Alexa আচমকাই গাড়ির গতি কমে যায় হাইওয়ের এই রাস্তায়

ঢাকা, বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৯ ১৪২৬,   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

আচমকাই গাড়ির গতি কমে যায় হাইওয়ের এই রাস্তায়

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৮ ৩০ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১২:০৭ ৩০ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভাবতে নিশ্চয়ই অবাক লাগছে! গাড়ির গতি বাড়ানো থাকলেও নির্দিষ্ট একটি স্থানে এসে গতি কমে যায়। কীভাবে সম্ভব? উত্তর জানা নেই চালকদেরও। যদিও হাইওয়ের ওই স্থানটি বেশ দুর্ঘটনাপ্রবণ। একটু বেখেয়ালিতে দুর্ঘটনা অনিবার্য। আরো একটি অবাক করা বিষয় হলো, ওই স্থানটিতেই একটি মন্দির রয়েছে। তবে সেখানে কোনো দেব-দেবীর পূজা করা হয় না। পূজা করা হয় একটি বাইকের। তবে দূর্ঘটনার সঙ্গে ওই বাইকটির কি কোনো যোগাযোগ রয়েছে?

বুলেট বাইকসিমেন্টের বেদীর ওপর কাচের একটি বাক্স। তার ভেতরে রাখা বুলেট। বাইকের হ্যান্ডেলে একরাশ গাঁদার মালা। হেডলাইটে লাল তিলক। সামনের মাডগার্ডে সস্তিকা চিহ্ন এঁকে লেখা ‘ওম’। পাশে ওম বান্নার ছবি। এই বুলেট বাইকের মালিক তিনি। তাই লোকে বলে, ওম বান্নার মন্দির। আর এই বাইকটিরই নিত্য পূজা হয় মন্দিরে। ভক্ত জন ভিড় করে এসে ভক্তিতে মাথা নোয়ান বুলেট বাইকের সামনে। প্রণামীও দিয়ে যান অনেকে। সেজন্য বাক্সও রাখা আছে একটা। আছে ধূপ জ্বালানোর পাত্র। প্রসাদী মিষ্টিও বিতরণ করা হয় ভক্তদের। কীভাবে এই বাইক হয়ে উঠল দেবতা আর সেখানে গড়ে উঠল মন্দির? 

ওম বান্নার ছবিভারত এক অদ্ভুত দেশ যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ধর্ম ও ভাষাভাষী মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। আপনি হয়তো ভারতে বিভিন্ন মন্দির দেখে থাকবেন যেখানে বিভিন্ন দেব-দেবীকে বিভিন্ন রূপে পূজিত করা হয়। তবে রয়েল এনফিল্ড ৩৫০ সিসির একটি বুলেট বাইককে পূজা করার বিষয়টি বেশ অদ্ভূতই বটে। শুনতে আশ্চর্যজনক লাগলেও বিগত ২৮ বছর ধরে এই রকমই ঘটনা ঘটে আসছে রাজস্থানের যোধপুরে পালি জেলায়। 

বুলেট বাবার মন্দিরে আসা ভক্তরাওম বান্না বা বুলেট বাবার মন্দির পালি থেকে ২০ কিলোমিটার এবং যোধপুর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে একটি হাইওয়ের উপর অবস্থিত। এখানে প্রতিদিন প্রায় হাজার মানুষের সমাগম হয়। সবাই তাদের যাত্রা শুভ হওয়ার জন্য এখানে প্রার্থনা করে। হাইওয়ের এই রাস্তাটি খুবই দুর্ঘটনা প্রবণ, প্রায় প্রতিবছর এখানে ৩০ থেকে ৪০ টি দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। তবে বুলেট বাবার মন্দির তৈরি হওয়ার পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এখানে সমস্ত দুর্ঘটনা বন্ধ হয়ে যায়। এই অদ্ভুত মন্দির সৃষ্টি হওয়ার পেছনে কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তা জানতে আমাদের যেতে হবে ২৮ বছর পেছনে।

এই রোডেই দুর্ঘনাটি ঘটে২ ডিসেম্বর ১৯৯১, ওম বান্না অর্থাৎ ওম সিং রাঠোর নামে এক ব্যক্তি রয়েল এনফিল্ড একটি বাইকে চেপে এই রাস্তা দিয়ে পালি থেকে চোওটিলার দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই রাস্তায় এক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। সেই সময় স্থানটিতে দুর্ঘটনার বিষয়টি সাধারন ব্যাপার ছিলো। কারণ একই স্থানে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটতো। অতঃপর দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং বুলেট বাইকটিকে উদ্ধার করে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়। আর এরপর থেকে ঘটতে শুরু করে অদ্ভুত সব ঘটনা। পরের দিন পুলিশকর্মীরা হতবাক হয়ে যায় যখন তারা এই বাইকটিকে পুলিশ স্টেশনের মধ্যে খুঁজে পায়না।

ওম বান্নার রহস্যময় বাইকটিঅনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা সেই বাইকটিকে আবার দুর্ঘটনাস্থল কাছে খুঁজে পায়। সেটিকে পুনরায় পুলিশ স্টেশনে ফিরিয়ে নিয়ে আসে কিন্তু তার পরদিন আবার সেই একই ঘটনা ঘটে। সেই বাইকটিকে পুনরায় খুঁজে পাওয়া যায় সেই দুর্ঘটনাস্থলে এরপর পুলিশকর্মীরা হতবাক হয়ে যায় তারা বুঝে উঠতে পারে না কীভাবে এই বাইকটি পুলিশ স্টেশন থেকে দুর্ঘটনাস্থলে চলে আসছে বারবার। এরপর তারা বাইক থেকে সব তেল বের করে, বাইকটিকে চেন-তালা দিয়ে বেঁধে রাখে। 

পথচলতি মানুষেরা নিরাপদ যাত্রার আশায় এই বাইককে শ্রদ্ধা জানায়অবাক করা ব্যাপারটি হলো, পরদিন সকালে অদ্ভুতভাবে আবার বাইটিকে দুর্ঘটনাস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়। বারবার বাইকটি এই দুর্ঘটনাস্থলে কীভাবে চলে আসছে তার কোনো ব্যাখ্যা তারা খুঁজে পায় না। অবশেষে তারা এই স্থানেই বাইক থেকে ছেড়ে দেয় তারপর থেকে শুরু হয় আরো এক অদ্ভুত ঘটনা। আস্তে আস্তে এই হাইওয়েতে দুর্ঘটনার ঘটনাগুলো কমতে শুরু করে এবং পরবর্তী দু’মাসে একটিও দুর্ঘটনা ঘটে না।

স্থানটিতে এলেই গাড়ির গতি কমতে শুরু করেএই হাইওয়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় বহু ড্রাইভার না-কি সেখানে ওম বান্নাকে বহুবার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন। সে হাত দেখিয়ে বহু গাড়িকে সতর্ক করে দিচ্ছে গাড়ির গতি আস্তে করার জন্য। এমনকি অনেক ডাইভার এও দাবি করেছে যে, তারা দ্রুত গতিতে এই স্থান দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাবার সময় অদ্ভুতভাবে তাদের গাড়ির গতি কমে গেছে। এরপর আস্তে আস্তে এই বাইকটির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে থাকে। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে ওম বান্না এখানে যাত্রী ও ড্রাইভারদের দুর্ঘটনা ঘটার হাত থেকে রক্ষা করছে। 

সবার ধারনা বাইকটিকে পূজা করার কারণেই দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছেএরপর তারা সেখানে মন্দির বানিয়ে গাড়িটিকে পূজা শুরু করে। এই হাইওয়ের ওপর দিয়ে যাওয়া সমস্ত গাড়ি এই মন্দিরে দাঁড়িয়ে তাদের যাত্রা শুভ হওয়ার জন্য প্রার্থনা করে। এমনকি মন্দিরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যদি ব্যস্ততার কারণে কোনো ড্রাইভার এখানে থামতে না পারে।তাহলে তারা বারবার হর্ণ বাজিয়ে মন্দিরের উদ্দশ্যে শ্রদ্ধা জানায়। আজ এই মন্দিরের সঙ্গে বহু মানুষের আস্থা এবং শ্রদ্ধা জড়িয়ে রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় হাজারো মানুষের সমাগম হয় এই বুলেট বাবার মন্দিরে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস