Alexa আমাকে আকুল করেছিল আজানের সুর : নার্গিস ফাতেমা

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩ ১৪২৬,   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

নওমুসলিম নারীর সাক্ষাৎকার

আমাকে আকুল করেছিল আজানের সুর : নার্গিস ফাতেমা

পর্ব-১

নুসরাত জাহান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৪ ৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩০ ১১ নভেম্বর ২০১৯

ফাইর ফটো

ফাইর ফটো

সানা হুজাইফা : আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

নার্গিস ফাতেমা : ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

আরো পড়ুন>>> নওমুসলিম নারীর সাক্ষাৎকার আমাকে আকুল করেছিল আজানের সুর : নার্গিস ফাতেমা পর্ব-২

সানা হুজাইফা : আমার নাম সানা। মামা আমাকে আদেশ করেছেন আপনার ইন্টারভিউ নিতে। তো, বোন প্রথমেই আপনার নাম এবং পরিচয় জানতে চাইব। 

নার্গিস ফাতেমা : জ্বী, আমার নাম ছিল ববিতা জাহাঙ্গীর। ইসলাম কবুল করার পর আমার নাম গ্রহণ করেছি নার্গিস ফাতেমা। 

সানা হুজাইফা :  কতোদিন হলো ইসলাম কবুল করেছেন?

নার্গিস ফাতেমা : প্রায় নয় বছর। ইসলাম কবুল করার পর তিন বছরের মতো গ্রামে ছিলাম। তারপর দিল্লি এসেছি প্রায় ছয় বছর হলো। সুতরাং ইসলাম কবুল করার পর প্রায় নয় বছর পার করেছি। আলহামদুলিল্লাহ!

সানা হুজাইফা :  আপনার জন্মস্থান কোথায়? এবং আপনার পরিবারে কে কে আছেন, জানতে পারি?

নার্গিস ফাতেমা : হ্যাঁ, আমি রাজস্থানের মেয়ে। আমাদের জেলার নাম ঝানঝনু। ঝানঝনুর ছোট্ট একটি গ্রামে আমার জন্ম। আমাদের পরিবারে এখন আমার ভাই এবং ভাবি আছেন। আড়াই তিন বছর হলো আমার বাবা এবং মা মারা গেছেন। তারা উভয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাদেরকে কালেমা পড়াবার অনেক চেষ্টা করেছি। দৃশ্যতো কালেমা পড়েননি। তবে তারা আমার যেকোনো আবদারই মেনে নিতেন। আমার বাবা দু’তিন বার আমার মুখে কালেমা শুনেছেন। কিন্তু তার মধ্যে আমি কোনো বিরক্ত দেখিনি। তিনি আমার আবদার কবুল করেছেন, না প্রত্যাখ্যান করেছেন কোনোটাই প্রকাশ করেননি। কথা কী একটা সময় আমি চরম অস্থির হয়ে উঠেছিলাম। ওই সময়ে তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমার যতটুকু ধারণা, তারা মনে মনে ইসলাম কবুল করে নিয়েছিল। 

আমার মায়ের অবস্থাও ছিল তাই। আমি যখনই মাকে কালেমা পড়ার কথা বলতাম তিনি বলতেন, তোমার বাবা এবং তোমার ভাইকে বলো। তারা যদি কবুল করেন আমিও কবুল করে নিব। তারা যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলাম কবুল করছেন না আমি করতে পারি না। আমি তাদেরকে বুঝাবার জন্যে যারপরনাই চেষ্টা করেছি। আমার মা বরাবর মন দিয়ে আমার কথা শুনতেন এবং বুঝতেন। কিন্তু তার মুখে ছিল এক কথা। তোমার বাবা যা বলেন আমি তাই করবো। সুতরাং তুমি তোমার বাবা এবং তোমার ভাইকে বুঝাও। আমি তাদের পেছনে আছি। আমি বিশ্বাস করি আমার মা মনে মনে কালেমা পড়ে নিয়েছিলেন। তার অন্তরে ইসলাম নিবাসিত হয়েছিল। আমি প্রার্থনা করি আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশত নসিব করুন। 

সানা হুজাইফা : পেরেশানির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ইসলামের মতো মহান সম্পদ দান করেছেন। আমি জানতে চাই ইসলাম কবুল করার পর আপনাকে কী ধরণের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। 

নার্গিস ফাতেমা : সর্বপ্রথম আমি আল্লাহ তায়ালার অনেক অনেক শুকরিয়া আদায় করবো। তিনি আমার মতো এক দাসীকে ইসলামের মতো মহান দৌলতে ভূষিত করেছেন। দয়া করে তিনি আমাকে তার দাসীদের কাতারে ঠাঁই দিয়েছেন। এটা সত্য ইসলাম পেতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এ পথে আমাকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তারপরও আমি কৃতজ্ঞ মহান আল্লাহ আমাকে ইসলাম দান করেছেন। আমি মহান এ নেয়ামতের খাতিরে আমি আমার বাবার ঘর থেকে অনেক কষ্টে বেরিয়ে এসেছিলাম। 

সানা হুজাইফা : আচ্ছা, ইসলামের কোন বিষয়টি আপনাকে সর্বপ্রথম আকর্ষণ করেছিল? এমন কোনো বিষয় কী আছে যা আপনাকে আপনার পিতৃধর্ম পরিত্যাগে বাধ্য করেছিল?

নার্গিস ফাতেমা : হ্যাঁ, আছে। যখনই আজানের ধ্বনি আমার কান স্পর্শ করতো আমি বরাবর মুগ্ধ হতাম। আজানের শব্দ তার ছন্দ সুর আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করতো। আমি ঠিক বলতে পারবো না এমনটি কেনো হতো। আমি যখন আজানের সুরে আকুল হই তখন ছিলাম একেবারেই শিশু। আমার মা মাঝে মধ্যে বলেন এবং আমারও মনে পড়ে যখন আমাদের মহল্লার মসজিদে আজান হতো আমি বাড়ির ছাদে চলে যেতাম। তারপর মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে আজানের বাণীগুলো আওড়াতে থাকতাম। অর্থাৎ মুয়াজ্জিন যখন যে শব্দটি উচ্চারণ করতেন আমি তার সঙ্গে সঙ্গে ওই শব্দটি উচ্চারণ করতে থাকতাম। এতে করে আমার মা খুব ক্ষুব্ধ হতেন। ধমক দিয়ে বলতেন, তুমি এসব কী করছো? মানুষ শুনলে কী বলবে? ভগবান অসন্তুষ্ট হবেন। এভাবে মা আমাকে শাসাতেন।

ব্যক্তিজীবনে আমার মা ছিলেন ধার্মিক। তিনি ভগবানদের খুব মানতেন। পূজা করতেন। যাই হোক সেটা ছিল আমার শৈশবের কথা। তারপর ধীরে ধীরে বেড়ে উঠলাম। বুঝতে শুরু করলাম। তখন লক্ষ্য করলাম আমাদের গ্রামে একটি মসজিদ আছে। আছে একটি মন্দির। ওই মসজিদটি থেকে উচ্চারিত আজানের ধ্বনি ছিল খুবই প্রখর এবং শক্তিমান। আজানের ধ্বনি শক্তির সঙ্গে প্রতিটি ঘরে এসে প্রবেশ করতো। আমাদের গ্রামটি খুবই ছোট। আমি যেখানেই বসা থাকতাম আমার কানে আজানের ধ্বনি যথা সময়ে এসে ঝঙ্কৃত হত। হয়তো আমি ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছি। এর ভেতর দিয়েই আজানের ধ্বনি স্পষ্ট উচ্চারণে আমার কানে এসে প্রতিধ্বনিত হতো। আমি ঠিক বলতে পারবো না কেনো তখনো বরাবর আজানের বাণী আমার খুব ভালো লাগতো। আমি এও বলতে পারবো না, যখনই আজানের বাণী আমার কানে পড়তো আমি মাথা ঢেকে ফেলতাম। 

ব্যক্তি জীবনে আমি এমনিতেও উগ্র কিংবা উচ্ছৃঙ্খল ছিলাম না কোনো কালে। অধিকাংশ সময় আমার মাথা আবৃত থাকতো, সেলোয়ার কামিজ পড়তাম। উড়না ব্যবহার করতাম। আমাদের হিন্দু সমাজের উগ্র খোলামেলা চলাফেরার রুচি আমার ছেলে বেলাতেও ছিল না। সামাজিক জীবনে আমরা ছিলাম অনেকটা মধ্যম শ্রেণির বাসিন্দা। হয়তো আমি বসে আছি কিংবা হাঁটছি। আমার মাথা উম্মুক্ত। যেই আজানের বাণী আমার কানে পড়তো লক্ষ্য করতাম আমার হাত মাথায় চলে যেত। উড়না টেনে মাথা ঢেকে ফেলতাম। মহল্লার মেয়েরা আমাকে ঠাট্টা করে বলতো, তুমি দেখি মুসলমানদের মিয়ানিদের মতো মাথা ঢেকে চলছো। সারাদিন তোমার মাথায় উড়না।

কিন্তু আমি কী বলবো। আমি ব্যাখ্যা করে বুঝাতে পারবো না আজানের বাণী আমার কেনো এতো ভালো লাগতো। আজানের সুরে আমি অন্তহীন স্বস্তি অনুভব করতাম। আমি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছিলাম। আর এর প্রভাবও ধীরে ধীরে যেনো গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছিল। তারপর প্রাইমারি স্কুল এবং হাইস্কুলের পাঁচিল পার করে কলেজে পা দিই। তখন আমার বয়স প্রায় কুড়ি বছর। আমার সঙ্গে তখন বেশ ক’জন মুসলমান মেয়েও পড়ছিলেন। মনে পড়ে সর্বপ্রথম আমি যখন ব্রত পালন করি তখন আমি আমার মাকে কেবল অনুসরণ করতাম। তিনি যা করতেন আমিও তাই করতাম। জীবনে প্রথম যেদিন ব্রত রত অবস্থায় কলেজে যাই তখন কলেজের মেয়েরা আমাকে নিয়ে বেশ ঠাট্টা করেছিল। আমাদের ক্লাসে যেমন অনেক হিন্দু মেয়ে ছিল তেমনই মুসলিম মেয়েও ছিল। আমি ব্রত পড়ছি শুনে তারা সবাই মিলে বেশ রসিকতা শুরু করে। কেউ কেউ বলতে থাকে ববিতাকে বসিয়ে দাও। ও কিন্তু মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাবে। হালুয়া খেয়ে এসেছে তো। বাদামের দুধ পান করে এসেছে। আপেল খেয়ে এসেছে। মুসলমান মেয়েরা তখন আমাকে বলতো তোমাদের কী যে এসব ব্রত সাধনা! সারাদিন ব্রতও করছো আবার খানা পিনাও করছো। আমাদের মতো রোজা রেখে দেখো মজা বুঝবে। আমি তখন আবেগে বলে ফেললাম ঠিক আছে আমি তোমাদের রোজা রেখেও দেখাবো। কথা মতো একদিন আমি পুরোদিন রোজা রাখি। সারাদিন কিছু খাইনি। মাগরিবের আজানের পর খেয়েছি। মা আমাকে অনেক কথাই বলেছেন। বলেছেন, খাচ্ছো না কেন? যখন সন্ধ্যায় খাচ্ছি তখন বললেন এটা খাওয়ার কী সময় হলো? আমি বললাম, আজ আমি রোববারের ব্রত করছি। 

যাই হোক; এভাবে আমার পড়াশোন চলতে থাকে। কোথাও কোনো ব্যত্যয় ছিল না। ধীরে ধীরে আজান আমাকে নামাজের কাছে নিয়ে যায়। নামাজের প্রতি আমার মন ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে উঠে। আমার সহপাঠী মুসলমান মেয়েদের সঙ্গে আমি কথা বলি। তারা আমাকে ধীরে ধীরে নানা বিষয় বলতে থাকেন। ধীরে ধীরে তারাও আমার মনে আসন পেতে বসেন। আমি যখন নামাজের বিষয়ে কথা বলি তখন পরামর্শ দেন তুমি হিন্দিতে নামাজের বই কিনে নাও। নামাজ এবং সেইসঙ্গে আরো অনেক কিছু শিখতে পারবে। আমি দোকান থেকে হিন্দি ভাষায় প্রকাশিত নামাজের বই কিনে আনি। এক দুইদিনে ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা’ থেকে ‘রব্বানা আতিনা’ পর্যন্ত সকল দোয়া মুখস্ত করে নিই। তৃতীয় কী চতুর্থ দিন কীভাবে যেন ওই বই আমার বড় ভাইয়ের হাতে পড়ে যায়। তিনি বইটি সঙ্গে সঙ্গে শহিদ করে ফেলেন। আমি ভয় পেয়ে যাই। তখনো আমি জানতাম না বইটি ধ্বংস করায় আমার বড় ভাই গোনাহগার হবেন। বরং আমার ভয় ছিল ভাই কী ভাববেন? কারণ, ওই বইয়ে আশ্চর্য রকমের নানা কথা লেখা ছিল। বইটি দেখে আমার ভাই হয়তো মনে করবেন আমার বোন এটা কী নিয়ে এসেছে? এটা কেন সে নিয়ে এসেছে? যাই হোক আমার ভাই আর সেদিকে অগ্রসর হননি। 

দুইদিনে আমি কোনো রকম নামাজ শিখে নিয়েছিলাম। তারপর আমি কোনোভাবে একজন মাওলানা সাহেবের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করি। ওই মাওলানার নাম ইসলাম উদ্দীন সাহেব। তিনি দিল্লির একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। তারপর বরাবর তার সঙ্গে আমার কথা হতো। তিনি নিয়মিত আমাকে ইসলাম সম্পর্কে নানা কথা বলতেন। যেমন এটা করতে হবে ওটা করা যাবে না। এটা ইসলামের পথ। ওটা ইসলামের পথ নয়। বরং ভুল পথ। লুকিয়ে লুকিয়ে আমি ওই মাওলানা সাহেবের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাই। তিনি আমাকে যা বলতেন আমি তার ওপর আমল করতাম। বেশ তৃপ্তি পেতাম। এভাবে বরাবর তিনি নতুন নতুন আমলে কথা বলতেন। আমি পূর্ণ উৎসাহ ও উদ্যমের সঙ্গে সেটা পালন করতাম। মনে মনে দারুণ তৃপ্তিও অনুভব করতাম। 

এভাবে তিন বছর কেটে যায়। ঘরের দরজা বন্দ করে নিজের মতো করে নামাজ আদায় করতাম। হয়তো নিয়ম মতো কিছুই হতো না। রুকু সেজদা কীভাবে করতে হয় আমি মোটেও জানতাম না। কারণ আমি বাস্তবে কাউকে কখনো নামাজ পড়তে দেখিনি। জীবনে মাত্র দুইদিন নামাজের বই পড়েছি ওই যা পুঁজি। তার আলোকেই আমি যেনতেন করে নামাজের নিয়তে উঠাবসা করতাম। ওজুটা অবশ্য করতে পারতাম। ওজু করে শুরু করতাম। তারপর ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা’ থেকে ‘রব্বানা আতিনা’ পর্যন্ত গিয়ে সালাম ফিরাতাম। আর এতেই আমি ভেতরে ভেতরে দারুণ স্বস্তি ও তৃপ্তি অনুভব করতাম। আমার মনে হতো আমার আল্লাহ আমার নামাজ কবুল করছেন। তিনি আমাকে বিপুল দান ও করুণায় ধন্য করছেন। এভাবে আমি পা পা করে তিনটি বছর পার করে দিই। আমার অন্তরে ধীরে ধীরে খুব শক্ত করে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামের বিশ্বাস। আমার কাছে তখন মা বাবার ভালোবাসা এমনকী পৃথিবীর সবকিছুর চাইতে ইসলাম প্রিয় হয়ে উঠে। মনে হতো আমি সব ছাড়তে পারি কিন্তু ইসলামকে ছাড়তে পারবো না।

আরেকটি বিষয় পর্দা। পর্দাও আমার কাছে খুব ভালো লাগতো। বলেছি স্বভাবগতভাবেও আমি খুব আধুনিকা ছিলাম না। ফলে নিজের মধ্যে পর্দাকে মানিয়ে নিতে আমাকে কোনো বেগ পেতে হয়নি। বরং পর্দার কথা যখনই ভাবতাম বেশ স্বস্তি অনুভব করতাম। মনে হতো কি চমৎকার ব্যবস্থা। বোরকা পরো যেখানে খুশি চলে যাও। বোরকার ভেতরে তুমি পূর্ণ স্বাধীন। তোমার পোশাক আশাক তোমার নিজের পছন্দ মতো। তুমি গোসল করেছ কী করনি সে একান্ত তোমার ব্যাপার। বোরকা তোমাকে সকল অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেবে। এ বিষয়গুলো আমার খুব ভালো লাগতো।
 
আরেকটি গল্প বলি, আজান এবং নামাজ আমাকে কেনো টানতো এরও একটি কাহিনী আছে। ওই যে বললাম না, আমাদের গ্রামে একটি মসজিদ আছে এবং একটি মন্দির আছে। গ্রামটিও অতো বড়ো নয়। সকালে এবং বিকেলে মসজিদে আজান হতো আবার মন্দিরেও ঘণ্টা বাজতো। আমি দু’টোই শুনতাম আর ভাবতাম কী চমৎকার! মসজিদে আজান হচ্ছে আর জীবন্ত চঞ্চল মানুষ নামাজ পড়তে ছুটে যাচ্ছে। কী গরম, কী ঠাণ্ডা, কী রোদ কী বৃষ্টি কোনো পরোয়া নেই। পরিবেশ যাই হোক যথা সময়ে তারা মসজিদে যাবেই। আর অথচ মন্দিরের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের। সেখানে ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে জীবন্ত মানুষ ছুটে যাবার কোনো দায় নেই। ওখানে গান বাজছে। কেউ হয়তো সুইচ টিপে দিলো আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা গান বাজতে থাকলো। এখানে কারোই কোনো সক্রিয় অংশগ্রহণ নেই। কখনো বা দেখা যাচ্ছে আধা ঘণ্টা আগে বাজনা শুরু হয়ে গেছে এসব নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই। অথচ আজান হবে একেবারে নির্দিষ্ট সময়ে। পরিবেশ পরিস্থিতি যাই হোক আজানের সময়ে কোনো হেরফের হবে না। 

মুসলমানগণ যথা সময়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন বিষয়টি আমাকে খুব টানতো। আমি মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞ তিনি আমাকে এইসব উপায়ে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করেছেন। আমি কোনোভাবেই ইসলামের মতো মহান নিয়ামতের উপযুক্ত ছিলাম না। তিনি দয়া করে আমাকে জাহান্নামের পথ থেকে উদ্ধার করেছেন। বেহেশতের পথে তুলে দিয়েছেন। এটা আমার প্রতি আমার মালিকের সীমাহীন অনুকম্পা। আলহামদুলিল্লাহ!
চলবে...

সূত্র: মাসিক আরমোগান উর্দু  সেপ্টেম্বর ২০১৯
সাক্ষাৎকার গ্রহণ; সানা হুজাইফা
ভাষান্তর: মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
সংগ্রহ : নুসরাত জাহান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে