Alexa আত্মহত্যা: ‘অপশন’ নাকি বিলাসিতা?

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

আত্মহত্যা: ‘অপশন’ নাকি বিলাসিতা?

তানভীর আহম্মেদ সরকার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৮:৩৯ ১৩ মে ২০১৯  

সুখ-দুঃখ, ভাঙ্গা-গড়া, হাসি-কান্না এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ছোট্ট এ জীবনে অনেক সমস্যাই পড়তে হয় আমাদের। কিছু সমস্যা ছোট, আবার কিছু সমস্যা এতটাই বড় যে আমাদের বিষণ্ণ করে তুলে। আর আমরা এই বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পেতে বেছে নেই আত্মহত্যার পথ। কিন্তু একবারও কি আমরা চিন্তা করে দেখেছি সমস্যা ছোট হোক কিংবা বড়, এরও একটা সমাধান আছে? হয়তো ‘হ্যাঁ’, কিংবা ‘না’!

আমরা নিজেদের সমস্যা বলছি পুরো পৃথিবীকে। আমরা সবাই নিজেকে উপরের সারিতে তুলে নেয়ার একটা ‘নোংরা’ খেলায় মেতে উঠেছি। আর এই খেলাই আমাদের নিজেদেরকে নিজের স্বত্তা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। এভাবেই আমাদের ভেতরে একটা প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়। যেখানে থাকে একে অপরকে সহ্য না করার মন-মানসিকতা। আমরা শুধু চাই আমরাদের কথা সবাই শুনবে।

একটা সময় এভাবে আপনার আমার কথা শোনার কাউকে পাওয়া যায়না তখন আমরা বারান্দায় বা ছাদে গিয়ে ভাবতে শুরু করি যে আমরা খুব একা, আমাদের কেউ নাই। তখনি এসব উল্টা পাল্টা চিন্তা মাথায় ভর করে বসে।

যে ছেলেটা/মেয়েটা বাথরুমের ঝরনা ছেড়ে দিয়ে কান্না করছে (সেটা যেকোনো কারণেই হোক) সে জানে না বিশ্বে প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ গোসল তো দুরের কথা খাবার পানি পায় না ঠিকমত। যে ছেলেটা/মেয়েটা জিপির ৫ বা সিজিপিএ ৩.৫-এর নিচে চলে গেছে বলে মরে যাওয়ার চিন্তা করে সে যদি জানত পৃথিবীতে ২৬৪ মিলিয়ন ছেলেমেয়ে এই জিপিএ বা সিজিপিএ নিয়ে চিন্তা দুরের কথা তারা স্কুলেই যেতে পারেনা, তাহলে ‘আত্মহত্যা’র চিন্তা করা সেই ছেলেটা/মেয়েটা এমন চিন্তা মনে হয় কোনদিনই করতো না। কেননা এ পৃথিবীতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ‘আত্মহত্যা’ বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। 

শেষ করি একটা বাস্তব ঘটনা দিয়ে।

বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা। এইচএসসি পড়া একটা মেয়েকে আমি চিনতাম। নামকরা একটা কলেজে পড়তো সে। তার বাবা মা চাকরি করত। ড্রাইভার আর কাজের মেয়ে তাকে দেখাশোনা করত। সারাদিন কলেজ, প্রাইভেট শেষে রাতে বেলায় বাসা এসে কারো সঙ্গেই দেখা হতনা তার। ছুটির দিনই ছিল সবার সঙ্গে দেখা করার একমাত্র দিন। অনেকটা বাসায় থেকেও যেন হোস্টেলে থাকার মতো। 

বাবা-মা কেউ তাকে সময় দিতে পারতো না। আর সবথেকে ‘অদ্ভুত’ ব্যপার হল, সন্তানকে সময় দিতে পারছে না বলে অভিবাবকদের কোনো আফসোস নেই বরং তারা সেই মেয়েটির উপরেই সব দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। তবে এতো কিছুতেও মেয়েটির মন খারাপ হলেও হাসিখুশিতেই থাকার চেষ্টা করতো সে। আর এর মাঝেই একটা ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক হয় তার।

ছেলেটার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা যখনই মা-বাবা জানতে পারে, তাকে ধরে নিয়ে এসে বেদম মার মারে। অথচ একবারও ছেলেটাকে বুঝিয়ে বললো না কেউই। আর এতেই মেয়েটার অভিমানে রাগটা যেন আরো বেড়ে যায় আর খেয়ে ফেলে ঔষধ। 

এরপরে মেয়ের এমন অবস্থার কথা জানতে পেরে অফিস থেকে দৌঁড়ে বাবা-মা বাসায় চলে আসে, আর এরমধ্যেই তাকে হাসপালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। মেয়েটার বাবা মা তখন বলতে থাকে, মামনি প্লিজ তুমি ফিরে এসো, তুমি যেভাবে সব চাও সেভাবেই হবে, আমরা আর ঝগড়া করবোনা, তোমার মতো করে তোমাকে সময় দিবো। প্লিজ আমাদেরকে মাফ করে দাও। তাদের বুক ফাটা আকুতি, ফ্লোরের মাঝে গড়াগড়ি এখনো দেয়ালে প্রতিধ্বনি হয়। মাঝে মেয়েটা একবার জ্ঞান ফিরে পায়, তখন একটা কথা বলে, আব্বু আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, প্লিজ আমাকে বুকে জড়িয়ে নাও, আমি বাসায় যাবো।

বাবা মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ঠিকই নিয়েছিলো, কিন্তু মেয়েটির আর বাসায় যাওয়া হলো না। মাঝ রাতেই হাসপাতালের ঠান্ডা দেয়ালে কান্নাগুলো ফিরে আসে প্রতিধ্বনি হয়ে। আর এ মেয়েটির কাছে আত্মহত্যা ছিল নতুন করে বাঁচার অন্য আর একটি ‘অপশন’। কিন্তু এই অপশনের কারণে মা-বাবা হারাল তার মেয়েকে, মেয়েটি হারালো এই পৃথিবীর মায়া। 

সুতরাং একা কখনই ভালো থাকা যায়না। সময় থাকতে নিজেকে সময় দিন, নিজের পরিবার এবং আশেপাশের মানুষকে সময় দিন। বিষণ্ণতার আগ্রাসনে আর কেউ যাতে আত্মহত্যার পথ বেছে না নেয় সেদিকেও খেয়াল রাখুন। কেননা সময় গেলে কোনো না কোনো সময় হারিয়ে যাওয়া ‘সময়’ আবার ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু আপনার সময় না দেয়ার কারণে আপনারই কোনো প্রিয়জন হারিয়ে গেলে তাকে আর ফিরে পাবেন না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস/এনকে

Best Electronics
Best Electronics