Alexa আট তলার হাসপাতালে নেই সেবা

ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

আট তলার হাসপাতালে নেই সেবা

সুজন সেন, শেরপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১২ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৪১ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নবনির্মিত ২৫০ শয্যার শেরপুর সদর হাসপাতাল।

নবনির্মিত ২৫০ শয্যার শেরপুর সদর হাসপাতাল।

নবনির্মিত ২৫০ শয্যার শেরপুর সদর ভবন। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর হাসপাতাল ভবনটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু উদ্বোধনের দশ মাস পরও চালু হয়নি সেবার কার্যক্রম। ফলে রোগীদের দুর্ভোগ ক্রমেই চরম আকার ধারণ করছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, নবনির্মিত ভবনে বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। এ কারণে ভবনটি গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অপরদিকে গণপূর্ত বিভাগ বলছে, তারা নির্মাণ করলেও এ ভবনের নকশা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী কাজ হয়েছে।

১৯৮৪ সালে সীমান্তবর্তী অঞ্চল শেরপুরকে জেলায় উন্নীত করা হয়। তখন সদর হাসপাতালটি ছিল ৫০ শয্যার। দীর্ঘদিন পর তা ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও রাজস্ব খাতে ছিল ৫০ শয্যাই। এ অবস্থায় জেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় হাসপাতালটির পাশে এক একর ১০ শতাংশ জমির ওপর ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আটতলা ভবনের প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত বিভাগ।

২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুইপ আতিউর রহমান আতিক। তিন বছরে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ শেষ হয়। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালসহ শেরপুরের বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই ঘোষণার দশ মাসেও চালু হয়নি হাসপাতালটির কার্যক্রম।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের মতবিরোধে ঝুলে আছে চালু করার প্রক্রিয়া। এখন পর্যন্ত ১০০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর প্রচণ্ড চাপ। এখানে ১০০ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ রোগী ভর্তি থাকে। ফলে অধিকাংশ রোগীকে বেড ছাড়া বারান্দা আর মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, নতুন ভবনের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভাগীয় শহর থেকে এর উদ্বোধন করেন। এটি জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। কিন্তু উদ্বোধনের পরও চালু না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।

জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. এমএ বারেক তোতা বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এখন শেরপুরে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে মানুষের অধিকতর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু ভবনে ত্রুটি বা সমস্যার কারণে যদি তা চালু না হয়, সেটা অনভিপ্রেত।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল সংলগ্ন সম্প্রসারিত নতুন ভবনে আইসিইউ ও সিসিইউসহ আধুনিক সব ধরনের চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। ভবনটি হস্তান্তর হলেই রোগীরা প্রকৃত সেবা ভোগ করতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, ভবনটি হস্তান্তর ও গ্রহণের জন্য এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত বারবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সার্ভে শেষ না হওয়ার কথা বলে তারা ভবনটি এখনো গ্রহণ করছেন না।

সিভিল সার্জন ডা. রেজাউল করিম বলেন, নবনির্মিত ভবনে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলো হচ্ছে, চিকিৎসকদের কক্ষে কোনো বাথরুম নেই। ওয়ার্ড কক্ষে নেই কোনো ওয়াশরুম।

এছাড়া অপারেশন থিয়েটারেও রয়েছে সমস্যা। যে কারণে ভবনের কাজের বিষয়ে জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. রবিউল করিমকে আহবায়ক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. নাদিম হাসানকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের একটি সার্ভে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সার্ভে বোর্ডের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ভবনটি গ্রহণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ডিসি আনার কলি মাহবুব বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবনটি চালু না হওয়ার বিষয়ে বিভাগীয় সমন্বয় সভায় কথা হয়েছে। সভায় উপস্থিত থাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক আগামী এক মাসের মধ্যে তা চালুকরণে আশ্বস্ত করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর