আন্তর্জাতিক আইন তোয়াক্কা না করে স্থাপনা তৈরি করছে মিয়ানমার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১৩ ১৪২৬,   ২২ শাওয়াল ১৪৪০

আন্তর্জাতিক আইন তোয়াক্কা না করে স্থাপনা তৈরি করছে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: international-desk

 প্রকাশিত: ০১:২৮ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ০১:৩৪ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই বাংলাদেশের ঘুমধুম সীমান্তের কাছে শূন্য রেখায় কংক্রিটের স্থাপনা তৈরি করছে মিয়ানমার। রোববার তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু নিউজ অ্যাজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নির্মিত এই স্থাপনা ওই এলাকার তামব্রু খালের পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করবে। এর ফলে ওই এলাকায় ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে বসবাসকারী প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা বন্যার কবলে পড়তে পারে।

রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ আনাদোলুকে বলেন, এই এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের উৎখাত করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আমরা এখানে এই আশায় বসবাস করছি যে, পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসবে এবং আমরা আমাদের নাগরিকত্বের অধিকার ফিরে পাবো। আমাদের প্রকৃত জন্মস্থানে ফিরতে পারবো।

রোহিঙ্গারা যেন এই স্থান ছেড়ে চলে যায় তার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানান রোহিঙ্গাদের এই নেতা।

গত মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) কক্সবাজারের ডেপুটি কমিশনার কামাল আহমেদ মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ে একটি চিঠিতে শূন্য রেখা ঘেঁষে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ ও এর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কামাল আহমেদ বলেছেন, শূন্য রেখায় মিয়ানমার সরকার কোনো ধরনের স্থাপনা তৈরি করতে পারে না। স্থাপনা তৈরি হলে শূন্য রেখায় থাকা রোহিঙ্গারা ভোগান্তির মুখোমুখি হবেন। এমনকি পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৪ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান আনাদোলুকে বলেন, সম্প্রতি তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাকে জানিয়েছে যে, সেখানে কংক্রিটের স্থাপনা নয়, কাঁটা তারের বেড়া তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের কাঁটা তারের বেড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমারের অন্যান্য সীমান্তেও বসানো আছে। তিনি কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণের ব্যাপারে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। 

মিয়ানমারের রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়ত হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। ২০১২ সালে রাখাইনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কয়েক ডজন রোহিঙ্গার প্রাণহানি ঘটে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ