আপনি যত ভ্রমণ করবেন, ভাইরাসও তত ভ্রমণ করবে: বিল গেটস

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আপনি যত ভ্রমণ করবেন, ভাইরাসও তত ভ্রমণ করবে: বিল গেটস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৫ ৩ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৭:৩০ ৫ এপ্রিল ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কোভিড- ১৯ থেকে উদ্ধারের পথ নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টে বিল গেটসের একটি লেখা ছাপা হয়েছে। লেখাটি মূলত আমেরিকাকে উদ্দেশ্য করে হলেও সবদেশই তার এ থেকে উপকৃত হতে পারে। 

বিল গেটস'র লেখাটি নিচে তুলে ধরা হলো-

এখন আর কোনো সন্দেহ নাই যে আমরা করোনা থেকে সুরক্ষার সব সুযোগ হাত ছাড়া করেছি। কিন্তু সমস্ত জানালা এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশ নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় যারা আছেন তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে আর কতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে অথবা কতজনকে তার প্রিয়জনের জন্য কবর খুঁড়তে হবে। 

দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়া আমাদের জন্য খুবই দরকার।

প্রথমত: আংশিক সাট ডাউনে কোনো কাজ হবে না। মানুষ ট্রাভেল করলে ভাইরাসও করবে। সৈকত, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি খোলা রাখা মানেই হলো আরো বিপদজনক পরিস্থিতি হওয়া। শাটডাউন মানে একেবারে শতভাগ শাটডাউন। মানুষের চলাচল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ভাইরাসের চলাচল বন্ধ হবে না। দশ সপ্তাহ সবকিছু বন্ধ থাকলেই এটা কমে আসবে। আর তা না হলে- দুঃখ বাড়বে। 

দ্বিতীয়ত: সরকারের পক্ষ থেকে করোনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে। যাতে জনগণ খুব সহজেই পরীক্ষা করতে পারে। যত দ্রুত আমরা এর রেজাল্ট পাবো এবং সঠিক নাম্বার জানতে পারবো ততো দ্রুত ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য সম্ভাব্য ভলান্টিয়ার তৈরি করা যাবে। নিউইয়র্কে প্রতিদিন বিশ হাজার করে টেস্ট করা হচ্ছে। সাতদিনের পরিবর্তে ২৪ ঘন্টার ভিতরে টেস্ট রেজাল্ট দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 

প্রায়োরিটির ভিত্তিতে টেস্ট করা দরকার। এর জন্য প্রথমেই দেখতে হবে সমস্ত হেলথ প্রফেশনাল আর ফার্স্ট রেসপন্ডারসরা সুস্থ কিনা। তারপর, যারা খুবই অসুস্থ এবং এরপর যারা সহজেই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের। ঠিক তেমনি ভাবে মাস্ক ও ভেন্টিলেটর ব্যবহারের গুরুত্বয় ঠিক করতে হবে। ম্যাডিকেল ইকুইপমেন্টের যেন গলাকাটা দাম রাখা না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

সর্বশেষ:  চিকিৎসার উন্নয়ন এবং ভ্যাকসিন তৈরির জন্য পূর্ণ গতিতে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোনো গুজব এবং প্যানিক যেন না ছড়ায়। কিছুদিন আগে ইমার্জেন্সি রোগীর চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ এটা ক্রয় করে পুরো স্টক খালি করে ফেলে। ফলে,  সারভাইভ করার জন্য যাদের দরকার এমনকি তারাও এই ওষুধ আর পায়নি। নিরাপদ এবং কার্যকরী ওষুধ বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে- প্রথমে যাদের দরকার শুধু তারাই যেন এটা পায়। অন্যরা কিনে স্টক করে না ফেলে। 

করোনার এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্তির জন্য আমাদের প্রথমেই দরকার একটি নিরাপদ এবং কার্যকরী ভ্যাকসিন। হয়তো এটা পেতে আরো আঠারো মাস সময় লাগতে পারে। আর এটা বের হওয়া মানে পূর্ণ যুদ্ধ জয়লাভ নয়। খুব বেশি হলে অর্ধেক যুদ্ধ জয়লাভ করা। কারণ গোটা পৃথিবীর মানুষকে রক্ষা করার জন্য আমাদের দরকার বিলিয়ন ডোজের। অনুন্নত প্রচণ্ড ঘনবসতিপূর্ণ  দেশগুলোতে পরিপূর্ণ লকডাউন কিংবা শাটডাউন করা আরো কঠিন। 

এখন থেকেই আমাদের এই ভ্যাকসিনের জন্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নির্মাণে কাজ দিতে হবে। যতো বেশি সুযোগ তৈরি হবে মানুষের জন্য ততো বেশি সুবিধা হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে এটা করা সম্ভব নয়। সরকারিভাবেই এটা করতে হবে। ফেডারেল গভর্নমেন্টকে এগিয়ে আসতে হবে। ভ্যাকসিন তৈরির জন্য এরইমধ্যে দুটি কোম্পানি চুক্তি সই করছে। 

আমি আশাকরি আরো অনেকগুলো চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হবে। ২০১৫ সালে আমি বলেছিলাম আসন্ন মহামারীর জন্য তৈরি হতে। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। আশাকরি- যদি বিজ্ঞান, হেলথ প্রফেশনালদের কথা শুনে পরিকল্পিতভাবে আগানো যায় তাহলে অনেক মানুষের জীবন বাঁচবে, এই বন্দিত্ব মুছে যাবে এবং গোটা দেশ তার আপন কাজে ফিরে যেতে পারবে। - বিল গেটস

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/এআর/