ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

আজ নালিতাবাড়ী মুক্ত দিবস

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১২:০১ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:২২ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ৭ ডিসেম্বর শেরপুরের নালিতাবাড়ী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা পাকহানাদার বাহিনীদের পরাস্ত করে নালিতাবাড়ীকে দখল মুক্ত করেন। 

শেরপুরের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপুর্ণ পাহাড়ী জনপদ নালিতাবাড়ীতে দুইদিন দুইরাত সরাসরি যুদ্ধের পর মুক্তির এইদিনটি আজো এলাকার মানুষের স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে আছে। এদিন পাকহানাদার বাহিনী উপজেলা পরিষদ, রামচন্দ্রকুড়া ফরেষ্ট অফিস, হাতিপাগার বিডিআর ক্যাম্প তিনআনী বাজার ও ঝিনাইগাতির আহাম্মদ নগরে শক্তিশালী ক্যাম্প স্থাপন করে। 

২৫ মে ভোরে পাকিস্তানী হায়েনার দল নাকুগাঁও ঢালু সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে নয়জন ভারতীয় বিএসএফসহ কয়েকশ' বাংলাদেশীকে হত্যা করে ভোগাই নদীতে ভাসিয়ে দেয়। 

৩০ জুন তন্তর গ্রামের সাতজনকে হত্যা করে। এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করার অপরাধে অর্ধশতাধিক মানুষকে বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী। নন্নী-বারমারী সড়কে একজন ক্যাপটেনসহ ছয়জন সৈন্য জীপ দিয়ে যাওয়ার সময় মাইন বিস্ফোরণে পাকবাহিনী আতংকিত হয়ে পড়ে। শেষে কৌশল পরিবর্তন করে নালিতাবাড়ী থানা সদরে রাজাকার আল বদরদের সহায়তায় শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করে।

২৫ জুলাই উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৮৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশুসহ নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। 

১ ডিসেম্বর এই ঘাঁটিকে শত্রুমুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অভিযান চালালেও সফল হতে পারেনি। বরং হাছেন আলী মুন্সি, আয়াত আলী নামে দুজন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদতবরণ করেন। রাজাকার আলবদররা এই দুই বীরের মৃত দেহ নিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠে। তাদের পায়ে রশি বেধে টেনে হিঁচরে শহরের অদুরে মাটি চাপা দেয়।

৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর পুনরায় ক্যাম্প দখলের লড়াই শুরু হয়। এ লড়াইয়ে মিত্রবাহিনীর একটি ও মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি দল অংশ নেয়। টানা দুইদিন দুইরাত গুলিবর্ষনের পর ৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর জঙ্গী বিমান দিয়ে বোম্বিং করার পরিকল্পনা করে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা চিন্তা করে সে পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়। এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা আক্রমণ শিথিল করে দেয়। 
এ সময় ক্যাম্পের আলবদর, রাজাকাররা পালিয়ে যায়। সারারাত কোন সাড়া শব্দ নেই। আতংকগ্রস্থ এলাকাবাসী অপেক্ষা করতে থাকেন কখন ভোর হবে। 

অবশেষে ৭ ডিসেম্বর পূর্বদিগন্তে সূর্যের লাল আভা ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিযোদ্ধারা জয়বাংলা, জয়বাংলা স্লোগানে মুখরিত করতে করতে এলাকায় ঢুকতে থাকে। ক্রমেই স্লোগানের আওয়াজ স্পষ্ট হয় কেটে যায় শংকা। মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তির উল্লাসে মেতে উঠে সবাই। 

মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীরা এগিয়ে যায় সামনের দিকে পিছু হটে হানাদার বাহিনী মুক্ত হয় নালিতাবাড়ী। এরপর উড়তে থাকে লাল সবুজের পতাকা স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। এদিকে দিবসটি পালন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস