Alexa আগ্নেয়গিরির মজাদার কিন্তু ভয়ংকর তথ্য (প্রথম পর্ব)

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

আগ্নেয়গিরির মজাদার কিন্তু ভয়ংকর তথ্য (প্রথম পর্ব)

সিফাত সোহা

 প্রকাশিত: ১৩:০৭ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৩:১৪ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অদৃশ্য শক্তি যেকোনো ভূখণ্ডকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে। ক্ষমতা রাখে তাকে তৈরি করার এমনকি ধ্বংস করার। আজ থেকে এক লাখ বছর আগে এই অদৃশ্য শক্তির উন্মোচনী তৈরি হয়েছিল পৃথিবীর ভূখন্ডে। পৃথিবীর মাটিতে খনিজ দ্রব্যের সমাবেশ এই শক্তি এতই বেশি রহস্যময় যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম সাইন্টিস্ট বা তার দল আজও পর্যন্ত এটা অনুমান করতে পারে না যে আবার কখন বা কবে এই শক্তির উন্মোচন হবে। আপনারা হয়ত ধারণা করতে পারছেন যে কিসের কথা বলছি। এতক্ষণ ভল্কানো বা আগ্নেয়গিরির ব্যাপারে আলোচনা করছিলাম।

আমারা এখন পর্যন্ত বিভিন্ন মুভি এবং ডকুমেন্টরি থেকে অগ্নিয়গিরি সম্পর্কে অনেক জ্ঞান অর্জন করেছি। আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এসব খুব কাছ থেকে দেখেছি। বর্তমানে পৃথিবীতে এদেরই মধ্যে হাজারেরও বেশি আগ্নেয়গিরি অবস্থিত। যেগুলোর মধ্যে পাঁচশোরও বেশি এখনো সক্রিয়। যেকোন সময় ঘুম ভাঙতে পারে তাদের এবং হতে পারে এক বিশাল আকার বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণ এর ফলে প্রথম স্তরে আগ্নেয়গিরির ভেতর থেকে ম্যাগমা বাইরে বেরিয়ে আসবে। ভূখণ্ডের মধ্যে তার ভিতরে আটকে থাকা গ্যাস ছড়িয়ে পড়বে পৃথিবীর জলবায়ুতে। তারপর এই ম্যাগমা পরিণত হবে লাভাতে এবং আশেপাশের অঞ্চলগুলোকে যেন অগ্নিপিন্ডের মত গিলে ফেলবে। 

বড় বড় অগ্নি পিণ্ড পৃথিবীর আকাশ থেকে ঝরে পড়তে দেখা যেতে পারে। এমন অবস্থায় লাভার ছড়িয়ে যাওয়ার স্পীড কয়েক মিটার প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত হতে পারে। যখন তাপমাত্রা হয়ে দাঁড়াবে ২২০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ১২০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সুতরাং খুব স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনে হতেই পারে এই প্রাকৃতিক শক্তি আশেপাশে কোন প্রাণীর অস্তিত্ব কোনভাবেই সম্ভব না। কিন্তু কি হবে যদি সত্যিটা অন্য রকমই হয়। আজ থেকে বহু যুগ আগে আগ্নেয়গিরির আশে পাশে বসবাসকারী মানুষের মনে করত এই ফুটন্ত ও উত্তপ্ত অগ্নিচুরার মধ্যে বসবাস করে গড। কিন্তু বহু যুগ পেরিয়ে গেছে , বদলে গেছে সেই সময়, প্রযুক্তিগতভাবে আজ আমরা মানুষেরা অনেক উন্নত। ঘটনা ক্রমে আমরা জানতে পেরেছি কে বা কারা এই ফুটন্ত ও উত্তপ্ত অগ্নি চুরার ভেতরের বাসিন্দা। 

এখন আমাদের মনে অবশ্যই এই প্রশ্ন আসবে যে কে থাকে দ্যা ভল্কান বা আগ্নেয়গিরির ভিতরে। ১৯৮০ সালে প্রথম আগ্নেয়গিরির আশেপাশে খুঁজে পাওয়া যায় ব্যাকটেরিয়াদের। যারা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাতেও বেঁচে থাকতে পারে। এমন সময় বিজ্ঞানের এই খোঁজ ছিল রীতিমতো চমৎকার একটি বিষয়। মেডিকেল সাইন্সের মতে যে কোন কম্প্লেক্স ডিএনএ স্ট্রাকচার ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আগ্নিয়গিরির আশেপাশের ফুটন্ত জলের মধ্যেও এই বয়েলিং টেম্পারেচারেও বেঁচে আছে। রীতিমত বৃদ্ধি পাচ্ছে  আকার-আকৃতিতেও। এমনকি এটাও দেখা গেছিল ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে যেয়ে তাদের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। 

জানলে অবাক হতে হয় সমুদ্র স্তর থেকে মাত্র ২ থেকে ৪ কিলোমিটার এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে আন্ডার ওয়াটার ভল্কানো। যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব বা বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি বর্তমান। গভীর সমুদ্রের স্থানগুলোতে পানির তাপমাত্রা যে কোন ডিএনএ কে মুহুর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, এখানকার পানির প্রেশার সাধারণ এট্মস্ফেয়ারের প্রেসার এর থেকে অনেক অনেক গুন বেশি। এমনকি হাইড্রোজেন সালফাইড এর মতন প্রাণনাশক এনিমেলসও এখানকার পানির মধ্যে বর্তমান। কিন্তু অবিশ্বাস্য এবং বিস্ময়করভাবে ৪০০ এর থেকে বেশি প্রজাতির বসবাস এখানে। কিন্তু তাই বলে ভাববেন না যে এইখানে শুধুমাত্র এককোষী প্রাণী বসবাস করে। কাঁকড়া, সমুদ্রের সাপ এমনকি আরো অনেক সামুদ্রিক প্রাণী যাদের ডিএনএ এর স্টকচার রীতিমত কমপ্লেক্স এবং জটিল তাদেরও বসবাস এখানে। 

আগ্নেয়গিরি নিয়ে আরো মজাদার কিন্তু ভয়ংকর তথ্য পেতে দ্বিতীয় পর্বটি পড়ুন।  

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ