Alexa আধুনিক সব সুবিধাই আছে, তবুও মেলে না সেবা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল

আধুনিক সব সুবিধাই আছে, তবুও মেলে না সেবা

আহমেদ জামিল, সিলেট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০০ ১৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২১:০১ ১৭ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা, দামি যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে না সিলেটবাসী।

রাজধানী ছাড়া ডায়াবেটিসের কারণে সৃষ্ট কিডনি, চোখ, দাঁত ও হৃদরোগের চিকিৎসার অনেক যন্ত্রপাতি একমাত্র এ হাসপাতালেই আছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় খবরটি জানেন না রোগীরা। এমনকি হৃদরোগীদের জন্য সিসিইউ চালু করলেও সেটি দীর্ঘদিন অচল হয়ে আছে।

রোগীদের অভিযোগ প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া এ হাসপাতালে অন্য কোনো সেবা মেলেনা। জটিল রোগে আক্রান্তদের নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে রোগীরা হয়রানির শিকার হয়। আবার এখান থেকে সেবা নিতে হলেও ব্যয় করতে হয় কয়েক গুণ বেশি টাকা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখানে নামমাত্র ফিতে দৈনিক তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে সমিতির মাধ্যমে। কিন্তু জনবল সংকট ও যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ায় সব ধরনের সেবা দেয়া যাচ্ছে না।

১৯৮৪ সালে সিলেটের বন্দরবাজার পুরানলেন এলাকায় ৬৮ দশমিক ১৯ শতক জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শত বাধা পেরিয়ে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ রকিব। তার মৃত্যুর পর বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিজেদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হওয়ায় হাসপাতালটি কঠিন সময় পার করছে। ছয় বছর ধরে অনেকটা অভিভাবকহীন অবস্থায় চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তির প্রচেষ্টায় হাসপাতালটিতে স্বল্প খরচে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, নেফ্রোলজি, চক্ষু, গাইনি, দন্ত বিভাগ চালু আছে। এছাড়া থেরাপির জন্য হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি মেশিন, ডায়ালাইসিস, বার্নস্কিন ট্রিটমেন্টের সুবিধাও রয়েছে এখানে। যা রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল ছাড়া দেশের আর কোথাও নেই। এত অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা, দামি যন্ত্রপাতি থাকার পরও পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সেবার মান বাড়েনি।

হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এ.কে খান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ২০ লাখ টাকার একটি আমেরিকা হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি মেশিন কেনা হয়েছিল। এ মেশিনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের পচন ধরা অংশে থেরাপি দেয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রচারণা ও দক্ষ অপারেটর না থাকায় স্বল্প খরচে এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের এ সেবা নিতে হচ্ছে।

একই অবস্থা একটি ফ্যাকো মেশিন, আটটি ডায়ালাইসিস মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির। হাতের কাছেই সুলভে এত বড় সুযোগ রয়েছে, অথচ এসবের খবরই জানে না রোগীরা।

সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতালের সুপার ডা. এ.জেড মাহবুব আহমদ জানান, হাসপাতালের ডেন্টাল, চক্ষু, ডায়ালাইসিস, গাইনি, সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে ৩০ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ১৫২ জন। হাসপাতালে রোগী ভর্তি ফি ২০ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।

সিলেট ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লোকমান আহমদ বলেন, আমাদের সাধ আছে, সাধ্য নেই। রোগীদের কল্যাণে কাজ করতে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। কিন্তু পর্যাপ্ত অনুদানের অভাবে আমাদের ভর্তুকি দিয়ে হাসপাতাল চালাতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের অবস্থান থেকে শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতি বছর সমিতির এজিএমে বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নিতে আমরা সাধ্যমতো কাজ করছি।

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম.এ আহবাব বলেন, সিসিইউ রয়েছে নামমাত্র। কত শয্যার তাও বলতে পারব না। ওই বিভাগে একটি মাত্র কার্ডিয়াক মেশিন, ইসিজি, ইকো মেশিন রয়েছে। আর কিছু নেই। এগুলো দিয়ে সিসিইউ চলে না।

ডা. আহবাব বলেন, হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি মেশিনের কোনো দরকার নেই। এটা দিয়ে কিছু হয় না। ত্রিশ বছর চিকিৎসা পেশায় দেখেছি এটার তেমন কোনো দরকার নেই। এই মেশিনগুলো অনেক আগে কেনা হয়েছে। এগুলোর দিকে নজর দিয়ে আর কি হবে। যেটার প্রয়োজন নেই সেগুলো নিয়ে আলোচনার দরকার নেই।

ডায়ালাইসিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে যতগুলো ডায়ালাইসিস মেশিন আছে সবই নষ্ট। একটি ঠিক করলে আরেকটি নষ্ট হয়। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে লাভ হয় না। চক্ষু বিভাগ ভালোভাবে সেবা দিচ্ছে। এখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছেন। তাই ফ্যাকো মেশিন কাজে আসছে।

তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতালে যথেষ্ট ভালো সেবা দেয়া হচ্ছে। কোনো প্রচারণার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বিভিন্ন সংস্থার অনুদান দিয়ে কোনো মতে ডায়াবেটিসের সাধারণ চিকিৎসা ও কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালকে লাভজনক করতে পরিকল্পনা নিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর