.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

বহিস্কৃত রেজা ঠেকাও মিশনে এরশাদ

 প্রকাশিত: ২১:০৯ ৭ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:৩৮ ৭ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের চারটি ইউনিয়ন) আসন থেকে প্রার্থী হতে চান সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বুধবার সন্ধ্যায় তার অভিমতটি পার্টির মহাসচিব সাতক্ষীরা জেলা জাপার নেতাদের জানান। পরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তারা এরশাদের প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

এদিকে ঢাকায় বসে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করে খোদ এরশাদ। তিনি বলেন, আমি আগেই রংপুর-৩ (সদর), ঢাকা-১৭ (ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, গুনশান ও ভাষানটেক) আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। নূন্যতম তিন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ মেনে সেখানে নির্বাচন করতে চাই। তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের সঙ্গে লাঙ্গলের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণে সাতক্ষীরা-৪ থেকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লাঙ্গলের প্রার্থীরাই সব সময় জয়লাভ করেছে।

এরশাদ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জেল থেকে রংপুরের ৫টি আসনে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালেও রংপুরের ৫টি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে ৩টি আসনে প্রার্থী হন।

২০০৮ সালে নির্বাচনে জোটগতভাবে রংপুর-৩ ও ঢাকা-১৭ থেকে নির্বাচিত হন। পরে ঢাকা-১৭ আসন রেখে রংপুর আসন ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে রওশন এরশাদ বিজয়ী হন রংপুর সদর আসনে। 

২০০৮ সালে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে জয়লাভ করেন এরশাদেরই এক সময়কার ব্যক্তিগত সচিব গোলাম রেজা। সে সময় তার ওই আসনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও জনসভা করেন এরশাদ। শুধু তাই নয়, এরশাদের ব্যক্তিগত পছন্দে সংসদে পার্টির হুইপ করা হয় তাকে। পরে ব্যবসা ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে দ্বন্দ্বে জড়ান রেজা। এক পর্যায়ে পার্টি থেকে বহিস্কৃত হন এরশাদের এইচএম ধারণকারী গোলাম রেজা।

দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে নির্বাসিত এরশাদের ঘনিষ্ঠ রেজা সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি বি. চৌধুরীর বিকল্পধারায় যোগ দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিকল্পধারার একটি সূত্র জানায়- সাতক্ষীরা ৪ আসনে তাকে প্রার্থী করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তারা বলছেন, সে কারণেই এরশাদ ওই আসনে প্রার্থী হতে চান। বিকল্পধারার সূত্রটি বলছে, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই সাবেক রাষ্ট্রপতি ওই আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

এদিকে সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলনে জেলা জাপা সভাপতি শেখ আজহার হোসেন জানান, পার্টির মহাসচিব তাকে টেলিফোন করে এরশাদের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। পার্টির চেয়ারম্যান সাতক্ষীরা ৪ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার ওই বার্তা সাতক্ষীরাসহ দেশবাসীকে জানিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেন মহাসচিব। 

সংবাদ সম্মেলনে জাপা নেতারা এরশাদের ঘোষণাকে তারা সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে তার ও পার্টির মর্যাদা রক্ষায় সবাই  একযোগে কাজ করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে সামনে রেখে এরশাদ যে কোনো সময় সাতক্ষীরা সফরে যাবেন বলেও জানান তারা। চেয়ারম্যানের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এরশাদ সাতক্ষীরা থেকেই পার্টির নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। 

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাপা সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু, সহ-সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম,  সদর উপজেলা জাপা সম্পাদক আনোয়ার জাহিদ তপন, দলের যুগ্ম সম্পাদক দুররুল হুদা লালু, জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি কায়সারুজ্জামান হিমেল ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম প্রমূখ। 

১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন ওই আসনে এমপি হন। ১৯৮৮ সালেও তিনি জয়লাভ করেন। পরে ২০০৮ এ দশম সংসদ নির্বাচনে গোলাম রেজা লাঙ্গল প্রতীকে মহাজোটের এমপি হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সাত্তার মোড়ল প্রার্থী হবেন এমন প্রচারণা ছিল। এরইমধ্যে বুধবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ ওই আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন। স্থানীয় জাপা নেতারা মনে করেন বহিস্কৃত রেজা ঠেকাও মিশনে নেমেছেন এরশাদ। তবে তারা বলছেন, শেষমেষ আত্ম মর্যাদা রক্ষা পাবে তো?

এরশাদ নিজে বিভিন্ন সমাবেশে গর্বের সহিত উল্লেখ করেন, তিনি ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও কোনো নেতা জেল থেকে ৫টি আসনে বিজয়ী হতে পারেনি, এটা রেকর্ড। এরশাদ মনে করেন তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। দেশের যে কোনো আসন থেকে নির্বাচিত হতে পারবেন। যা আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এলকে