Alexa আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য সুমন গ্রেফতার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ১ ১৪২৬,   ১৬ সফর ১৪৪১

Akash

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য সুমন গ্রেফতার

 প্রকাশিত: ১০:৪০ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য তৌফিক হোসেন সুমনকে রাজধানীর কলমলাপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। শনিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

রবিবার দুপুরে র‌্যাব ১১- এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন সইকরা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

র‌্যাবের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সুমন ১৯৯৮ সালে খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০০ সালে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। পরে ২০০৫ সালে সুইজারল্যান্ড থেকে ফরাসি ভাষার ওপর কোর্স করে এবং ২০০৯ সালে সুইজ হোটেল ম্যানেজমেন্ট স্কুল সুইজারল্যান্ড থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্টের ওপর ডিগ্রি অর্জন করে।

সুইজারল্যান্ডে থাকাকালীন মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সহপাঠীর মাধ্যমে হানাফি থেকে সালাফি মতাদর্শে প্রবেশ করে সুমন। ২০১০ সালে সে বাংলাদেশে আসার পর তার সমমনা লোক ও সংগঠনগুলোর অনুসন্ধান করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সে মোহাম্মদপুরের বসিলায় জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদে যাতায়াত শুরু করে এবং ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদী বক্তব্য ও ভিডিও দেখে কথিত জিহাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, উগ্রবাদী বক্তব্য ভালোভাবে বোঝার জন্য সুমন ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে আরবি ভাষার ওপর কোর্স করে। কোর্স করাকালীন সময়ে ইফতেখার নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার মাধ্যমেই পরবর্তীতে সুমন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগদান করে।

পরে ইফতেখারের মাধ্যমে সুমনের সঙ্গে ফাহাদ, রাহাত, আসাদ, সৈয়দ রায়হান কবির বাবু, ফয়সাল, তাজউদ্দিন আহমেদ সনেট এবং মাওলানা ইসহাকের পরিচয় হয়। সে আনসার আল ইসলামে যোগদানের পর সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বাকি সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

২০১৫ সালের মে মাসে সুমনের সঙ্গি ইফতেখার, ফাহাদ, রাহাত, আসাদসহ আরো কয়েকজনকে বিস্ফোরক দ্রব্যাসহ রাজধানীর খিলগাঁও, সুত্রাপুর ও মোহাম্মদপুর থেকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও সুমন কৌশলে পালিয়ে আত্মগোপন করে। তার বিরুদ্ধে রুপগঞ্জ থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাও রয়েছে।

পরে বেশ কিছুদিন রাজধানীর গুলশানের সিটিএস এবং উত্তরায় ডিপিএস এসটিএস নামক দুইটি বেসরকারি স্কুলে খণ্ডকালীন ফরাসি ভাষার শিক্ষক হিসেবে কাজ করে সুমন। এছাড়াও ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি ম্যারেজ মিডিয়া পেইজে সে অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

এই পেইজটিতে দ্বীনি ভাই-বোনদের বিয়ের ব্যবস্থার নামে তাদের দেওয়া নির্ধারিত ফরমে বায়োডাটা পূরণ করে পাঠাতে বলে। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দাওয়াত দিয়ে তার দলে ভুক্ত করার কাজ করছিল।

র‌্যাব জানায়, তৌফিক হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআই