Alexa আট পার্শ্বযুক্ত পিরামিডের সৌন্দর্য ধরা পড়ে শুধু সূর্যাস্তের আলোয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৭ ১৪২৬,   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

আট পার্শ্বযুক্ত পিরামিডের সৌন্দর্য ধরা পড়ে শুধু সূর্যাস্তের আলোয়

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২২ ১৭ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পিরামিড নিয়ে বিশ্ববাসীর মনে কৌতূহলের কমতি নেই। মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পিরামিড। সুদানে মিশরের থেকে বেশি পিরামিড রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পিরামিড রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকাতেও এ তথ্য হয়তো জেনে থাকবেন। যদিও আমরা এখনো জানি না যে কি উদ্দেশ্যে এবং কি জন্য বানানো হয়েছিল এই বিশাল বিশাল পিরামিডগুলো। প্রাচীন এক সভ্যতা থেকে আরেক সভ্যতার মধ্যে হাজার হাজার মাইল দূরত্ব রয়েছে। তবুও সারা বিশ্বে আজ পর্যন্ত যেসব পিরামিড খুঁজে পাওয়া গেছ, সেসবের মধ্যে এক অদ্ভুত সামঞ্জস্য খুঁজে পেয়েছে গবেষকেরা। জেনে নিন অদ্ভুত সেসব তথ্য-

পৃথিবীর একমাত্র আট পার্শ যুক্ত পিরামিড

আট পার্শ্বযুক্ত পিরামিডগিজার গ্রেট পিরামিডের নাম আপনি অবশ্যই শুনেছেন! অনেকে হয়তো স্বচক্ষে দেখেও এসেছেন। এর বিশালত্ব যতটা আপনাকে অবাক করবে তার থেকে বেশি অবাক করবে যখন আপনি জানবেন, এটাই বিশ্বের একমাত্র এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়ার আট পার্শ যুক্ত পিরামিড। যদিও এই অসাধারণ নির্মাণ কৌশল ভূমিতে বা দূর থেকে দেখলে বোঝা যায় না। শুধুমাত্র উপর থেকে দেখলে এবং বছরের বিশেষ একটি সময় এই দৃশ্রটি দেখা সম্ভব। শরৎ ও বসন্ত কালে ভোরে এবং সূর্যাস্তের আলোয় কেবলমাত্র দেখা মেলে এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকলার।

তাপমাত্রার তারতম্য

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, গিজার গ্রেট পিরামিডের ভেতর উষ্ণ এবং অপেক্ষাকৃত শীতল দু’টি জায়গা রয়েছে। যেখানকার তাপমাত্রা বলতে গেলে সবসময় প্রায় একই রকম থাকে। বলা হয় হাজার হাজার বছর ধরে এই একই তাপমাত্রা ধরে রেখেছে এই পিরামিডটি। পিরামিডের ভিতরে লুকানো কোনো স্থাপনা আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীরা আধুনিক ইনফারেট এবং থ্রিডি প্রযুক্তি ব্যবহার করছিলেন। 

পিরামিডের তাপমাত্রাতেও রয়েছে রহস্য ইনফারেট এবং থার্মো গ্রাফিক পরীক্ষায় পিরামিডের ভিতরে বেশকিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। পরীক্ষায় দেখা যায়, পিরামিডের মধ্যে এক পাশে উষ্ণ এবং এক পাশে একটি শীতল এলাকা রয়েছে। যদিও কি কারণে বা কীভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের এমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল প্রাচীন মিশরীয়রা তা এখনো জানা যায়নি।
    
প্রাচীনতম পিরামিড

পিরামিডের কথা উঠলেই আমাদের সামনে মিশরের ছবি ভেসে ওঠে কিন্তু এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া পিরামিডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো পিরামিডটি কিন্তু মিশরে নয় রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাভা প্রদেশ। গুনান পেদান নামে প্রায় নিচে চাপা পড়ে যাওয়া এই পিরামিডটি যে সবচেয়ে পুরনো পিরামিড এই নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিতর্ক রয়েছে। তবে আধুনিক যুগের জিও ইলিট্রি এবং জিও ম্যাগনেটিক পরীক্ষায়, এই পিরামিডের প্রায় ৫০ ফুট গভীরে একটি বিশাল কক্ষের খোঁজ পায় গবেষকেরা। 

প্রাচীনতম পিরামিডএছাড়া আগ্নেয়শিলা কেটে বানানো পাথরের বিশাল সবিশাল খন্ডগুলো পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানান, তা খ্রিস্টেরও জন্মের সাত হাজার বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। আবার অনেকের মতে, এই পিরামিডটি কুড়ি হাজার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। ভূতত্ত্ববিদ ডক্টর ড্যানি হিলম্যানের মতে, প্রায় ৩১১ ফুট উঁচু এই পিরামিডটি নির্মাণে যে ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা দেখাতে হয়েছে তাতে প্রমাণিত হয় প্রাচীন সভ্যতার মানুষেরা জ্ঞান বিজ্ঞানে কতটা উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছিল।

দক্ষ শ্রমিক না ক্রীতদাস 

অনেকদিন ধরেই মানুষের মধ্যে একটা ধারণা ছিল পিরামিড বানানোর কাজে ফারাওরা দাসদের ব্যবহার করত। তবে যদি বলা হয় সাধারণ দাসদের পক্ষে এত নিখুঁতভাবে পিরামিড তৈরি করা সম্ভব হলো কীভাবে? তাহলে কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। ১৯৯০ সালে একটি পিরামিডের পাশে একটি দেওয়াল আবিষ্কার করা হয়। পরে জানা যায় সেটা আসলে একটি কবর। 

দক্ষ ম্রমিকেরাইা নাকি পিরামিড তৈরি করেছিলোদেওয়াল লেখা হায়ারোগ্লিফিক লিপির মানে উদ্ধার করে জানা যায়, কবরে শায়িত ব্যক্তিটি পিরামিড নির্মাণের একজন দক্ষ ব্যক্তি ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে পিরামিডের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার পাশে একজন সাধারণ নির্মাণ শ্রমিককে কবর দেয়া হয়েছিল কেন। এরপরে অনেকেই মত প্রকাশ করেন, পিরামিড তৈরি করার জন্য সমগ্র মিশর থেকেই দক্ষ শ্রমিকরা আসতেন আর কাজ করতে গিয়ে কারোর মৃত্যু হলে সম্মান দেখিয়ে তাকে ফরহাদের পাশে কবর দেয়া হত।

হারিয়ে যাওয়া শীর্ষ 

গিজার গ্রেট পিরামিডের ভেতর কোনো মমি খুঁজে না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে তবে কি উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল এই পিরামিডটি, আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই পিরামিডের চূড়ায় এক সময় একটা সমতল ত্রিকোণাকার মূল্যবান পাথর বসানো ছিল। যা কোনো এক সময় চুরি হয়ে গিয়েছিল বলে মিশরীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আবার এক প্যানিস গবেষকের মতে, ওই পিরামিডের চূড়ায় একটি গোলক বসানো ছিল। 

পিরামিডের উপরে একটি শিংয়ের আকৃতি ছিলো যেটি চুরি হয়েছেযা হোরাসের চোখ নামে পরিচিত ছিল। প্রাচীন মিশরীয়দের কাছে এই চোখ বিপদ থেকে রক্ষা, রাজকীয় ক্ষমতা এবং ভালো স্বাস্থ্যের প্রতিক ছিল। তার মতে, গিজার পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল সূর্য এবং আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা লুব্ধকের পুজো করার জন্য। লুব্ধক তারাটি ছিল মিশরীয় দেবী আইসিসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিন্তু পিরামিডের এই চুরি যাওয়া শীর্ষটি খুঁজে না পাওয়া গেলে কখনোই জানা যাবে না, কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে গিজার এই পিরামিডে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস