আজ গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস

.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১২ ১৪২৬,   ১৯ শা'বান ১৪৪০

আজ গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ০৯:৪১ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০৯:৪১ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আজ গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৭ই ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ শহর পাক হানাদার মুক্ত হয়। দিনটি পালন উপলক্ষে গোপালগঞ্জে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন জয় বাংলা পুকুর পাড়ের বদ্ধভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং পৌর পার্ক থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার অংশগ্রহণে র‍্যালি বের করা হবে।

গোপালগঞ্জে ২৭ মার্চ থেকেই। মুসলিম লীগ নেতাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ৩০ এপ্রিল শহরে প্রবেশ করে।
পাকিস্তানী বাহিনী প্রথমেই শহরের ব্যাংক পাড়ায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এরপর পাকিস্তানী সৈন্যরা ১০/১২টি দলে বিভক্ত হয়ে শহরের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ির অবস্থান জেনে স্বর্ণপট্টি, সাহাপাড়া, সিকদারপাড়া, চৌরঙ্গী এবং বাজার রোডে লুটপাট করে।পাকহানাদাররা আগুন দিয়ে প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে হত্যা আর নারী ধর্ষণ শুরু করে। 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদাররা উপজেলা পরিষদের মিনি ক্যান্টনমেন্টে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে হত্যা করে গণ-কবর দেয়। 

৬ ডিসেম্বর সূর্য উঠার সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে বিভক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের দিকে আসতে থাকে। চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ বলয় রচিত ও মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত লগ্নে মিত্র দেশ ভারত প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেয়ায় এখানকার পাক হানাদার বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।

পাক সেনারা ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন জয় বাংলা পুকুর পাড়ের মিনি ক্যান্টমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে মুক্তিযোদ্ধারা, আর সেই সঙ্গে মুক্ত হয় গোপালগঞ্জ শহর ও এর আশপাশ এলাকা।

৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ শহর মুক্ত হওয়ায় সেদিনের সেই স্মৃতি আজো মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তাড়িত করে। আজো তারা আনন্দে আন্দোলিত হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস