Alexa আজিজ মোহাম্মদের বাসায় গোপন সিঁড়ি

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

আজিজ মোহাম্মদের বাসায় গোপন সিঁড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৭ ২৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২১:৫৭ ২৮ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রাজধানীর গুলশান-২ এর ৫৭ নম্বর সড়কের ১১/এ ও ১১/বি নম্বর বাড়ি দুটি যেন রহস্যঘেরা। বাইরে থেকে অন্য দশটি বাড়ির মত সাধারণ মনে হলেও ভেতরটা একেবারেই ভিন্ন। বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের পৈতৃক বাড়ি এটি। 

এ বাড়িতে আভিজাত্য-প্রাচুর্য্য সবই আছে। সেইসঙ্গে আছে অন্ধকার জগতের নানা উপকরণ। বাড়ির থমথমে পরিবেশ, তালাবদ্ধ সারিসারি কক্ষ যে কাউকেই চমকে দেবে। ছয় তলা ভবনটিতে রয়েছে বিশেষ একটি সিঁড়িও।

রোববার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বাড়িটিতে অভিযান চালাতে গিয়ে এ সিঁড়ি দেখে অবাক হন। 

আজিজ মোহাম্মদের দুই ভাই ও দুই বোন। ১১/এ নম্বর ভবনটি আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও তার ছোট ভাই রাজা মোহাম্মদ ভাইয়ের। রাজা মারা যাওয়ার পর এখানে তার দুই ছেলে ওমর মোহাম্মদ ভাই ও ফাহাদ মোহাম্মদ ভাই থাকেন।

১১/বি নম্বর ভবনটি তার দুই বোন নুরজাহান ও সকিনার। এই নুরজাহানের ছেলেই হচ্ছে ইয়াবা সম্রাট আমিন হুদা। যিনি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন ২০০৭ সালের ২৫ অক্টোবর। 

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, ভবন দুটির হোল্ডিং নম্বর পৃথক হলেও ভবন দুটি লাগোয়া। একটি থেকে আরেকটিতে যাওয়া আসা করা যায়। কমকর্তারা সবগুলো কক্ষে তল্লাশি চালাতে পারেননি। অধিকাংশ কক্ষই ছিল তালাবদ্ধ। তবে যেসব কক্ষ খোলা ছিল সেগুলো ছিল খুবই দামি আসবাবপত্রে ভরা। 

বাড়িটির সর্বত্র চাকচিক্যময়। গ্যারেজে পার্ক করা ছিল নামি-দামি ব্র্যান্ডের বেশ কয়েকটি গাড়ি। তবে তাদেরকে সবচেয়ে বেশি হতবাক করে ওই ভবনের বিশেষ একটি সিঁড়ি। ভবনের ছয় তলার একটি কক্ষ থেকে শুরু হয়ে সিঁড়িটি সোজা নেমে গেছে গাড়ি পার্কিংয়েরও এক তলা নিচে। মাদক কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান থেকে বাঁচতেই এই বিশেষ সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।

রোববারের অভিযানে ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন ওমর মোহাম্মদ ভাই। তিনি অভিযান শুরু পর ওই সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যান। ভবনে ওমরের অবস্থানের কথা স্বীকার করেছেন আটককৃত দুই কেয়ারটেকারের একজন। 

নবীন নামের ওই কেয়ারটেকার মাদক কর্মকর্তাদের জানান, ওমর ওই বাসায় থাকেন না। সেখানে থাকেন তার ভাই ফাহাদ। তবে শনিবার ওমর সেখানে এসেছিলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, রহস্যময় সিঁড়িটি বাড়ির প্রতিটি তলার সঙ্গেই সংযুক্ত। তাই যেকোনো তলা থেকেই যে কেউ পালাতে পারে সহজে।

গত রোববার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর রাজধানীর গুলশান-২ এর ৫৭ নম্বর সড়কের ১১/এ ও ১১/বি এবং গুলশান-১ এর ২৮ নম্বর সড়কের ৫২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৩৮২ বোতল বিদেশি মদ, এক কেজি সিসা, একটি ক্যাসিনো বোর্ড, এএমবি (আজিজ মোহাম্মদ ভাই) নামাঙ্কিত ১৬শ’ গুটি উদ্ধার করে। আটক করা হয় ওই দুই বাড়ির কেয়ারটেকার নবীন মন্ডল ও পারভেজকে।

এ ঘটনায় সোমবার গুলশান মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে আধিদফতরের পরিদর্শক এস, এম সামসুল কবীর বাদি হয়ে একটি মামলা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এস