আজ ২৪তম তারাবি: আয়াত, বিষয়বস্তু ও অর্থ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আজ ২৪তম তারাবি: আয়াত, বিষয়বস্তু ও অর্থ

মাওলানা ওমর শাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫১ ১৭ মে ২০২০  

‘তোমরা ন্যায্য ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিয়ো না।’ (সূরা: আর-রহমান, আয়াত: ৯)

‘তোমরা ন্যায্য ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিয়ো না।’ (সূরা: আর-রহমান, আয়াত: ৯)

আজ ২৪তম তারাবিতে সূরা জারিয়াতের ২য় ও ৩য় রুকু (আয়াত ৩১-৬০), সূরা তুরের ১ম ও ২য় রুকু (আয়াত ১-৪৯), সূরা নাজমের ১ম থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৬২) পর্যন্ত, সূরা কামারের ১ম থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৫৫) পর্যন্ত, সূরা আর-রহমানের ১ম থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৭৮) পর্যন্ত, সূরা ওয়াকেয়ার ১ম থেকে (আয়াত ১-৯৬) ৩য় রুকু পর্যন্ত এবং সূরা হাদিদের ১ম থেকে (আয়াত ১-২৯) ৪র্থ রুকু পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৭তম পারা।

সূরা জারিয়াত (আয়াত ৩১-৬০):

২য় রুকুতে (আয়াত ৩১-৪৬) ফেরাউন সম্প্রদায়, আদ ও সামুদ জাতি এবং হজরত নুহ ও লুত (আ.) এর সম্প্রদায়ের কী পরিণতি হয়েছিল তা তুলে ধরা হয়েছে।

৩য় রুকুতে (আয়াত ৪৭-৬০) আসমান-জমিন সৃষ্টির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। তারপর জিন ও মানবজাতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার জন্য। প্রত্যেকের রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার ওপর। তবে যারা কুফর ও শিরকে লিপ্ত হবে, অচিরেই তাদের ওপর অবধারিত আজাব নেমে আসবে।

সূরা তুর (আয়াত ১-৪৯):

১ম রুকুতে (আয়াত ১-২৮) জাহান্নামের ভয়াবহতা এবং জান্নাতে মুত্তাকিদের পুরস্কার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ২৯-৪৯) রাসূল (সা.) এর দাওয়াতের বিপরীতে মুশরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের এসব আচরণে দমে না গিয়ে রাসূলকে (সা.) দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূরা নাজম (আয়াত ১-৬২):

১ম রুকুতে (আয়াত ১-২৫) রাসূল (সা.) এর সত্যবাদিতা এবং মেরাজের বিবরণ রয়েছে। তারপর যারা মূর্তিপূজা করে, ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা সাব্যস্ত করে তাদের নিন্দা করা হয়েছে।

২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ২৬-৬২) কেয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে সব কিছুর চূড়ান্ত ফায়সালা হবে। তারপর বলা হয়েছে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকেই নিজ কৃতকর্মের জিম্মাদার। কারো গুনাহের বোঝা অপরের কাঁধে চাপানো হবে না। সবশেষে আল্লাহর তায়ালার কুদরত সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

সূরা কামার (আয়াত ১-৫৫):

১ম রুকুতে (আয়াত ১-২২) বলা হয়েছে কেয়ামত অতি সন্নিকটে। তারপর রাসূল (সা.) এর বিশেষ মুজেজা অর্থাৎ হাতের ইশারায় চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ২৩-৫৫) আল্লাহর আজাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন জাতির আলোচনার পর বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে ‘বল, কেমন ছিল আমার সাজা-শাস্তি!’ এ প্রশ্ন করার পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘উপদেশ গ্রহণ করার জন্য আমি কোরআন শরিফ সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং আছে কি কোনো উপদেশগ্রহীতা?’ মুত্তাকিদের উত্তম পরিণতি, আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তি এবং সম্মানজনক আবাসস্থল লাভের সুসংবাদ শোনানো হয়েছে।

সূরা আর-রহমান (আয়াত ১-৭৮):

সূরা আর-রাহমানে ৩টি রুকু ও ৭৮টি আয়াত রয়েছে। পুরো সূরায় দুনিয়া-আখিরাতের বিভিন্ন নেয়ামতের বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচয়ে বড় নেয়ামত হলো পবিত্র কোরআন। জাগতিক কোনো নেয়ামতের সঙ্গে এর তুলনা হতে পারে না। দুনিয়া-আখেরাতের নেয়ামতরাজির বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা মোট ৩১ বার প্রশ্ন করেছেন, ‘অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামত আস্বীকার করবে?’ আরো বলা হয়েছে তোমার প্রতিপালকের নাম খুবই বরকতময়, তিনি মহান এবং মহিমাময়। আহলে ইলম এবং জ্ঞানীজনরা বলেন, এখানে ‘নাম’ দ্বারা সূরার সূচনায় উল্লেখিত ‘রহমান’ নামটিই উদ্দেশ্য।

সূরা ওয়াকেয়া (আয়াত ১-৯৬):

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৩৮) কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়ের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। জান্নাতের বিভিন্ন নেয়ামত সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।

২য় রুকুতে (আয়াত ৩৯-৭৪) আল্লাহর অস্তিত্ব, একত্ববাদ এবং পূর্ণ কুদরত ও ক্ষমতার প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশের বিবরণ দেয়া হয়েছে। তারপর পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্যের বিবরণ রয়েছে।

৩য় রুকুতে (আয়াত ৭৫-৯৬) বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত জান্নাতি, সাধারণ জান্নাতি এবং কাফের কেয়ামতের দিনের এই তিন শ্রেণির মানুষের অবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

সূরা হাদিদ (আয়াত ১-২৯):

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) বলা হয়েছে মহাবিশ্বে যা কিছু আছে সব কিছু আল্লাহর। তিনি সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক। সৃষ্টির সবকিছুই তার প্রশংসা করে।

২য় রুকুতে (আয়াত ১১-১৯) হাশরের মাঠে মুনাফিকদের কী করুণ পরিণতি হবে সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

৩য় ও ৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২০-২৯) আল্লাহ তায়ালা মানুষের সামনে দুনিয়ার হকিকত তুলে ধরেছেন, যেন মানুষ দুনিয়ার বাহ্যিক মোহ ও সৌন্দর্য দেখে ধোঁকায় না পড়ে। তারপর যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে তাদের জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান এবং পথচলার নুর ও আলোর সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে।

আজকের পঠিতব্য আয়াত ও অর্থ-

সূরা জারিয়াত (আয়াত ৩১-৬০):

قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ
ইব্রাহীম বলল: হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কি? [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩১ ]

قَالُوا إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَى قَوْمٍ مُّجْرِمِينَ
তারা বলল: আমরা এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি, [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩২ ]

لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِّن طِينٍ
যাতে তাদের উপর মাটির ঢিলা নিক্ষেপ করি। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩৩ ]

مُسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِينَ
যা সীমাতিক্রমকারীদের জন্যে আপনার পালনকর্তার কাছে চিহ্নিত আছে। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩৪ ]

فَأَخْرَجْنَا مَن كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
অতঃপর সেখানে যারা ঈমানদার ছিল, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩৫ ]

فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ
এবং সেখানে একটি গৃহ ব্যতীত কোন মুসলমান আমি পাইনি। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩৬ ]

وَتَرَكْنَا فِيهَا آيَةً لِّلَّذِينَ يَخَافُونَ الْعَذَابَ الْأَلِيمَ
যারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে ভয় করে, আমি তাদের জন্যে সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩৭ ]

وَفِي مُوسَى إِذْ أَرْسَلْنَاهُ إِلَى فِرْعَوْنَ بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
এবং নিদর্শন রয়েছে মূসার বৃত্তান্তে; যখন আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরাউনের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩৮ ]

فَتَوَلَّى بِرُكْنِهِ وَقَالَ سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
অতঃপর সে শক্তিবলে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বললঃ সে হয় যাদুকর, না হয় পাগল। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৩৯ ]

فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ وَهُوَ مُلِيمٌ
অতঃপর আমি তাকে ও তার সেনাবাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে ছিল অভিযুক্ত। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪০ ]

وَفِي عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ
এবং নিদর্শন রয়েছে তাদের কাহিনীতে; যখন আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম অশুভ বায়ু। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪১ ]

مَا تَذَرُ مِن شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيمِ
এই বায়ু যার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলঃ তাকেই চুর্ণ-বিচুর ্ণ করে দিয়েছিল। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪২ ]

وَفِي ثَمُودَ إِذْ قِيلَ لَهُمْ تَمَتَّعُوا حَتَّى حِينٍ
আরও নিদর্শন রয়েছে সামূদের ঘটনায়; যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, কিছুকাল মজা লুটে নাও। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪৩ ]

فَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ وَهُمْ يَنظُرُونَ
অতঃপর তারা তাদের পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল এবং তাদের প্রতি বজ্রঘাত হল এমতাবস্থায় যে, তারা তা দেখেছিল। [ সূরা যারিয়াত ৫১:৪৪ ]

فَمَا اسْتَطَاعُوا مِن قِيَامٍ وَمَا كَانُوا مُنتَصِرِينَ
অতঃপর তারা দাঁড়াতে সক্ষম হল না এবং কোন প্রতিকারও করতে পারল না। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪৫ ]

وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
আমি ইতিপূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি। নিশ্চিতই তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪৬ ]

وَالسَّمَاء بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ
আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪৭ ]

وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَا فَنِعْمَ الْمَاهِدُونَ
আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪৮ ]

وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৪৯ ]

فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তাঁর তরফ থেকে তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট সতর্ককারী। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫০ ]

وَلَا تَجْعَلُوا مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
তোমরা আল্লাহর সাথে কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫১ ]

كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
এমনিভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রসূল আগমন করেছে, তারা বলছেঃ যাদুকর, না হয় উম্মাদ। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫২ ]

أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ
তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছে? বস্তুতঃ ওরা দুষ্ট সম্প্রদায়। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫৩ ]

فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَا أَنتَ بِمَلُومٍ
অতএব, আপনি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। এতে আপনি অপরাধী হবেন না। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫৪ ]

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ
এবং বোঝাতে থাকুন; কেননা, বোঝানো মুমিনদের উপকারে আসবে। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫৫ ]

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫৬ ]

مَا أُرِيدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَن يُطْعِمُونِ
আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫৭ ]

إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
আল্লাহ তা'আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫৮ ]

فَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذَنُوبًا مِّثْلَ ذَنُوبِ أَصْحَابِهِمْ فَلَا يَسْتَعْجِلُونِ
অতএব, এই যালেমদের প্রাপ্য তাই, যা ওদের অতীত সহচরদের প্রাপ্য ছিল। কাজেই ওরা যেন আমার কাছে তা তাড়াতাড়ি না চায়। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫৯ ]

فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِن يَوْمِهِمُ الَّذِي يُوعَدُونَ
অতএব, কাফেরদের জন্যে দুর্ভোগ সেই দিনের, যেদিনের প্রতিশ্রুতি ওদেরকে দেয়া হয়েছে। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৬০ ]

সূরা তুর (আয়াত ১-৪৯):

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

وَالطُّورِ
কসম তূরপর্বতের, [ সূরা তুর ৫২:১ ]

وَكِتَابٍ مَّسْطُورٍ
এবং লিখিত কিতাবের, [ সূরা তুর ৫২:২ ]

فِي رَقٍّ مَّنشُورٍ
প্রশস্ত পত্রে, [ সূরা তুর ৫২:৩ ]

وَالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ
কসম বায়তুল-মামুর তথা আবাদ গৃহের, [ সূরা তুর ৫২:৪ ]

وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ
এবং সমুন্নত ছাদের, [ সূরা তুর ৫২:৫ ]

وَالْبَحْرِ الْمَسْجُورِ
এবং উত্তাল সমুদ্রের, [ সূরা তুর ৫২:৬ ]

إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ
আপনার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যম্ভাবী, [ সূরা তুর ৫২:৭ ]

مَا لَهُ مِن دَافِعٍ
তা কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না। [ সূরা তুর ৫২:৮ ]

يَوْمَ تَمُورُ السَّمَاء مَوْرًا
সেদিন আকাশ প্রকম্পিত হবে প্রবলভাবে। [ সূরা তুর ৫২:৯ ]

وَتَسِيرُ الْجِبَالُ سَيْرًا
এবং পর্বতমালা হবে চলমান, [ সূরা তুর ৫২:১০ ]

فَوَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ
সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে, [ সূরা তুর ৫২:১১ ]

الَّذِينَ هُمْ فِي خَوْضٍ يَلْعَبُونَ
যারা ক্রীড়াচ্ছলে মিছেমিছি কথা বানায়। [ সূরা তুর ৫২:১২ ]

يَوْمَ يُدَعُّونَ إِلَى نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا
সেদিন তোমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে। [ সূরা তুর ৫২:১৩ ]

هَذِهِ النَّارُ الَّتِي كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ
এবং বলা হবেঃ এই সেই অগ্নি, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে, [ সূরা তুর ৫২:১৪ ]

أَفَسِحْرٌ هَذَا أَمْ أَنتُمْ لَا تُبْصِرُونَ
এটা কি জাদু, না তোমরা চোখে দেখছ না? [ সূরা তুর ৫২:১৫ ]

اصْلَوْهَا فَاصْبِرُوا أَوْ لَا تَصْبِرُوا سَوَاء عَلَيْكُمْ إِنَّمَا تُجْزَوْنَ مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
এতে প্রবেশ কর অতঃপর তোমরা সবর কর অথবা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে। [ সূরা তুর ৫২:১৬ ]

إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَعِيمٍ
নিশ্চয় খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নেয়ামতে। [ সূরা তুর ৫২:১৭ ]

فَاكِهِينَ بِمَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ وَوَقَاهُمْ رَبُّهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
তারা উপভোগ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদের দেবেন এবং তিনি জাহান্নামের আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা করবেন। [ সূরা তুর ৫২:১৮ ]

كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর। [ সূরা তুর ৫২:১৯ ]

مُتَّكِئِينَ عَلَى سُرُرٍ مَّصْفُوفَةٍ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِينٍ
তারা শ্রেণীবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আমি তাদেরকে আয়তলোচনা হুরদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দেব। [ সূরা তুর ৫২:২০ ]

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُم مِّنْ عَمَلِهِم مِّن شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ
যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃত কর্মের জন্য দায়ী। [ সূরা তুর ৫২:২১ ]

وَأَمْدَدْنَاهُم بِفَاكِهَةٍ وَلَحْمٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ
আমি তাদেরকে দেব ফল-মূল এবং মাংস যা তারা চাইবে। [ সূরা তুর ৫২:২২ ]

يَتَنَازَعُونَ فِيهَا كَأْسًا لَّا لَغْوٌ فِيهَا وَلَا تَأْثِيمٌ
সেখানে তারা একে অপরকে পানপাত্র দেবে; যাতে অসার বকাবকি নেই এবং পাপকর্মও নেই। [ সূরা তুর ৫২:২৩ ]

وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَّكْنُونٌ
সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে। [ সূরা তুর ৫২:২৪ ]

وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءلُونَ
তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। [ সূরা তুর ৫২:২৫ ]

قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ
তারা বলবেঃ আমরা ইতিপূর্বে নিজেদের বাসগৃহে ভীত-কম্পিত ছিলাম। [ সূরা তুর ৫২:২৬ ]

فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ
অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। [ সূরা তুর ৫২:২৭ ]

إِنَّا كُنَّا مِن قَبْلُ نَدْعُوهُ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ
আমরা পূর্বেও আল্লাহকে ডাকতাম। তিনি সৌজন্যশীল, পরম দয়ালু। [ সূরা তুর ৫২:২৮ ]

فَذَكِّرْ فَمَا أَنتَ بِنِعْمَتِ رَبِّكَ بِكَاهِنٍ وَلَا مَجْنُونٍ
অতএব, আপনি উপদেশ দান করুন। আপনার পালনকর্তার কৃপায় আপনি অতীন্দ্রিয়বাদী নন এবং উম্মাদও নন। [ সূরা তুর ৫২:২৯ ]

أَمْ يَقُولُونَ شَاعِرٌ نَّتَرَبَّصُ بِهِ رَيْبَ الْمَنُونِ
তারা কি বলতে চায়ঃ সে একজন কবি আমরা তার মৃত্যু-দুর্ ঘটনার প্রতীক্ষা করছি। [ সূরা তুর ৫২:৩০ ]

قُلْ تَرَبَّصُوا فَإِنِّي مَعَكُم مِّنَ الْمُتَرَبِّصِينَ
বলুনঃ তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষারত আছি। [ সূরা তুর ৫২:৩১ ]

أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلَامُهُم بِهَذَا أَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ
তাদের বুদ্ধি কি এ বিষয়ে তাদেরকে আদেশ করে, না তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়? [ সূরা তুর ৫২:৩২ ]

أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَل لَّا يُؤْمِنُونَ
না তারা বলেঃ এই কোরআন সে নিজে রচনা করেছে? বরং তারা অবিশ্বাসী। [ সূরা তুর ৫২:৩৩ ]

فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِّثْلِهِ إِن كَانُوا صَادِقِينَ
যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবেএর অনুরূপ কোন রচনা উপস্থিত করুক। [ সূরা তুর ৫২:৩৪ ]

أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ
তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? [ সূরা তুর ৫২:৩৫ ]

أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَل لَّا يُوقِنُونَ
না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না। [ সূরা তুর ৫২:৩৬ ]

أَمْ عِندَهُمْ خَزَائِنُ رَبِّكَ أَمْ هُمُ الْمُصَيْطِرُونَ
তাদের কাছে কি আপনার পালনকর্তার ভান্ডার রয়েছে, না তারাই সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক? [ সূরা তুর ৫২:৩৭ ]

أَمْ لَهُمْ سُلَّمٌ يَسْتَمِعُونَ فِيهِ فَلْيَأْتِ مُسْتَمِعُهُم بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
না তাদের কোন সিঁড়ি আছে, যাতে আরোহণ করে তারা শ্রবণ করে? থাকলে তাদের শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক। [ সূরা তুর ৫২:৩৮ ]

أَمْ لَهُ الْبَنَاتُ وَلَكُمُ الْبَنُونَ
না তার কন্যা-সন্তান আছে আর তোমাদের আছে পুত্রসন্তান? [ সূরা তুর ৫২:৩৯ ]

أَمْ تَسْأَلُهُمْ أَجْرًا فَهُم مِّن مَّغْرَمٍ مُّثْقَلُونَ
না আপনি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চান যে, তাদের উপর জরিমানার বোঝা চেপে বসে? [ সূরা তুর ৫২:৪০ ]

أَمْ عِندَهُمُ الْغَيْبُ فَهُمْ يَكْتُبُونَ
না তাদের কাছে অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আছে যে, তারাই তা লিপিবদ্ধ করে? [ সূরা তুর ৫২:৪১ ]

أَمْ يُرِيدُونَ كَيْدًا فَالَّذِينَ كَفَرُوا هُمُ الْمَكِيدُونَ
না তারা চক্রান্ত করতে চায়? অতএব যারা কাফের, তারই চক্রান্তের শিকার হবে। [ সূরা তুর ৫২:৪২ ]

أَمْ لَهُمْ إِلَهٌ غَيْرُ اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
না তাদের আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন উপাস্য আছে? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা'আলা তা থেকে পবিত্র। [ সূরা তুর ৫২:৪৩ ]

وَإِن يَرَوْا كِسْفًا مِّنَ السَّمَاء سَاقِطًا يَقُولُوا سَحَابٌ مَّرْكُومٌ
তারা যদি আকাশের কোন খন্ডকে পতিত হতে দেখে, তবে বলে এটা তো পুঞ্জীভুত মেঘ। [ সূরা তুর ৫২:৪৪ ]

فَذَرْهُمْ حَتَّى يُلَاقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِي فِيهِ يُصْعَقُونَ
তাদেরকে ছেড়ে দিন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তাদের উপর বজ্রাঘাত পতিত হবে। [ সূরা তুর ৫২:৪৫ ]

يَوْمَ لَا يُغْنِي عَنْهُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ
সেদিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোন উপকারে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। [ সূরা তুর ৫২:৪৬ ]

وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا عَذَابًا دُونَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
গোনাহগারদের জন্যে এছাড়া আরও শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না। [ সূরা তুর ৫২:৪৭ ]

وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ حِينَ تَقُومُ
আপনি আপনার পালনকর্তার নির্দেশের অপেক্ষায় সবর করুন। আপনি আমার দৃষ্টির সামনে আছেন এবং আপনি আপনার পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ঘোষণা করুন যখন আপনি গাত্রোত্থান করেন। [ সূরা তুর ৫২:৪৮ ]

وَمِنَ اللَّيْلِ فَسَبِّحْهُ وَإِدْبَارَ النُّجُومِ
এবং রাত্রির কিছু অংশে এবং তারকা অস্তমিত হওয়ার সময় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন। [ সূরা তুর ৫২:৪৯ ]

সূরা নাজম (আয়াত ১-৬২):

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى
নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়। [ সূরা নাজম ৫৩:১ ]

مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى
তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। [ সূরা নাজম ৫৩:২ ]

وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى
এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। [ সূরা নাজম ৫৩:৩ ]

إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى
কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়। [ সূরা নাজম ৫৩:৪ ]

عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى
তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা, [ সূরা নাজম ৫৩:৫ ]

ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى
সহজাত শক্তিসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল। [ সূরা নাজম ৫৩:৬ ]

وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى
উর্ধ্ব দিগন্তে, [ সূরা নাজম ৫৩:৭ ]

ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى
অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল। [ সূরা নাজম ৫৩:৮ ]

فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى
তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম। [ সূরা নাজম ৫৩:৯ ]

فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى
তখন আল্লাহ তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন। [ সূরা নাজম ৫৩:১০ ]

مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى
রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে। [ সূরা নাজম ৫৩:১১ ]

أَفَتُمَارُونَهُ عَلَى مَا يَرَى
তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে? [ সূরা নাজম ৫৩:১২ ]

وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى
নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল [ সূরা নাজম ৫৩:১৩ ]

عِندَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى
সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে, [ সূরা নাজম ৫৩:১৪ ]

عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى
যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। [ সূরা নাজম ৫৩:১৫ ]

إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى
যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল। [ সূরা নাজম ৫৩:১৬ ]

مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَى
তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয়নি এবং সীমালংঘনও করেনি। [ সূরা নাজম ৫৩:১৭ ]

لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى
নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে। [ সূরা নাজম ৫৩:১৮ ]

أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى
তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে। [ সূরা নাজম ৫৩:১৯ ]

وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى
এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? [ সূরা নাজম ৫৩:২০ ]

أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَى
পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তা ন আল্লাহর জন্য? [ সূরা নাজম ৫৩:২১ ]

تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَى
এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন। [ সূরা নাজম ৫৩:২২ ]

إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاء سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنفُسُ وَلَقَدْ جَاءهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَى
এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষ দের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে। [ সূরা নাজম ৫৩:২৩ ]

أَمْ لِلْإِنسَانِ مَا تَمَنَّى
মানুষ যা চায়, তাই কি পায়? [ সূরা নাজম ৫৩:২৪ ]

فَلِلَّهِ الْآخِرَةُ وَالْأُولَى
অতএব, পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সব মঙ্গলই আল্লাহর হাতে। [ সূরা নাজম ৫৩:২৫ ]

وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَن يَشَاء وَيَرْضَى
আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন। [ সূরা নাজম ৫৩:২৬ ]

إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلَائِكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَى
যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে। [ সূরা নাজম ৫৩:২৭ ]

وَمَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়। [ সূরা নাজম ৫৩:২৮ ]

فَأَعْرِضْ عَن مَّن تَوَلَّى عَن ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে তার তরফ থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিন। [ সূরা নাজম ৫৩:২৯ ]

ذَلِكَ مَبْلَغُهُم مِّنَ الْعِلْمِ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدَى
তাদের জ্ঞানের পরিধি এ পর্যন্তই। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ভাল জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে। [ সূরা নাজম ৫৩:৩০ ]

وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاؤُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর, যাতে তিনি মন্দকর্মীদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেন এবং সৎকর্মীদেরকে দেন ভাল ফল। [ সূরা নাজম ৫৩:৩১ ]

الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى
যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী। [ সূরা নাজম ৫৩:৩২ ]

أَفَرَأَيْتَ الَّذِي تَوَلَّى
আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়। [ সূরা নাজম ৫৩:৩৩ ]

وَأَعْطَى قَلِيلًا وَأَكْدَى
এবং দেয় সামান্যই ও পাষাণ হয়ে যায়। [ সূরা নাজম ৫৩:৩৪ ]

أَعِندَهُ عِلْمُ الْغَيْبِ فَهُوَ يَرَى
তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে দেখে? [ সূরা নাজম ৫৩:৩৫ ]

أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِي صُحُفِ مُوسَى
তাকে কি জানানো হয়নি যা আছে মূসার কিতাবে, [ সূরা নাজম ৫৩:৩৬ ]

وَإِبْرَاهِيمَ الَّذِي وَفَّى
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে তার দায়িত্ব পালন করেছিল? [ সূরা নাজম ৫৩:৩৭ ]

أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى
কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না। [ সূরা নাজম ৫৩:৩৮ ]

وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى
এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে, [ সূরা নাজম ৫৩:৩৯ ]

وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ يُرَى
তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে। [ সূরা নাজম ৫৩:৪০ ]

ثُمَّ يُجْزَاهُ الْجَزَاء الْأَوْفَى
অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। [ সূরা নাজম ৫৩:৪১ ]

وَأَنَّ إِلَى رَبِّكَ الْمُنتَهَى
তোমার পালনকর্তার কাছে সবকিছুর সমাপ্তি, [ সূরা নাজম ৫৩:৪২ ]

وَأَنَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى
এবং তিনিই হাসান ও কাঁদান [ সূরা নাজম ৫৩:৪৩ ]

وَأَنَّهُ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا
এবং তিনিই মারেন ও বাঁচান, [ সূরা নাজম ৫৩:৪৪ ]

وَأَنَّهُ خَلَقَ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنثَى
এবং তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী। [ সূরা নাজম ৫৩:৪৫ ]

مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَى
একবিন্দু বীর্য থেকে যখন স্খলিত করা হয়। [ সূরা নাজম ৫৩:৪৬ ]

وَأَنَّ عَلَيْهِ النَّشْأَةَ الْأُخْرَى
পুনরুত্থানের দায়িত্ব তাঁরই, [ সূরা নাজম ৫৩:৪৭ ]

وَأَنَّهُ هُوَ أَغْنَى وَأَقْنَى
এবং তিনিই ধনবান করেন ও সম্পদ দান করেন। [ সূরা নাজম ৫৩:৪৮ ]

وَأَنَّهُ هُوَ رَبُّ الشِّعْرَى
তিনি শিরা নক্ষত্রের মালিক। [ সূরা নাজম ৫৩:৪৯ ]

وَأَنَّهُ أَهْلَكَ عَادًا الْأُولَى
তিনিই প্রথম আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন, [ সূরা নাজম ৫৩:৫০ ]

وَثَمُودَ فَمَا أَبْقَى
এবং সামুদকেও; অতঃপর কাউকে অব্যহতি দেননি। [ সূরা নাজম ৫৩:৫১ ]

وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَى
এবং তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, তারা ছিল আরও জালেম ও অবাধ্য। [ সূরা নাজম ৫৩:৫২ ]

وَالْمُؤْتَفِكَةَ أَهْوَى
তিনিই জনপদকে শুন্যে উত্তোলন করে নিক্ষেপ করেছেন। [ সূরা নাজম ৫৩:৫৩ ]

فَغَشَّاهَا مَا غَشَّى
অতঃপর তাকে আচ্ছন্ন করে নেয় যা আচ্ছন্ন করার। [ সূরা নাজম ৫৩:৫৪ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكَ تَتَمَارَى
অতঃপর তুমি তোমার পালনকর্তার কোন অনুগ্রহকে মিথ্যা বলবে? [ সূরা নাজম ৫৩:৫৫ ]

هَذَا نَذِيرٌ مِّنَ النُّذُرِ الْأُولَى
অতীতের সতর্ককারীদের মধ্যে সে-ও একজন সতর্ককারী। [ সূরা নাজম ৫৩:৫৬ ]

أَزِفَتْ الْآزِفَةُ
কেয়ামত নিকটে এসে গেছে। [ সূরা নাজম ৫৩:৫৭ ]

لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ اللَّهِ كَاشِفَةٌ
আল্লাহ ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়। [ সূরা নাজম ৫৩:৫৮ ]

أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ
তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ? [ সূরা নাজম ৫৩:৫৯ ]

وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ
এবং হাসছ-ক্রন্দ ন করছ না? [ সূরা নাজম ৫৩:৬০ ]

وَأَنتُمْ سَامِدُونَ
তোমরা ক্রীড়া-কৌতুক করছ, [ সূরা নাজম ৫৩:৬১ ]

فَاسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا
অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর। [ সূরা নাজম ৫৩:৬২ ]

সূরা কামার (আয়াত ১-৫৫):

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانشَقَّ الْقَمَرُ
কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১ ]

وَإِن يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُّسْتَمِرٌّ
তারা যদি কোন নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাগত জাদু। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২ ]

وَكَذَّبُوا وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءهُمْ وَكُلُّ أَمْرٍ مُّسْتَقِرٌّ
তারা মিথ্যারোপ করছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশী র অনুসরণ করছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরীকৃত হয়। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩ ]

وَلَقَدْ جَاءهُم مِّنَ الْأَنبَاء مَا فِيهِ مُزْدَجَرٌ
তাদের কাছে এমন সংবাদ এসে গেছে, যাতে সাবধানবাণী রয়েছে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪ ]

حِكْمَةٌ بَالِغَةٌ فَمَا تُغْنِ النُّذُرُ
এটা পরিপূর্ণ জ্ঞান, তবে সতর্ককারীগণ তাদের কোন উপকারে আসে না। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৫ ]

فَتَوَلَّ عَنْهُمْ يَوْمَ يَدْعُ الدَّاعِ إِلَى شَيْءٍ نُّكُرٍ
অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। যেদিন আহবানকারী আহবান করবে এক অপ্রিয় পরিণামের দিকে, [ সূরা ক্বামার ৫৪:৬ ]

خُشَّعًا أَبْصَارُهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادٌ مُّنتَشِرٌ
তারা তখন অবনমিত নেত্রে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পংগপাল সদৃশ। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৭ ]

مُّهْطِعِينَ إِلَى الدَّاعِ يَقُولُ الْكَافِرُونَ هَذَا يَوْمٌ عَسِرٌ
তারা আহবানকারীর দিকে দৌড়াতে থাকবে। কাফেরা বলবেঃ এটা কঠিন দিন। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৮ ]

كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ فَكَذَّبُوا عَبْدَنَا وَقَالُوا مَجْنُونٌ وَازْدُجِرَ
তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও মিথ্যারোপ করেছিল। তারা মিথ্যারোপ করেছিল আমার বান্দা নূহের প্রতি এবং বলেছিলঃ এ তো উম্মাদ। তাঁরা তাকে হুমকি প্রদর্শন করেছিল। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৯ ]

فَدَعَا رَبَّهُ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانتَصِرْ
অতঃপর সে তার পালনকর্তাকে ডেকে বললঃ আমি অক্ষম, অতএব, তুমি প্রতিবিধান কর। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১০ ]

فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاء بِمَاء مُّنْهَمِرٍ
তখন আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারিবর্ষণের মাধ্যমে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১১ ]

وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاء عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ
এবং ভুমি থেকে প্রবাহিত করলাম প্রস্রবণ। অতঃপর সব পানি মিলিত হল এক পরিকম্পিত কাজে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১২ ]

وَحَمَلْنَاهُ عَلَى ذَاتِ أَلْوَاحٍ وَدُسُرٍ
আমি নূহকে আরোহণ করালাম এক কাষ্ঠ ও পেরেক নির্মিত জলযানে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১৩ ]

تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاء لِّمَن كَانَ كُفِرَ
যা চলত আমার দৃষ্টি সামনে। এটা তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ ছিল, যাকে প্রত্যখ্যান করা হয়েছিল। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১৪ ]

وَلَقَد تَّرَكْنَاهَا آيَةً فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
আমি একে এক নিদর্শনরূপে রেখে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? [ সূরা ক্বামার ৫৪:১৫ ]

فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِي وَنُذُرِ
কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১৬ ]

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? [ সূরা ক্বামার ৫৪:১৭ ]

كَذَّبَتْ عَادٌ فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِي وَنُذُرِ
আদ সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, অতঃপর কেমন কঠোর হয়েছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১৮ ]

إِنَّا أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي يَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ
আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্জাবায়ু এক চিরাচরিত অশুভ দিনে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১৯ ]

تَنزِعُ النَّاسَ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ مُّنقَعِرٍ
তা মানুষকে উৎখাত করছিল, যেন তারা উৎপাটিত খর্জুর বৃক্ষের কান্ড। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২০ ]

فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِي وَنُذُرِ
অতঃপর কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২১ ]

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? [ সূরা ক্বামার ৫৪:২২ ]

كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِالنُّذُرِ
সামুদ সম্প্রদায় সতর্ককারীদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২৩ ]

فَقَالُوا أَبَشَرًا مِّنَّا وَاحِدًا نَّتَّبِعُهُ إِنَّا إِذًا لَّفِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ
তারা বলেছিলঃ আমরা কি আমাদেরই একজনের অনুসরণ করব? তবে তো আমরা বিপথগামী ও বিকার গ্রস্থরূপে গণ্য হব। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২৪ ]

أَأُلْقِيَ الذِّكْرُ عَلَيْهِ مِن بَيْنِنَا بَلْ هُوَ كَذَّابٌ أَشِرٌ
আমাদের মধ্যে কি তারই প্রতি উপদেশ নাযিল করা হয়েছে? বরং সে একজন মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২৫ ]

سَيَعْلَمُونَ غَدًا مَّنِ الْكَذَّابُ الْأَشِرُ
এখন আগামীকল্যই তারা জানতে পারবে কে মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২৬ ]

إِنَّا مُرْسِلُو النَّاقَةِ فِتْنَةً لَّهُمْ فَارْتَقِبْهُمْ وَاصْطَبِرْ
আমি তাদের পরীক্ষার জন্য এক উষ্ট্রী প্রেরণ করব, অতএব, তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখ এবং সবর কর। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২৭ ]

وَنَبِّئْهُمْ أَنَّ الْمَاء قِسْمَةٌ بَيْنَهُمْ كُلُّ شِرْبٍ مُّحْتَضَرٌ
এবং তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানির পালা নির্ধারিত হয়েছে এবং পালাক্রমে উপস্থিত হতে হবে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২৮ ]

فَنَادَوْا صَاحِبَهُمْ فَتَعَاطَى فَعَقَرَ
অতঃপর তারা তাদের সঙ্গীকে ডাকল। সে তাকে ধরল এবং বধ করল। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২৯ ]

فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِي وَنُذُرِ
অতঃপর কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩০ ]

إِنَّا أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ صَيْحَةً وَاحِدَةً فَكَانُوا كَهَشِيمِ الْمُحْتَظِرِ
আমি তাদের প্রতি একটিমাত্র নিনাদ প্রেরণ করেছিলাম। এতেই তারা হয়ে গেল শুষ্ক শাখাপল্লব নির্মিত দলিত খোয়াড়ের ন্যায়। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩১ ]

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
আমি কোরআনকে বোঝার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩২ ]

كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ بِالنُّذُرِ
লূত-সম্প্রদায় সতর্ককারীদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩৩ ]

إِنَّا أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ حَاصِبًا إِلَّا آلَ لُوطٍ نَّجَّيْنَاهُم بِسَحَرٍ
আমি তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম প্রস্তর বর্ষণকারী প্রচন্ড ঘূর্ণিবায়ু; কিন্তু লূত পরিবারের উপর নয়। আমি তাদেরকে রাতের শেষপ্রহরে উদ্ধার করেছিলাম। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩৪ ]

نِعْمَةً مِّنْ عِندِنَا كَذَلِكَ نَجْزِي مَن شَكَرَ
আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ। যারা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে, আমি তাদেরকে এভাবে পুরস্কৃত করে থকি। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩৫ ]

وَلَقَدْ أَنذَرَهُم بَطْشَتَنَا فَتَمَارَوْا بِالنُّذُرِ
লূত (আঃ) তাদেরকে আমার প্রচন্ড পাকড়াও সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। অতঃপর তারা সতর্কবাণী সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করেছিল। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩৬ ]

وَلَقَدْ رَاوَدُوهُ عَن ضَيْفِهِ فَطَمَسْنَا أَعْيُنَهُمْ فَذُوقُوا عَذَابِي وَنُذُرِ
তারা লূতের (আঃ) কাছে তার মেহমানদেরকে দাবী করেছিল। তখন আমি তাদের চক্ষু লোপ করে দিলাম। অতএব, আস্বাদন কর আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩৭ ]

وَلَقَدْ صَبَّحَهُم بُكْرَةً عَذَابٌ مُّسْتَقِرٌّ
তাদেরকে প্রত্যুষে নির্ধারিত শাস্তি আঘাত হেনেছিল। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩৮ ]

فَذُوقُوا عَذَابِي وَنُذُرِ
অতএব, আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী আস্বাদন কর। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩৯ ]

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
আমি কোরআনকে বোঝবার জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪০ ]

وَلَقَدْ جَاء آلَ فِرْعَوْنَ النُّذُرُ
ফেরাউন সম্প্রদায়ের কাছেও সতর্ককারীগণ আগমন করেছিল। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪১ ]

كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا كُلِّهَا فَأَخَذْنَاهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍ مُّقْتَدِرٍ
তারা আমার সকল নিদর্শনের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর আমি পরাভূতকারী, পরাক্রমশালীর ন্যায় তাদেরকে পাকড়াও করলাম। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪২ ]

أَكُفَّارُكُمْ خَيْرٌ مِّنْ أُوْلَئِكُمْ أَمْ لَكُم بَرَاءةٌ فِي الزُّبُرِ
তোমাদের মধ্যকার কাফেররা কি তাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ? না তোমাদের মুক্তির সনদপত্র রয়েছে কিতাবসমূহে? [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪৩ ]

أَمْ يَقُولُونَ نَحْنُ جَمِيعٌ مُّنتَصِرٌ
না তারা বলে যে, আমারা এক অপরাজেয় দল? [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪৪ ]

سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ
এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪৫ ]

بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ
বরং কেয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কেয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪৬ ]

إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ
নিশ্চয় অপরাধীরা পথভ্রষ্ট ও বিকারগ্রস্ত। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪৭ ]

يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ
যেদিন তাদেরকে মুখ হিঁচড়ে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামে, বলা হবেঃ অগ্নির খাদ্য আস্বাদন কর। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪৮ ]

إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ
আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৪৯ ]

وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَاحِدَةٌ كَلَمْحٍ بِالْبَصَرِ
আমার কাজ তো এক মুহূর্তে চোখের পলকের মত। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৫০ ]

وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا أَشْيَاعَكُمْ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
আমি তোমাদের সমমনা লোকদেরকে ধ্বংস করেছি, অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি? [ সূরা ক্বামার ৫৪:৫১ ]

وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ فِي الزُّبُرِ
তারা যা কিছু করেছে, সবই আমলনামায় লিপিবদ্ধ আছে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৫২ ]

وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُسْتَطَرٌ
ছোট ও বড় সবই লিপিবদ্ধ। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৫৩ ]

إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ
খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নির্ঝরিণীতে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৫৪ ]

فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍ
যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৫৫ ]

সূরা আর-রহমান (আয়াত ১-৭৮):

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

الرَّحْمَنُ
করুনাময় আল্লাহ। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১ ]

عَلَّمَ الْقُرْآنَ
শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২ ]

خَلَقَ الْإِنسَانَ
সৃষ্টি করেছেন মানুষ, [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩ ]

عَلَّمَهُ الْبَيَانَ
তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪ ]

الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ
সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমত চলে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫ ]

وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ
এবং তৃণলতা ও বৃক্ষাদি সেজদারত আছে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬ ]

وَالسَّمَاء رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ
তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন তুলাদন্ড। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭ ]

أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيزَانِ
যাতে তোমরা সীমালংঘন না কর তুলাদন্ডে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৮ ]

وَأَقِيمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيزَانَ
তোমরা ন্যায্য ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিয়ো না। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৯ ]

وَالْأَرْضَ وَضَعَهَا لِلْأَنَامِ
তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্টজীবের জন্যে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১০ ]

فِيهَا فَاكِهَةٌ وَالنَّخْلُ ذَاتُ الْأَكْمَامِ
এতে আছে ফলমূল এবং বহিরাবরণবিশিষ্ট খর্জুর বৃক্ষ। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১১ ]

وَالْحَبُّ ذُو الْعَصْفِ وَالرَّيْحَانُ
আর আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১২ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১৩ ]

خَلَقَ الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১৪ ]

وَخَلَقَ الْجَانَّ مِن مَّارِجٍ مِّن نَّارٍ
এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১৫ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১৬ ]

رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ
তিনি দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের মালিক। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১৭ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১৮ ]

مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ
তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:১৯ ]

بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَّا يَبْغِيَانِ
উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২০ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২১ ]

يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ
উভয় দরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় মোতি ও প্রবাল। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২২ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২৩ ]

وَلَهُ الْجَوَارِ الْمُنشَآتُ فِي الْبَحْرِ كَالْأَعْلَامِ
দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তাঁরই (নিয়ন্ত্রন াধীন) [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২৪ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২৫ ]

كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ
ভূপৃষ্টের সবকিছুই ধ্বংসশীল। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২৬ ]

وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২৭ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২৮ ]

يَسْأَلُهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সবাই তাঁর কাছে প্রার্থী। তিনি সর্বদাই কোন না কোন কাজে রত আছেন। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:২৯ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩০ ]

سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَا الثَّقَلَانِ
হে জিন ও মানব! আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্যে কর্মমুক্ত হয়ে যাব। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩১ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩২ ]

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ
হে জিন ও মানবকূল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩৩ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩৪ ]

يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّن نَّارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنتَصِرَانِ
ছাড়া হবে তোমাদের প্রতি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও ধুম্রকুঞ্জ তখন তোমরা সেসব প্রতিহত করতে পারবে না। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩৫ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩৬ ]

فَإِذَا انشَقَّتِ السَّمَاء فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ
যেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে তখন সেটি রক্তবর্ণে রঞ্জিত চামড়ার মত হয়ে যাবে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩৭ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩৮ ]

فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْأَلُ عَن ذَنبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ
সেদিন মানুষ না তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, না জিন। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৩৯ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪০ ]

يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمَاهُمْ فَيُؤْخَذُ بِالنَّوَاصِي وَالْأَقْدَامِ
অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা থেকে; অতঃপর তাদের কপালের চুল ও পা ধরে টেনে নেয়া হবে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪১ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪২ ]

هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ
এটাই জাহান্নাম, যাকে অপরাধীরা মিথ্যা বলত। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪৩ ]

يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ آنٍ
তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে প্রদক্ষিণ করবে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪৪ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪৫ ]

وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দু'টি উদ্যান। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪৬ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪৭ ]

ذَوَاتَا أَفْنَانٍ
উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লববিশিষ্ট। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪৮ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৪৯ ]

فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ
উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবন। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫০ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫১ ]

فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ
উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল বিভিন্ন রকমের হবে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫২ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫৩ ]

مُتَّكِئِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ
তারা তথায় রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫৪ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫৫ ]

فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ
তথায় থাকবে আনতনয়ন রমনীগন, কোন জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫৬ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫৭ ]

كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ
প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫৮ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৫৯ ]

هَلْ جَزَاء الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ
সৎকাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতীত কি হতে পারে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬০ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬১ ]

وَمِن دُونِهِمَا جَنَّتَانِ
এই দু'টি ছাড়া আরও দু'টি উদ্যান রয়েছে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬২ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬৩ ]

مُدْهَامَّتَانِ
কালোমত ঘন সবুজ। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬৪ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬৫ ]

فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ
তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬৬ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬৭ ]

فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ
তথায় আছে ফল-মূল, খর্জুর ও আনার। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬৮ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৬৯ ]

فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ
সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭০ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭১ ]

حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ
তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭২ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭৩ ]

لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ
কোন জিন ও মানব পূর্বে তাদেরকে স্পর্শ করেনি। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭৪ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭৫ ]

مُتَّكِئِينَ عَلَى رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِيٍّ حِسَانٍ
তারা সবুজ মসনদে এবং উৎকৃষ্ট মূল্যবান বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭৬ ]

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭৭ ]

تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
কত পূণ্যময় আপনার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব। [ সূরা আর-রহমান ৫৫:৭৮ ]

সূরা ওয়াকেয়া (আয়াত ১-৯৬): 

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১ ]

لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ
যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২ ]

خَافِضَةٌ رَّافِعَةٌ
এটা নীচু করে দেবে, সমুন্নত করে দেবে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩ ]

إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا
যখন প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪ ]

وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا
এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫ ]

فَكَانَتْ هَبَاء مُّنبَثًّا
অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬ ]

وَكُنتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً

এবং তোমরা তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭ ]

فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ
যারা ডান দিকে, কত ভাগ্যবান তারা। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮ ]

وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ
এবং যারা বামদিকে, কত হতভাগা তারা। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৯ ]

وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ
অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১০ ]

أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ
তারাই নৈকট্যশীল, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১১ ]

فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ
অবদানের উদ্যানসমূহে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১২ ]

ثُلَّةٌ مِّنَ الْأَوَّلِينَ
তারা একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১৩ ]

وَقَلِيلٌ مِّنَ الْآخِرِينَ
এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্যে থেকে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১৪ ]

عَلَى سُرُرٍ مَّوْضُونَةٍ
স্বর্ণ খচিত সিংহাসন। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১৫ ]

مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ
তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১৬ ]

يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُونَ
তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১৭ ]

بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍ
পানপাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১৮ ]

لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং বিকারগ্রস্ত ও হবে না। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:১৯ ]

وَفَاكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ
আর তাদের পছন্দমত ফল-মুল নিয়ে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২০ ]

وَلَحْمِ طَيْرٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ
এবং রুচিমত পাখীর মাংস নিয়ে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২১ ]

وَحُورٌ عِينٌ
তথায় থাকবে আনতনয়না হুরগণ, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২২ ]

كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ
আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২৩ ]

جَزَاء بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তারা যা কিছু করত, তার পুরস্কারস্বরূপ। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২৪ ]

لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا
তারা তথায় অবান্তর ও কোন খারাপ কথা শুনবে না। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২৫ ]

إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا
কিন্তু শুনবে সালাম আর সালাম। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২৬ ]

وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ
যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কত ভাগ্যবান। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২৭ ]

فِي سِدْرٍ مَّخْضُودٍ
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২৮ ]

وَطَلْحٍ مَّنضُودٍ
এবং কাঁদি কাঁদি কলায়, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:২৯ ]

وَظِلٍّ مَّمْدُودٍ
এবং দীর্ঘ ছায়ায়। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩০ ]

وَمَاء مَّسْكُوبٍ
এবং প্রবাহিত পানিতে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩১ ]

وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
ও প্রচুর ফল-মূলে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩২ ]

لَّا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ
যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধ ও নয়, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩৩ ]

وَفُرُشٍ مَّرْفُوعَةٍ
আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩৪ ]

إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاء
আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩৫ ]

فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا
অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩৬ ]

عُرُبًا أَتْرَابًا
কামিনী, সমবয়স্কা। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩৭ ]

لِّأَصْحَابِ الْيَمِينِ
ডান দিকের লোকদের জন্যে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩৮ ]

ثُلَّةٌ مِّنَ الْأَوَّلِينَ
তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৩৯ ]

وَثُلَّةٌ مِّنَ الْآخِرِينَ
এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য থেকে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪০ ]

وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ
বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪১ ]

فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ
তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানিতে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪২ ]

وَظِلٍّ مِّن يَحْمُومٍ
এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪৩ ]

لَّا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ
যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪৪ ]

إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ
তারা ইতিপূর্বে স্বাচ্ছন্দ্যশীল ছিল। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪৫ ]

وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنثِ الْعَظِيمِ
তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪৬ ]

وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
তারা বলতঃ আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হব? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪৭ ]

أَوَ آبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ
এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও! [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪৮ ]

قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ
বলুনঃ পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৪৯ ]

لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫০ ]

ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُّونَ الْمُكَذِّبُونَ
অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫১ ]

لَآكِلُونَ مِن شَجَرٍ مِّن زَقُّومٍ
তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫২ ]

فَمَالِؤُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ
অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫৩ ]

فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ
অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫৪ ]

فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ
পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫৫ ]

هَذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ
কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫৬ ]

نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ
আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫৭ ]

أَفَرَأَيْتُم مَّا تُمْنُونَ
তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫৮ ]

أَأَنتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ
তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৫৯ ]

نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ
আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬০ ]

عَلَى أَن نُّبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ
এ ব্যাপারে যে, তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মত লোককে নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন করে দেই, যা তোমরা জান না। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬১ ]

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى فَلَوْلَا تَذكَّرُونَ
তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬২ ]

أَفَرَأَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ
তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬৩ ]

أَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ
তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী ? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬৪ ]

لَوْ نَشَاء لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ
আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি, অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬৫ ]

إِنَّا لَمُغْرَمُونَ
বলবেঃ আমরা তো ঋণের চাপে পড়ে গেলাম; [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬৬ ]

بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ
বরং আমরা হূত সর্বস্ব হয়ে পড়লাম। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬৭ ]

أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاء الَّذِي تَشْرَبُونَ
তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬৮ ]

أَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنزِلُونَ
তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষন করি? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৬৯ ]

لَوْ نَشَاء جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ
আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭০ ]

أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ
তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭১ ]

أَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنشِؤُونَ
তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি ? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭২ ]

نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِّلْمُقْوِينَ
আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭৩ ]

فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭৪ ]

فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ
অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭৫ ]

وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَّوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ
নিশ্চয় এটা এক মহা শপথ-যদি তোমরা জানতে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭৬ ]

إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ
নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭৭ ]

فِي كِتَابٍ مَّكْنُونٍ
যা আছে এক গোপন কিতাবে, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭৮ ]

لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ
যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭৯ ]

تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ
এটা বিশ্ব-পালনক র্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮০ ]

أَفَبِهَذَا الْحَدِيثِ أَنتُم مُّدْهِنُونَ
তবুও কি তোমরা এই বাণীর প্রতি শৈথিল্য পদর্শন করবে? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮১ ]

وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ
এবং একে মিথ্যা বলাকেই তোমরা তোমাদের ভূমিকায় পরিণত করবে? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮২ ]

فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ
অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৩ ]

وَأَنتُمْ حِينَئِذٍ تَنظُرُونَ
এবং তোমরা তাকিয়ে থাক, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৪ ]

وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنكُمْ وَلَكِن لَّا تُبْصِرُونَ
তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৫ ]

فَلَوْلَا إِن كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ
যদি তোমাদের হিসাব-কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৬ ]

تَرْجِعُونَهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৭ ]

فَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ
যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়; [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৮ ]

فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّةُ نَعِيمٍ
তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নেয়ামতে ভরা উদ্যান। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৯ ]

وَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ أَصْحَابِ الْيَمِينِ
আর যদি সে ডান পার্শ্বস্থদের একজন হয়, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৯০ ]

فَسَلَامٌ لَّكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ
তবে তাকে বলা হবেঃ তোমার জন্যে ডানপার্শ্বসস্থদের পক্ষ থেকে সালাম। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৯১ ]

وَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ
আর যদি সে পথভ্রষ্ট মিথ্যারোপকারীদের একজন হয়, [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৯২ ]

فَنُزُلٌ مِّنْ حَمِيمٍ
তবে তার আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৯৩ ]

وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ
এবং সে নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিতে। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৯৪ ]

إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ
এটা ধ্রুব সত্য। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৯৫ ]

فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৯৬ ]

সূরা হাদিদ (আয়াত ১-২৯):

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি শক্তিধর; প্রজ্ঞাময়। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১ ]

لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২ ]

هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। [ সূরা হাদীদ ৫৭:৩ ]

هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاء وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। [ সূরা হাদীদ ৫৭:৪ ]

لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الأمُورُ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। সবকিছু তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। [ সূরা হাদীদ ৫৭:৫ ]

يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَهُوَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে প্রবিষ্ট করেন রাত্রিতে। তিনি অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত। [ সূরা হাদীদ ৫৭:৬ ]

آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَنفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُم مُّسْتَخْلَفِينَ فِيهِ فَالَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَأَنفَقُوا لَهُمْ أَجْرٌ كَبِيرٌ
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তিনি তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর। অতএব, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ব্যয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। [ সূরা হাদীদ ৫৭:৭ ]

وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ لِتُؤْمِنُوا بِرَبِّكُمْ وَقَدْ أَخَذَ مِيثَاقَكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছ না, অথচ রসূল তোমাদেরকে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত দিচ্ছেন? আল্লাহ তো পূর্বেই তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছেন-যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। [ সূরা হাদীদ ৫৭:৮ ]

هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَكُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَإِنَّ اللَّهَ بِكُمْ لَرَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
তিনিই তাঁর দাসের প্রতি প্রকাশ্য আয়াত অবতীর্ণ করেন, যাতে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে আনয়ন করেন। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু। [ সূরা হাদীদ ৫৭:৯ ]

وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যদা বড় তাদের অপেক্ষা, যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কে কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১০ ]

مَن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ وَلَهُ أَجْرٌ كَرِيمٌ
কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দিবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১১ ]

يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِم بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১২ ]

يَوْمَ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ لِلَّذِينَ آمَنُوا انظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ارْجِعُوا وَرَاءكُمْ فَالْتَمِسُوا نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ
যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১৩ ]

يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا بَلَى وَلَكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْأَمَانِيُّ حَتَّى جَاء أَمْرُ اللَّهِ وَغَرَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ
তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১৪ ]

فَالْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنكُمْ فِدْيَةٌ وَلَا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مَأْوَاكُمُ النَّارُ هِيَ مَوْلَاكُمْ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১৫ ]

أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ
যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১৬ ]

اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
তোমরা জেনে রাখ, আল্লাহই ভূ-ভাগকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন। আমি পরিস্কারভাবে তোমাদের জন্যে আয়াতগুলো ব্যক্ত করেছি, যাতে তোমরা বোঝ। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১৭ ]

إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ
নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১৮ ]

وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاء عِندَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও শহীদ বলে বিবেচিত। তাদের জন্যে রয়েছে পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যারা কাফের ও আমার নিদর্শন অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১৯ ]

اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَاهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌত ুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২০ ]

سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاء وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২১ ]

مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ
পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২২ ]

لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও তজ্জন্যে দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তজ্জন্যে উল্লসিত না হও। আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না, [ সূরা হাদীদ ৫৭:২৩ ]

الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ
যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার প্রতি উৎসাহ দেয়, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২৪ ]

لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ
আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২৫ ]

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِمَا النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ فَمِنْهُم مُّهْتَدٍ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ
আমি নূহ ও ইব্রাহীমকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরের মধ্যে নবুওয়ত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই হয়েছে পাপাচারী। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২৬ ]

ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِم بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَآتَيْنَاهُ الْإِنجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاء رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ
অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রসূলগণকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এটা অবলম্বন করেছে। অতঃপর তারা যথাযথভাবে তা পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২৭ ]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি নিজে অনুগ্রহের দ্বিগুণ অংশ তোমাদেরকে দিবেন, তোমাদেরকে দিবেন জ্যোতি, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২৮ ]

لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِّن فَضْلِ اللَّهِ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
যাতে কিতাবধারীরা জানে যে, আল্লাহর সামান্য অনুগ্রহের উপর ও তাদের কোন ক্ষমতা নেই, দয়া আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা, তা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২৯ ]

চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে