Alexa নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ৫ বছর আজ

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৪ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ৫ বছর আজ

 প্রকাশিত: ০১:৩৭ ২৭ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ০৮:০৪ ২৭ এপ্রিল ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আজ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো। গত বছর উচ্চ আদালতে এই মামলার রায় প্রদান করা হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। আর তাই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।

এদিকে নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে তা হয়নি। যার ফলে কষ্টে দিন পার করছেন অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা। নিহতদের পরিবারের একটাই দাবি, উচ্চ আদালতের রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।

যেভাবে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে:
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকা থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবি চন্দন সরকারসহ সাতজন।

এ ঘটনার তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল ও ১ মে অপহৃত সাত জনের লাশ ভেসে উঠে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষা নদীর শান্তির চর এলাকায়।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় উঠে এবং বিদেশী গণমাধ্যমেরও শিরোনাম হয়ে দাড়াঁয়।

মামলা ও আদালতের রায়:
অপহরণের ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। আর এ মামলায় ৬ জনকে আসামী করেন তিনি।

এছাড়া আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পালও একই থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।

পরবর্তিতে ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোট ৩৫ জনকে আসামী করে চার্জশীট গঠন করে। পুলিশের চার্জশীট গ্রহনের পর ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন ৩৮ কর্মদিবসে ১০৬ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপরে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায় প্রদানের পরে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে।

আপিলের পরে ২০১৭ সালের ২২ আগষ্ট উচ্চ আদালত নূর হোসেন, র‌্যাবের তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যদন্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। পরে আসামীপক্ষ আবারো এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে আপিল করে।

নিহত স্বজনদের অবস্থা:
হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ চার বছর ধরে চরম হতাশার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন নিহতদের স্বজনেরা। নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের সাড়ে চার বছরের কন্যা রোজা। দিনের অধিকাংশ সময় খুঁজে বেড়ায় তার বাবাকে। রোজা চায় তার বাবার ভালবাসা চায় বাবার আদর। জন্মের আগেই বাবাকে হারানো এই অবুঝ শিশুটি অপেক্ষায় আছে তার বাবাকে দেখবে বলে। চাচা মো: সাজু কেই বাবা বলে ডাকে সে।

শিশুটির সব আবদার চাচা পূরণ করলেও বাবার অভাব কেউ পূরণ করতে পারবে না বলে মনে করেন নিহত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই সাজু। বাসার সামনে ছোট্ট একটা ওয়েল্ডিং কারখানার আয়ের উপর চলে তার ভাই, মা ও নিজের সংসার। কারখানায় কোন কর্মচারী নেই। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নিজেই সব কাজ করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরের বিধবা স্ত্রী নূপুর শিশু সন্তানটিকে দাদীর কাছে রেখে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নিন্ম বেতনে চাকুরি করেন সিদ্ধিরগঞ্জ সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হলেও পরবর্তীতে কেউ খোঁজ না নেয়ায় অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় দিন কাটছে অধিকাংশ পরিবারের স্বজনদের। নানা ক্ষোভের মধ্য দিয়েই তারা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন রায় কার্যকরের সেই দিনটির জন্য।

জাহাঙ্গীরের ভাই সাজু বলেন, সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ভাইকে হারিয়ে চরম অর্থকষ্টে দিনযাপন করছি। ভাইয়ের এতিম মেয়েটিকে মানুষের মতো মানুষ করাই আমার একমাত্র চিন্তা। সরকার যদি মেয়েটির একটা দায়িত্ব নিতো তাহলে আমি নিশ্চিন্ত হতাম। আমি আমার ভাইকে হারিয়ে একই রকমভাবে স্বজন হারানোর ব্যথায় কাতর অন্যান্য পরিবারগুলো মতোই।

জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নুপুর বলেন, এ সরকারের আমলেই সাত খুন মামলার আসামীদের ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি। যারা আমার স্বামীসহ সাতজনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।

নজরুলের বন্ধু নিহত স্বপনের ভাই রিপন বলেন, সরকারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে যা ভেবেছিলাম বাস্তবে আমরা হতাশ হয়েছি। কারো কাছ থেকেই কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। রায় কার্যকরের ব্যাপারে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এই রায় নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তা এবং অন্ধকারের মধ্যে আছি। আদৌ কি এই রায় কার্যকর হবে? নাকি এইভাবেই আমরা অন্ধকারের মধ্যে হাবুডুবু খেতে থাকবো?

তিনি আরো বলেন, ভাইকে হত্যার পর ভাইয়ের এবং আমার ব্যবসা জোর করে দখল করে নিয়েছে নূর হোসেন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। নিজে এখন ছোটখাটো কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে নানা ধরণের হুমকি। সব সময় একটা ভয়ের মধ্যে থাকি, কোন দিন যেন আমাদেরকেও মেরে ফেলে।

স্বপনের খুনের খবর শুনে অন্ধ হয়ে যান তার বৃদ্ধ বাবা। চোখে কিছু দেখতে পান না তিনি। কাঁদতে কাঁদতে ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে ছেলের খুনীদের বিচার দেখে যেতে পারলে আত্মায় শান্তি নিয়ে মরতে পারবো। ছেলের আত্মাও শান্তি পাবে। এর বেশি আমার কিছুই বলার নেই।

নিহত তাজুল ইসলামের পিতা আবুল খায়ের বলেন, সাত খুন মামলার চার বছর শেষ হয়েছে। এ চার বছরে হাইকোর্ট পর্যন্ত এ মামলা গড়িয়েছে। এ রায় এখন সুপ্রীমকোর্টেও গিয়েছে। আমরা তীর্থ কাকের মতো তাকিয়ে আছি কবে তাদের ফাঁসির রায় হবে।

যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে তাদের জেলখানায় দেখতে চাই। এ নির্মম নির্যাতনের বিচার কি এ দেশে হবে না? আশা করি দেশের মাটিতেই তাদের সাজা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই মনমানসিকতা আছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি। এ মামলায় যে কয়জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানাই।

উচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও রায় কার্যকরের ব্যাপারটি বিলম্ব হওয়ায় সংশয় প্রকাশ করেন মামলার বাদি নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করবেন। তিনি তার কথা রেখেছেন। তার উপর আমরা কৃতজ্ঞ। আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট আছি। কিন্তু রায়টি কার্যকর কবে হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ের মধ্যে দিন পার করছি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উচ্চ আদালতের এই রায় কার্যকরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তিনি।

মামলার রায় কার্যকরের ব্যাপারে ধীরগতির কথা উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাদিপক্ষের আইনজীবি সাখাওয়াৎ হোসেন খান। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে রায়ের পর প্রধান বিচারপতি আশ্বাস দিয়েছিলেন বিষয়টি তিনি দেখবেন। কিন্তু প্রায় এক বছরেও মামলাটি ধীরগতিতেই চলেছে। এ ব্যাপারে আমি সুপ্রীম কোর্টের এ্যাটর্ণি জেনারেলের কার্য়ালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত রায় কার্যকর করে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য তিনি বিচার বিভাগ ও সরকারের প্রতি দাবি জানান।

আলোচিত সাত হত্যা মামালার রায় ঘোষণার পর বিভিন্ন সময়ে পলাতক আসামীদের মধ্যে ৩ জন আদালতে অত্মসমর্পন করেন এবং একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে এখনো পলাতক রয়েছেন ৮ জন।

হত্যা বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল:
নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি জানান, তার স্বামী নজরুল ইসলাসহ নিহত সাত জনের রুহের মাগফেরাত কামনায় শুক্রবার দিনব্যাপী মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও এতিমদের মধ্যে রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস

Best Electronics
Best Electronics

শিরোনাম

শিরোনামকুমিল্লার বাগমারায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৭ শিরোনামবন্যায় কৃষিখাতে ২শ’ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে না: কৃষিমন্ত্রী শিরোনামচামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের তদন্ত চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের অপারগতা প্রকাশ শিরোনামচামড়া নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সমাধানে বিকেলে সচিবালয়ে বৈঠক শিরোনামডেঙ্গু: গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬ জন: স্বাস্থ্য অধিদফতর শিরোনামডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দুপুরে আদালতে উপস্থাপন শিরোনামডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে: সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক শিরোনামইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, দুই শিশুসহ নিহত ৭ শিরোনামআফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, নিহত বেড়ে ৬৩