.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

জুমা’র দিন, দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন

নিউজ ডেস্ক :: news-desk

 প্রকাশিত: ২১:১৬ ১১ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ২১:১৬ ১১ অক্টোবর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমলের দিক থেকে যে সব দিনকে ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছেন এর অন্যতম হলো জুমা’র দিন। 

এ দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আহকাম ও ঐতিহাসিক নানা ঘটনা। জুমা’র দিনকে মুসলমানদের ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ দিনের প্রতিটি আমলই গুরুত্বপূর্ণ।

সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমা’র দিন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ। পবিত্র কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দ্বারা এই দিনের মর্যাদার কথা জানা যায়।

জুমা’র দিনের বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

বিভিন্ন সহীহ হাদীসসমূহে জুমা’র দিনের বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হলো-

(১) জুমা’র দিন, দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমা’র দিন সেরা দিন ও আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর নিকট তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ ( ইবনে মাজাহ)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘যে সকল দিনে সূর্য উদিত হয়েছে তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমা’র দিন। সেই দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেই দিনেই জান্নাত থেকে তাকে বের করা হয়েছে।’

(২) জুমা’র দিন মুসলিমদের ঈদের দিন:

যদি ঈদুল ফিতর অথবা ঈদুল আজহা জুমা‘র দিনে হয় তাহলে সেই দিনে দুই ঈদ একত্রে হবে। যে ব্যক্তি সেই দিন ঈদের সালাত আদায় করবে তার ওপর জুমা‘র সালাত ফরজ না। সে ইচ্ছা করলে জুমা‘র সালাতে আসতেও পারে, নাও আসতে পারে (যোহর আদায় করবে)। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি যখন এ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন:

ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ

‘আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করলাম ও তোমাদের ওপর আমার নিআমতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসাবে প্রদান করে সন্তুষ্ট হলাম।’ (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩)

তখন তার নিকট একজন ইয়াহূদী ছিল। সে বলল, যদি আয়াতটি আমাদের ওপর নাজিল হতো তাহলে আমরা সেই দিনটিকে ঈদের দিন বানিয়ে নিতাম। অত:পর ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেন, আয়াতটি ঈদের দিনেই নাজিল হয়েছে (আর তা ছিল) জুমা‘র দিন ও ‘আরাফার দিন।’

(৩) জুমা’র দিন মন্দ কাজ দূর করা ও গুনাহ মাফের দিন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘এক জুমা থেকে অপর জুমা এ দুইয়ের মাঝের (গুনাহের জন্য) কাফ্ফারা হয়ে যায়, যদি কবীরা গুনাহের সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে।’

(৪) জুমা‘র সালাতে যাত্রাকারীর প্রত্যেক ধাপে এক বছরের সালাত ও সাওম পালনের সওয়াব হয়:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমা’র দিন ভালো করে গোসল করে সকাল সকাল মসজিদে আসবে এবং ইমামের নিকটবর্তী হবে এবং মনোযোগ দিয়ে (খুৎবা) শ্রবণ করবে ও চুপ থাকবে তার জুমা‘র সালাতে আসার প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছরের সালাত ও সাওম পালনের ছওয়াব হবে।’

(৫) জুমা’র দিনে একটি সময় আছে যে সময়ে দোয়া কবুল হয়:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয় জুমা’র দিনে এমন একটি সময় আছে যে সময়ে কোনো মুসলিম আল্লাহর নিকট কোনো ভালো জিনিসের প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, আর তা সামান্য সময় মাত্র।’

অধিকাংশ আলেমের মতে, দোয়া কবুলের সম্ভাবনার সেই সময়টি হলো আসরের সালাতের পরের সময়। দ্বিপ্রহরের পরের সময়টিতেও দোয়া কবুলের আশা করা যেতে পারে। সুতরাং মুসলিমগণের উচিৎ এ সময়টিতে নিজের ও সকল মুসলিমদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা।

(৬) অন্যান্য উম্মতকে এ থেকে বিভ্রান্ত করে জুমা’র দিনকে আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতের জন্য বাছাই করে রেখেছিলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জুমা’ থেকে আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতকে বিভ্রান্ত করে রেখেছিলেন। ফলে ইয়াহূদীদের জন্য ছিল রবিবার। অত:পর আল্লাহ আমাদেরকে নিয়ে এসেছেন এবং আমাদেরকে জুমা’র দিনের জন্য পথ দেখিয়েছেন অত:পর শনি তারপর রবি। এমনিভাবে কিয়ামতের দিনও তারা আমাদের পরে হবে। দুনিয়ার অধিবাসীদের মধ্যে আমরা সবার পরে এবং কিয়ামতের দিন আমাদের ফয়সালা সাবার আগে হবে।’

(৭) জুমা’র দিনেই কিয়ামত হবে:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কিয়ামত জুমা’র দিনেই কায়েম হবে।’

(৮) জুমা’র দিনে মৃত্যুবরণ করা শুভ মৃত্যুর লক্ষণ:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোনো মুসলিম যদি জুমা’র দিনে অথবা জুমা’র রাত্রিতে মৃত্যুবরণ করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন।’

(৯) জুমা’র সালাত ত্যাগ করা কবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমা ত্যাগের ব্যাপারে ভীষণ সতর্ক করে বলেছেন, ‘যে সকল লোক জুমা ত্যাগ করে তারা যেন অবশ্যই তা থেকে ফিরে আসে, নচেৎ আল্লাহ তায়ালা তাদের হৃদয়ের ওপর মোহর মেরে দিবেন অত:পর তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি অবহেলা করে তিন জুমা ত্যাগ করবে আল্লাহ তার হৃদয়ের ওপর মোহর মেরে দিবেন।’

অপর একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়, কোনো ব্যক্তিকে ইমামতি করার আদেশ দেই, অত:পর যে সকল লোক জুমা’র সালাতে আসেনি তাদের ঘর-বাড়ির দিকে অগ্রসর হয়ে সেগুলোকে জ্বালিয়ে দেই।’

উপরোক্ত হাদীসসমূহ জুমা’র সালাতের গুরুত্বের ওপর তাকিদ দিচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে, শুধুমাত্র জুমা’র সালাতই ফরজ; বরং জুমা’র সালাত যেমন ফরজ তেমনিভাবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে আদায় করাও ওয়াজিব।

জুমা’র দিনের বিধি-বিধান:

জুমা’র দিনের ওযাজিব বা ফরজসমূহ-

(১) খুৎবার সময় চুপ থাকা, কথা না বলা ও কোনো অযথা কাজ না করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যদি জুমা’র দিন ইমামের খুৎবারত অবস্থায় তোমার সাথীকে (কাউকে) বল- চুপ কর, তাহলে তুমি নিরর্থক কথা বললে।’

(২) মসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা, যদিও তা ইমামের খুৎবারত অবস্থায় হয়:

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, জুমা’র দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুৎবারত অবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। তিনি তাকে বললেন, ‘তুমি সালাত আদায় করেছ?’ সে বলল- না, তিনি বললেন, ‘দাড়াও! দুই রাকাত সালাত আদায় কর।’

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত আছে, জুমা’র দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুৎবারত অবস্থায় সুলাইক আল-গাতফানী রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে এসে বসে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ‘হে সুলাইক! দাড়াও, দুই রাকাত হালকা সালাত পড়।’ অত:পর তিনি বললেন, ‘জুমা’র দিন ইমামের খুৎবারত অবস্থায় তোমাদের কেউ আসলে হালকা করে দুই রাকাত সালাত পড়।’

(৩) জুমা’র সালাত আদায় করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জামাতের সঙ্গে জুমা’র সালাত আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ, তবে চারজন এর ব্যতিক্রম- ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ বালক এবং অসুস্থ ব্যক্তি।’

জুমা’র দিনের মুস্তাহাব আমলসমূহ-

(১) জুমা’র দিনে ফজরের সালাতে বিশেষ কিরাত পাঠ করা:

জুমা’র দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে প্রথম রাকাতে সূরা আস-সাজদাহ ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আদ-দাহার (ইনসান) পড়তেন।’

(২) বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমা’র দিন তোমাদের সর্বোত্তম দিনসমূহের মধ্যে অন্যতম। সেই দিনে আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তার জান কবজ করা হয়েছে, শিঙ্গায় ফুৎকার হবে এবং (আসমান ও জমীনবাসী) ধ্বংস অথবা বেহুশ হবে। সুতরাং সে দিনে বেশি বেশি করে আমার ওপর সালাত পাঠ কর; কেননা তোমাদের সালাত আমার নিকট পেশ করা হয়।’ তারা (সাহাবায়ে কেরাম) জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সালাম আপনার নিকটে কিভাবে পেশ করা হবে অথচ তখন আপনি (অর্থাৎ তাঁর হাড্ডি) পুরাতন হয়ে যাবেন? তিনি বললেন, আল্লাহ নবীগণের শরীর মাটির জন্য খাওয়া হারাম করে দিয়েছেন।’

(৩) সূরা কাহাফ পাঠ করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমা’র দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে অপর জুমা পর্যন্ত একটি নূর তাকে আলোকিত করবে।’

(৪) গোসল করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ জুমা’র সালাতে আসতে চাইলে সে যেন অবশ্যই গোসল করে আসে।’

এ হাদীসে উল্লেখিত আদেশ থেকে গোসল ফরজ সাব্যস্ত হবে না; বরং তার অর্থ হলো গোসল উত্তম; কেননা অপর একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কেউ যদি ওযু করে জুমা’র সালাতে আসে তা যথেষ্ট হবে। তবে গোসল করা উত্তম।’

(৫) মেসওয়াক করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জুমা’র দিন প্রত্যেক বালেগ (বয়সপ্রাপ্ত) ব্যক্তি গোসল ও মেসওয়াক করবে এবং সামর্থ্য অনুসারে সুগন্ধি লাগাবে।’

(৬) সামর্থ্য অনুসারে সবচেয়ে সুন্দর পোষাক পরিধান করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমা’র দিন গোসল করে ও সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করে এবং সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করে, অত:পর শান্তভাবে মসজিদে আসে, মনে চাইলে সালাত পড়ে, কাউকে কষ্ট না দেয়, ইমাম আসার পর থেকে নিয়ে সালাত আদায় পর্যন্ত চুপ থাকে তার জন্য এটা উভয় জুমা’র মাঝের কাফ্ফারা হবে।’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘তোমাদের কারো যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে সে কাজের দুইটি পোশাক ব্যতীত জুমা’র জন্য দুইটি আলাদা পোশাক রাখতে পারে, তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

(৭) সকাল সকাল সালাতের জন্য যাওয়া:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমা’র দিনে (সহবাসের পর) ফরজ গোসল করে অত:পর (জুমা’র উদ্দেশ্যে) গমন করে সে যেন একটি উট সদকা করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় ভাগে গমন করে সে যেন একটি গরু সদকা করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় ভাগে গমন করে সে যেন একটি মেষ সদকা করল। যে ব্যক্তি চতুর্থ ভাগে গমন করে সে যেন একটি মুরগী সদকা করল। যে ব্যক্তি পঞ্চম ভাগে গমন করে সে যেন একটি ডিম সদকা করল। যখন ইমাম (খুতবার উদ্দেশ্যে) বের হয়ে আসে তখন ফেরেশতাগণ হাজির হয়ে যিকির (খুৎবা) শ্রবণ করতে থাকে।

(৮) ইমাম সাহেব খুৎবার জন্য বের হওয়ার আগ পর্যন্ত (নফল) সালাত ও জিকিরে লিপ্ত থাকা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি গোসল করে জুমা’র সালাতে আসবে অত:পর ইমাম খুৎবা শেষ করা পর্যন্ত তাওফীক অনুসারে সালাত পড়বে ও চুপ থাকবে তারপর ইমামের সঙ্গে জুমা’র সালাত আদায় করবে তাকে (তার গুনাহ) সামনের জুমু‘আ এবং তার পরের তিন দিন পর্যন্ত ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’

(৯) দ্বিপ্রহরের সঙ্গে সঙ্গে যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি জুমা’র সালাত কায়েম করা:

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলার পর জুমা’র সালাত আদায় করতেন। তিনি আরো বলেন, আমরা জুমা’র সালাত আগেভাগে পড়ে নিতাম এবং জুমা’র পর (দুপুরের খানা খেয়ে) আরাম করতাম।

সালামা ইবন আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সূর্য ঢলার পর জুমা’র সালাত আদায় করতাম এবং সালাতের পর (সূর্যের অত্যাধিক তাপের কারণে) ছায়ায় ফিরে আসতাম।

(১০) জুমা’র সালাতের দুই রাকাতে সূরা আল-আ‘লা ও সূরা আল-গাশিয়া পাঠ করা অথবা সূরা আল-জুমু‘আ ও সূরা আল-মুনাফিকূন পাঠ করা:

নু‘মান ইবন বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ঈদের এবং জুমা’র সালাতে সূরা আল-আ‘লা ও সূরা আল-গাশিয়াহ পড়তেন।

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমা’র সালাতে সূরা আল-জুমু‘আ ও সূরা আল-মুনাফিকূন পাঠ করতেন।

(১১) জুমা’র পরে বাড়ীতে দুই রাকাত অথবা মসজিদে চার রাকাত সালাত আদায় করা:

আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমা’র পরে (বাড়ীতে) না ফিরা পর্যন্ত কোনো সালাত পড়তেন না। (বাড়ী ফিরার) পরে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা যখন জুমা’র সালাত আদায় করবে তখন জুমা’র পর চার রাকাত সালাত পড়বে।

জুমা’র দিনের নিষিদ্ধ কার্যাদি-

(১) দ্বিতীয় আজানের পরে বেচা-কেনা:

মহান আল্লাহ তায়ালা-এর বাণী:

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَوٰةِ مِن يَوۡمِ ٱلۡجُمُعَةِ فَٱسۡعَوۡاْ إِلَىٰ ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَذَرُواْ ٱلۡبَيۡعَۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ

‘হে ঈমানদারগণ! জুমা’র দিনে যখন সালাতের আজান দেওয়া হয়, তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ছেড়ে দাও। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা তা জানো।’ (সূরা: আল-জুমা, আয়াত: ৯)

(২) মানুষের কাঁধের পর দিয়ে অতিক্রম করা এবং দুই জনকে বিচ্ছিন্ন করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুৎবারত অবস্থায় এক ব্যক্তি এসে লোকদের কাঁধের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ‘তুমি আসতে দেরীও করলে এবং (মানুষকে) কষ্টও দিলে।’

(৩) কাউকে উঠিয়ে দিয়ে তার স্থানে বসা:

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে উঠিয়ে দিয়ে তার স্থানে বসতে নিষেধ করেছেন। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ছাত্র নাফে’ কে জিজ্ঞাসা করা হলো- এটা কি জুমা’র সালাতের ব্যাপারে? তিনি উত্তরে বললেন, জুমু‘আ হোক বা অন্য কিছু হোক।

(৪) জুমা’র সালাতের পূর্বে মসজিদে দলবদ্ধ হয়ে বসা:

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমা’র সালাতের পূর্বে মসজিদে দলবদ্ধ হয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।’

(৫) খুৎবা অবস্থায় বৃষ্টির জন্য দোয়া ব্যতীত অন্য কোনো দোয়াআতে হাত না উঠানো (ইমাম হোক বা মুক্তাদি হোক):

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত আছে যে- তিনি যখন জুমা’র খুৎবাতে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন, তখন তিনি তাঁর দুই হাত উঠান এবং সাহাবায়ে কেরামগণও তাঁদের দুই হাত উঠান।

(৬) জুমা’র দিনকে বিশেষ কোনো সালাত ও সাওমের জন্য নির্দিষ্ট করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘অন্যান্য দিনসমূহের মধ্যে জুমা’র দিনকে বিশেষ কোনো সাওমের জন্য এবং জুমা’র রাতকে বিশেষ কোনো সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করো না। তবে যদি তোমাদের কারো কোনো (নফল) সাওমের দিন সেই দিনেই পড়ে যায় (তাহলে তাতে কোনো আপত্তি নেই)।’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘তোমাদের কেউ জুমা’র দিনে রোজা রেখো না। তবে তার আগের একদিন অথবা পরের একদিনসহ রাখতে পার।’

জুমা’র সালাত সম্পর্কে বিভিন্ন আহকাম-

(১) যে ব্যক্তি জুমা’র সালাতের এক রাকাত পেল সে জুমা’র সালাত পেল:

সুতরাং যদি কেউ এক রাকাত পায় তাহলে সে তার সঙ্গে অপর রাকাত মিলাবে, আর যদি এক রাকাতের চেয়ে কম পায় তাহলে সে যোহর আদায় করবে।

ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যদি তুমি জুমা’র সালাতের এক রাক‘আত পাও, তাহলে তার সঙ্গে অপর এক রাকাত মিলিয়ে পড়। আর যদি তুমি রুকুও না পাও, তাহলে চার রাকাত (যোহর) আদায় করে নাও।

(২) (মসজিদে) ঝিমুনি আসলে জায়গা পরিবর্তন করে বসা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জুমা’র দিন (মসজিদে) তোমাদের কারো ঝিমুনি আসলে সে যেন তার জায়গা পরিবর্তন করে বসে।’

(৩) কোনো শর‘ঈ ওযর যেমন অসুস্থতা অথবা অন্য কোনো কারণে কেউ জুমাতে হাজির হতে না পারলে যোহরের সালাত আদায় করবে:

এভাবে মহিলাগণ, মুসাফির ও লোকালয়ের বাইরের অধিবাসীগণ যোহর আদায় করবেন। এর দলীল হাদীসে রয়েছে এবং এটাই হলো অধিকাংশ আলেমের মত।

(৪) যে ব্যক্তি সফরে থাকবে তার ওপর জুমা’র সালাত ফরজ নয়:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে জুমা’র সালাত পড়তেন না। তাঁর বিদায় হজের ‘আরাফার দিন জুমা’র দিন ছিল, কিন্তু তিনি সেখানে জুমা’র সালাত পড়েন নি; বরং যোহর ও আছরের সালাত যোহরের সময়ে একত্রে আদায় করেছেন। এভাবে তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনও করেছেন।

(৫) জুমা’র সালাত শহরে ও গ্রামে উভয় স্থানেই কায়েম হতে পারে:

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদের পরে যেখানে সর্বপ্রথম জুমা’র সালাত কায়েম হয়েছে তা হলো আব্দুল কায়েস গোত্রের মসজিদে। আর তা ছিল বাহরাইনের ‘জুওয়াছা’ নামক স্থানে।

‘জুওয়াছা’ হলো আব্দুল কায়েস গোত্রের একটি অন্যতম গ্রাম।

সকল প্রশংসা আল্লাহর, সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁর সঠিক অনুসারীদের ওপর। আল্লাহুম্মা আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে