, পেঁচা, হাতিসহ বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি, গ্রামীণ সংস্কৃতির চিত্র, বিভিন্ন রঙের মুখোশ। বাংলার লোকসংস্কৃতির মধ্য থেকে ধর্মনিরপেক্ষ উপাদানগুলো বেছে নেয়া হয় প্রতিকৃতি তৈরির ক্ষেত্রে। শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল, এই শোভাযাত্রাটিতে বাঙালির ঐতিহ্য থেকে উপাদান নেয়া হবে এবং দেশের কল্যাণের জন্য একটি আহ্বান থাকবে। সোনারগাঁওয়ের লোকজ খেলনা পুতুল, ময়মনসিংহের ট্যাপা পুতুল, নকশি পাখা, যাত্রার ঘোড়া- এসব প্রতিকৃতির মাধ্যমে আবহমান বাংলার ছবি তুলে আনা হয়। 

বাঁশ এবং কাগজের তৈরি এসব মুখোশ বা অন্যান্য মোটিফের একটা বৈশিষ্ট্য আছে, এগুলো তৈরি হয় কোনো একটা প্রতিপাদ্যের উপর ভিত্তি করে। যেমন, এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। তাই এবারের শোভাযাত্রায় পাখির প্রতিকৃতি বেশি থাকবে। তবে, নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে করা এ শোভাযাত্রায় সবসময়ই পেঁচার উপস্থিতি দেখা যায়। এই পেঁচা কৃষকের বন্ধু। তারা ইঁদুর খেয়ে কৃষকের ফসল রক্ষায় সাহায্য করে। 
১৯৮০-র দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন যখন দেশজুড়ে, সেইসময় চারুকলা অনুষদের কিছু শিক্ষার্থী একজোট হয়ে পরিকল্পনা করে একই সঙ্গে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং প্রতিবাদ জানাবে এমন এক আয়োজন করবেন তারা। এই ভাবনা থেকেই ১৯৮৯ সালে তারা আয়োজন করেন শোভাযাত্রার। স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্য এবং একই সঙ্গে শান্তির বিজয় ও অপশক্তির অবসান কামনায়, অমঙ্গলের বিরুদ্ধে মঙ্গলের প্রত্যাশায়। এদের পাশে এসে দাঁড়ান সংগীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হক, ভাষা সৈনিক ইমদাদ হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, নাট্যকার মামুনুর রশীদসহ অনেকে।

এরপর প্রতিবছরই বেড়েছে শোভাযাত্রার কলেবর। ১৯৮৯ সালে প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, ঘোড়া, হাতি। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের আনন্দ শোভাযাত্রায়ও নানা ধরনের শিল্পকর্মের প্রতিকৃতি স্থান পায়। ১৯৯১ সালে চারুকলার শোভাযাত্রা জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পায়। চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিল্পীদের উদ্যোগে হওয়া সেই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট লেখক, শিল্পীরাসহ সাধারণ নাগরিকরাও অংশ নিতে শুরু করেন। শোভাযাত্রায় স্থান পায় বিশালকায় হাতি, বাঘের প্রতিকৃতির কারুকর্ম। অসংখ্য মুখোশখচিত প্ল্যাকার্ডসহ মিছিলটি ঢাকের তালে, নাচে গানে উৎফুল্ল পরিবেশ সৃষ্টি করে। ১৯৯২ সালে আনন্দ শোভাযাত্রার রং বেরংয়ের পোশাক পরিহিত ছাত্র-ছাত্রীদের কাঁধে ছিল বিরাট আকারের কুমির। বাঁশ এবং নানা রঙের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো কুমিরটি। ১৯৯৩ সালে ‘১৪০০ সাল উদযাপন কমিটি’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রার আকর্ষণ ছিল বাঘ, হাতি, ময়ূর, ঘোড়া আর বিভিন্ন ধরনের মুখোশ। তবে, ঢাকায় ১৯৮৯ সালে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হলেও এর ইতিহাস আরো পুরোনো। সেই ইতিহাসের খোঁজ পেতে হলে আমাদের নজর দিতে হবে রাজধানী ঢাকার বাইরে।

১৯৮৬ সালে চারুপীঠ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। ভাস্কর মাহবুব জামাল শামীম ছিলেন চারুপীঠের ব্যানারে যশোরে পালিত দেশের প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা। তার বয়ান থেকে জানা যায়, ২১ ফেব্রæয়ারি ছিলো তাদের প্রেরণার উৎস। ১৯৮৫ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি বর্ণিল একটি শোভাযাত্রা বের করেছিলেন তারা, তাতে মানুষের অভ‚তপূর্ব সাড়া পান। ওইদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পহেলা বৈশাখে এমন একটা কিছু করবেন, যেখানে দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ থাকবে।

একটি অনলাইন পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মাহবুব জামাল শামীম বলেছেন, ‘১৯৮৬ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন নিয়ে কাজ শুরু করলাম। মুখোশকে আমরা শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ করতে চেয়েছিলাম। হীরন্ময় খুব সুন্দর মুকুট আঁকত, সে শিশুদের নিয়ে বসে গেল সেটা বানাতে। ছোট শামীম পাখি, প্রজাপতি আর পরী বানাল। আর আমি ম্যানুফ্যাকচার নিয়ে ব্যস্ত। আমি চেয়েছিলাম শিল্প, নাট্য সবকিছুকেই এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করাতে। ৩০০ ছেলেমেয়ে নিয়ে টানা এক মাস নাচের রিহার্সেল করালাম। লোকজ ঢাক-সানাই দল, সাজসজ্জাসহ সবাই একসুরে বাঁধা ছিল। সকাল ৬টায় সানাই বেজে উঠল, ঢাকে বাড়ি পড়ল। কিন্তু আমরা মুসলমানরা এটাতে অভ্যস্ত ছিলাম না। অথচ কি আশ্চর্যভাবেই না কুয়াশাভেজা সকালে সানাই, ঢোলের শব্দে সবার ওপর যেন একই স্বর্গ থেকে সব সুখ ঝরে পড়তে লাগল। শোভাযাত্রা নিয়ে অনেক দূর ঘোরা হলো। কিন্তু তারপরও কেউ থামতে চাইছিল না।’

এর পরের বছর যশোরের অন্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও যোগ দেয় চারুপীঠের এই আয়োজনের সঙ্গে, গঠিত হয় বর্ষবরণ পরিষদ। সাড়ে তিন হাজার মুখোশ, বড় হাতিসহ অন্য সব কিছু তৈরি করা হয়। সবাই মিলে আরো বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। হাতি, পাপেট, ঘোড়া, কুমির, মুখোশ, যশোরের লোকজ শোলার পুতুলসহ আরো নানা কিছু নিয়ে দ্বিতীয়বারের শোভাযাত্রা আরো পূর্ণতা পেয়েছিল বলে জানান মাহবুব জামাল শামীম।

পরবর্তীতে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ১৯৮৯ সালে ঢাকার চারুকলা থেকে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। চারুকলা অনুষদের ছাত্র হওয়ার সুবাদে যশোরের শোভাযাত্রার উদ্যোক্তারাও যুক্ত ছিলেন সেই আয়োজনের সঙ্গে।

শুরুতে অবশ্য চারুকলা অনুষদের এই শোভাযাত্রার নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিলো না। শুরুতে এর নাম ছিলো বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। তৎকালীন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকেও এই নামই পাওয়া যায়। সংবাদপত্র থেকে মোটামুটি ধারণা করা যায় যে, ১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার আনন্দ শোভাযাত্রা, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত হতে শুরু করে।

যশোরের আগে, ১৯৮৪ সালে, বাংলা ১৩৯০ সনের চৈত্র মাসের শেষ দিনে, চট্টগ্রামবাসী এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলো। স্বৈরশাসনের অবরুদ্ধ সময়ের সেই দিনের বিকেলবেলা নন্দনকানন এলাকা ভরে উঠেছিলো শতশত মানুষের কোলাহলে। ঢাক-ঢোল-বাঁশির সুরে, বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে, রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয় ডিসি পাহাড়ের সামনে থেকে। বৌদ্ধমন্দির সড়ক হয়ে শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার, কে সি দে সড়ক, লালদীঘি, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড হয়ে আবার ডিসি পাহাড়ে ফিরে আসে। সম্মিলিত পয়লা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সেই প্রথম শোভাযাত্রার শুরু হলো। 

স্বৈরশাসন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধতা করছিলো। ওই সময়ে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণের খুব প্রয়োজন বোধ করতে থাকেন চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীরা। তাই ১৯৭৮ সাল, বাংলা ১৩৮৪ সন থেকে চট্টগ্রামে ঘটা করে নববর্ষ পালন করা হতে থাকে। এই আয়োজনে সাধারণ মানুষের অভ‚তপূর্ব সাড়া মিলেছিলো। পহেলা বৈশাখের আয়োজনে নতুন পালক হিসেবে ১৯৮৪ সালে, বাংলা ১৩৯০ সনের চৈত্র মাসের শেষ দিনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সংযুক্ত হয়। সেদিন স্বৈরশাসকের সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিরুদ্ধে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ হয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলো এই শোভাযাত্রা।

চট্টগ্রামে পয়লা বৈশাখের দিনই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন শুরু হয় ২০০৬ সালে, বাংলা ১৪১৩ সনের নবর্বষে। এর উদ্যোক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন চট্টগ্রাম চারুশিল্পী সম্মিলন। এ শোভাযাত্রাতেও বড় বড় মুখোশ, কাগজ আর বাঁশ দিয়ে বানানো বিভিন্ন ভাস্কর্য হলো মূল আকর্ষণ। রঙের বাহারে আর উৎসবের মেজাজে অশুভ সবকিছুকে ঝেড়ে ফেলে নতুন বছরে সৌন্দর্যকে বরণ করার প্রত্যয়ে বছরের পর বছর ধরে এখানেও মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজিত হয়ে আসছে।

ঢাকার চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট বাজেট নেই। এমনকি এই আয়োজনের জন্য তারা সরকারের কাছ থেকেও কোনো অনুদান নেন না। এই আয়োজনের জন্য কখনও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী কারও মুখাপেক্ষীও হননি। তাদের নিজেদের পরিশ্রমেই জোগান হয় এই শোভাযাত্রার সকল খরচ। মুখোশের পাশাপাশি এসময় চারুকলায় নানা আল্পনা আঁকা পাত্র, পটের কাজসহ নানা কিছু তৈরি করা হয়। এসব বিক্রি করে পাওয়া অর্থ শোভাযাত্রার খরচ হিসেবে ব্যয় করা হয়। তাছাড়া এই আয়োজনের জন্য চাঁদাও দেন তারা।

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বরে বাংলাদেশের  ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কোর মানবতার অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভ‚ক্ত হয়। ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অসা¤প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে তুলে ধরা মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাসে ইউনেস্কো বলেছে, ১৯৮৯ সালে সামরিক স্বৈরশাসনের হতাশার দিনগুলোতে তরুণরা এটি শুরু করেছিল। শিক্ষার্থীরা অমঙ্গলকে দূর করার জন্য বাঙালির নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক, প্রাণীর প্রতিকৃতি ও মুখোশ নিয়ে শোভাযাত্রা বের করে।

মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে কোনো ধর্মীয় বিষয়ের সম্পর্ক নেই এবং যেকোন ধর্মের উৎসবের বাইরে বাঙালির সার্বজনীন একটি উৎসব হিসেবেই সূচনা হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রার। বাংলাদেশে ধর্মীয় শোভাযাত্রা অনেক আগে থেকেই হচ্ছে, মহররমের শোভাযাত্রা, জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা ধর্মীয় শোভাযাত্রা। এগুলোর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার বৈশিষ্ট্য আলাদা। ওগুলো ধর্মভিত্তিক শোভাযাত্রা, প্রতিটি ধর্মের আলাদা বৈশিষ্ট্য সেখানে বিদ্যমান। আর মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙালি সংস্কৃতির শোভাযাত্রা, ধর্ম নয়- এই শোভাযাত্রায় সার্বজনীনতাই মুখ্য।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর