Alexa আবারো ভাঙল আইয়ুব বাচ্চুর এলআরবি

ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

আবারো ভাঙল আইয়ুব বাচ্চুর এলআরবি

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮ ২৮ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৮:২৭ ২৮ আগস্ট ২০১৯

আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবি

আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবি

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু গান আর গিটারের ছয় তারের খেলায় তিনি মাতিয়ে রাখতেন ব্যান্ড সংগীতের শ্রোতাদের। তিনি নেই তবু একটুকুও আবেদন কমেনি তার গানের। কিন্তু তার শূণ্যতায় স্থির হতে পারছে না এলআরবির বাকি সদস্যরা। লাগামছাড়া হয়ে গেছে তারা। এক বছরেরও কম সময়ে এই ব্যান্ড ভেঙেছে তিনবার।

আইয়ুব বাচ্চুর মারা যাওয়ার কিছু দিন পর থেকেই এলআরবির সদস্যদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুঁড়ি শুরু হয়। প্রথমে বালামকে ভোকাল করে নতুন লাইনআপ ঘোষণা দেয় তারা। কিন্তু এর কিছু দিন যেতে না যেতেই দ্বন্দ্ব শুরু হয় সদস্যদের মধ্যে। আলাদা হয়ে যান সদস্যরা। সাইদুল হাসান স্বপন, আর গোলামুর রহমান রোমেল একদিকে, আর অন্যদিকে চলে যান মাসুদ ও ম্যানেজার শামীম।

আলাদা হয়ে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতে এবার রোমেল ও স্বপনের মধ্যেই লেগেছে দ্বন্দ্ব। যার ফলে রোমেলকে বাদ দিয়ে নিজেই নতুন করে এলআরবির লাইনআপ ঘোষণা করেছেন স্বপন। নতুন ভোকাল হিসেবে নিয়েছেন ব্যান্ড তারকা মিজানকে। 

মিজান এর আগে ওয়ারফেজের মূল ভোকাল হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। সর্বশেষ নিজেই ‘মহাকাব্য’ নামে একটি ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মিজান ছাড়া এই লাইনআপে আছেন- স্বপন (ব্যান্ড লিডার ও বেজ), পুষ্প ফেরদৌস (গিটার) এবং অমিত (ড্রামস)।

এলআরবির নতুন লাইনআপের বিষয়ে সাইদুল হাসান স্বপন একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, আমি সাইদুল হাসান স্বপন (এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য), আমার ব্যান্ডের নতুন লাইনআপ ঘোষণা করেছি। কেন এই পরিবর্তন, সেটা জানার অধিকার এলআরবির ভক্তদের আছে। একটু পিছনে ফিরে যাই; ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল আইয়ূব বাচ্চু, স্বপন, জয়, টুটুল মিলে এলআরবি ব্যান্ডটি যাত্রা শুরু করে। আপনারা হয়তো অনেকে জানেন না আমার গিটার শেখা শুরু বসের হাতেই ১৯৮৪ সালের অক্টোবর মাসে। তারপর থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত তার পাশেই ছিলাম (৩৪ বছর)।

স্বপন আরো লেখেন, জয় চলে যাবার পর ড্রামার হিসেবে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন মিল্টন আকবর, সুমন, রিয়াদ। সর্বশেষ লাইনআপ ছিলো, আইয়ুব বাচ্চু, স্বপন, মাসুদ, রোমেল এবং ম্যানেজার হিসেবে শামীম। বাচ্চু ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যর পর ব্যান্ড চলমান রাখার জন্য নানা সিদ্ধান্তে মতভেদ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকা, সবাই ব্যান্ড লিডার হতে চাওয়া; এভাবেই দ্বন্দের শুরু। এক পর্যায়ে রোমেল আমাকে নিয়ে আলাদা হয়ে যায় মনোমালিন্যের কারণে। কিন্ত কেন আমি সরে আসলাম? তা কখনোই (আজ পর্যন্ত) শামীম, মাসুদ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চায়নি!

রোমেলকে বাদ দেয়া প্রসঙ্গে স্বপন লেখেন, এলআরবি ভাঙার অন্যতম কারিগর রোমেল। বাচ্চু ভাই মারা যাবার পর ব্যান্ড চালু রাখার স্বার্থে প্রতিটা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে রোমেল। এছাড়া বিভিন্ন সময় টাকা নিয়ে যে কাউকে এলআরবিতে গান গাওয়ার সুযোগ দেবার কথা বলা, বাচচু ভাই এবং এলআরবির সম্মান রক্ষার্থে, এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় আমার সঙ্গে রোমেলের খারাপ আচরন করা  এবং বলা যে, সে আমার কোনো সিদ্ধান্ত মানবে না এবং এলআরবি করতে হলে আমাকে তার সিদ্ধান্ত মানতে হবে।

কিছু দিন আগে আমার নজরে আসে ‘কনসার্ট ফর নিলুফার’ নামে একটি শোতে এলআরবির নাম। যার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। রোমেল বা আয়োজকরা আমার সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ করার প্রয়োজন মনে করেনি। আমি নিজে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর রোমেল আমাকে ফোন করে আবারো অভদ্র আচরণ করে। আমি আয়োজকদের এলআরবির পারফর্ম করার বিষয়ে অপরাগতা জানানোর পরও তারা এলআরবির নাম তুলে নেয়নি।

সব চাইতে শেষ যে ভয়ংকর ঘটনা সে ঘটিয়েছে, আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবির গানের ভিডিও কন্টেন্ট কোনোরকম অনুমতি (এলআরবি ও বাচ্চু ভাইয়ের পরিবার) ছাড়া বিদেশে গোপনে নিজের নামে একাউন্ট খুলে বিপুল পরিমান ডলার আত্মসাৎ করেছে, যা এখনও চলমান। এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আমি সাইদুল হাসান স্বপন (এলআরবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য) রোমেলকে এলআরবি থেকে অপসারণ করতে বাধ্য হচ্ছি। আমি জানি বস বেঁচে থাকলে এটাই করতেন। সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, যে রোমেল আর কোনোভাবেই এলআরবির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমার অনুমতি ছাড়া কেউ এলআরবি নাম ব্যবহার করবেন না।

তিনি লেখেন, আমি আশা করবো এলআরবির যারা ভক্ত আছেন, তারা এই কঠিন সময়ে, বসের গড়া এলআরবিরকে সসম্মানে সামনে এগিয়ে নিতে আমাকে সাহায্য করবেন। আমি চাই তাজোয়ার (প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে) তার পড়াশুনা শেষ করে এলআরবির এর পাশে এসে দাঁড়াক। তার বাবার শূন্যস্থানে পূরন করুক এবং এলআরবিরকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাক। আমি চাইনা বসের হাতে গড়া এলআরবি শেষ হয়ে যাক, এই ৩৪ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমি কখনোই লাইম লাইটে আসার কোনো চেষ্টা করিনি। সবসময় মিউজিক এবং টিম ওয়ার্ক টাই আমার কাছে প্রাধান্য পেয়েছে। এই মিউজিকের কারণেই আমি আমার বাবা, মা'র মৃত্যুর সময়ে তাদের শেষ দেখাটাও দেখতে পাইনি। সেই আমি কি ভাবে এই ব্যান্ড এর সন্মান ধুলায় মিশিয়ে যেতে দিতে পারি? আপনাদের ভালোবাসাই পারে এলআরবিকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে এবং আইয়ুব বাচ্চু বসের কীর্তিকে অমলীন রাখতে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল এলআরবি গড়ে তোলেন আইয়ুব বাচ্চু। তার সঙ্গে ছিলেন মিল্টন আকবর, এসআই টুটুল ও সাইদুল হাসান স্বপন। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর থেকে ব্যান্ডটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে দলের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধরে কারণে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ