Alexa আমরাই করব ‘মুক্তা পানি’র প্রচার 

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৮ সফর ১৪৪১

Akash

আমরাই করব ‘মুক্তা পানি’র প্রচার 

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৪ ১৪ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৪:১১ ১৪ এপ্রিল ২০১৯

প্রতিবন্ধীদের তৈরি ‘মুক্তা পানি’ সবাইকে কিনতে বললেন প্রধানমন্ত্রী। (ছবি সংগৃহীত)

প্রতিবন্ধীদের তৈরি ‘মুক্তা পানি’ সবাইকে কিনতে বললেন প্রধানমন্ত্রী। (ছবি সংগৃহীত)

পানির অপর নাম জীবন। আর সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে মানুষের প্রয়োজন নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি।  আমাদের ব্যস্ত জীবনে, বিশেষ করে শহুরে জীবনে আমরা বোতলজাত পানি বা জার পানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

প্রতিদিন হোটেল বা রেস্তোরাঁ, অফিস, রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে, উৎসব-অনুষ্ঠান, ভ্রমণপথে, বাসাবাড়িতে এসব উৎপাদিত (বোতলজাত ও জার পানি) খাবার পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা যারা প্রতিনিয়ত এসব বোতলজাত খাবার পানি খেয়ে যাচ্ছি, কখনো কী ভেবেছি এই পানি কতটা নিরাপদ?

এখন থেকে আপনাকে আর বিভিন্ন ব্রান্ডের বোতল জাত পানি বা তার মান নিয়ে ভাবতে হবে না। যদি আপনার হাতের কাছেই থাকে ‘মুক্তা পানি’। 

আসুন তাহলে আজ আমরা সকলে সেই ‘মুক্তা পানি’র সঙ্গে পরিচয় হয়ে নিই-

আমরা অনেকেই জানি না বাংলাদেশের একটি সরকারি ড্রিংকিং ওয়াটার ‘মুক্তা পানি’র কারখানা আছে। ‘মুক্তা পানি’ মিনারেল ওয়াটারের বোতল আমাদের প্রতিবন্ধীরাই তৈরি করছে।

‘মুক্তা পানি’র কারখানা সম্পূর্ণরূপে প্রতিবন্ধীদের দ্বারা চলে। (ছবি সংগৃহীত)

জানা যায়, এটি গাজীপুরে অবস্থিত। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। এর বিশেষত্ব হলো এ কারখানা সম্পূর্ণরূপে প্রতিবন্ধীদের দ্বারা চলে। কোনো স্বাভাবিক, সুস্থ মানুষকে এখানে কাজ দেয়া হয়নি। আর এখান থেকে যে লাভ হয় তার পুরো অংশই প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। 

সরকারি হাই লেভেলের মিটিং ও প্রোগ্রামগুলোতে এ পানি ব্যবহার করা হয়। সহজেই বুঝা যায় এটি কেমন বিশুদ্ধ হতে পারে অথচ দাম একই। কোনো বিজ্ঞাপন না থাকার কারণে এর প্রসার ঘটছে না। প্রসারের জন্য প্রতি জেলায় জেলায় ডিলারও দরকার রয়েছে। এক বোতল পানি কিনেও যদি এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর উপকার করা সম্ভব হয়। তাহলে কিনবো না কেন? 

‘মুক্তা পানি’র প্রচারে সকলে এগিয়ে আসি। (ছবি সংগৃহীত)

জানা যায়, অন্তত এ পানিতে কখনোই শ্যাওলা বা ময়লা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেউ কারখানাটি দেখলে অবাক হবে। এখানে কীভাবে পানি মাটির নিচ থেকে তোলা হয়। বিশুদ্ধ করা হয় এবং বোতলজাত করা হয়। প্রচারে প্রসার। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে আমরা সবাই সংযুক্ত হতে পারি। 

সম্প্রতি বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রতিবন্ধীদের তৈরি ‘মুক্তা পানি’ সবাইকে কিনতে বলেছেন। 

আয়োজিত অনুষ্ঠানে অটিস্টিকদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নিজেদের প্রতিভা দিয়ে এরা অনেক কিছু তৈরি করতে পারে।’ 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ‘মুক্তা পানি’ মিনারেল ওয়াটারের বোতল হাতে নিয়ে অনুষ্ঠানের সবাইকে দেখিয়ে বলেন, ‘এটিও কিন্তু আমাদের প্রতিবন্ধীরাই তৈরি করছে। এতো সুন্দর পানি এতো সুন্দর বোতল, আমি অফিসে বারবার বলার পরে আমার জন্য কিছু বোতল আনা হয়, অন্যরা ব্র্যান্ডের পানি খায়।’ সবাইকে তিনি এই পানি কেনার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

প্রতিবন্ধীদের মেধাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে তাদের একটু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। তাহলে তাদের জীবনটাও অর্থবহ হয়। তারা যতটুকু সুযোগ পায় সেটাকে কাজে লাগাতে পারে।

আমাদের এখন ভাববার সময় এসেছে, পানি যখন কিনছিই, তখন আমাদের প্রতিবন্ধী ভাই বোনদের তৈরি দেশীয় ব্র্যান্ডের মুক্তা পানিটাই না হয় কিনি।

এতে আমরা যখন তৃষ্ণা মিটাচ্ছি, একজন স্বাবলম্বী প্রতিবন্ধীর মুখে তৃপ্ত হাসি ফুটে উঠছে, দৃশ্যটি কতই না মায়াময় ও সুন্দর!

প্রচারে প্রসার। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনের মান উন্নয়নে আপনি, আমি তথা আমরা সকলে মুক্তা পানির প্রচার করি। মুক্তা ড্রিংকিং ওয়াটার এর বিজ্ঞাপন হউক আমাদের প্রতিটি গণমাধ্যমগুলোতেও।

আজ থেকে আমি বাইরের পানি এক বোতল কিনলেও মুক্তা পানি কিনবো। আপনারাও কিনুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে