.ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৯ ১৪২৬,   ১৭ শা'বান ১৪৪০

আগাম বাঙ্গিতে সাবলম্বী

মো. ইব্রাহীম, রাজৈর (মাদারীপুর) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১০ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৫:২০ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আগাম বাঙ্গি চাষ করে সাবলম্বী হচ্ছেন রাজৈরের কৃষকরা। সুস্বাদু ও বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে এ এলাকায় আগাম বাঙ্গির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর রাজৈরের বাজিতপুরের শতাধিক কৃষক আগাম বাঙ্গি চাষ করে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে আশানুরূপ অর্থ উপার্জন করছে।

দারীপুরের রাজৈরের বাজিতপুরের কৃষকদের ভাগ্যের চাকা বদলে দিতে শুরু করেছে আগাম এই বাঙ্গি চাষ। এতে সফলতা আসায় এ চাষে আবাদী জমির পরিমাণ ও কৃষকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতি বছরই লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বাঙ্গি চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।

বাজিতপুরের সুতারকান্দি, নয়াকান্দি ও গঙ্গাবর্দ্দীর আগাম বাঙ্গি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রেতারা বিক্রি করে আসছে। এখানকার বাঙ্গি পাকানোর জন্যও কোনো ওষুধ বা কৃত্রিম কিছুর ব্যবহার হয় না। 

সুতারকান্দির আব্দুল আলিম ফকির বলেন, ৫২ বিঘার ৭ বিঘা জমিতে আগাম বাঙ্গি চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে। এ বছর জমিতে যে ফলন হয়েছে বিগত ১৫ বছরেও তা হয়নি।

এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকেও নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি আগাম বাঙ্গি চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটানোর জন্য ব্যাংক থেকে সুদমুক্ত কৃষি লোন দেয়ার অনুরোধ জানান। 

বাঙ্গি চাষি এসকেন বেপারী বলেন, এ বছর তিন বিঘা জমিতে আগাম বাঙ্গি চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৬০ হাজার টাকা লাভবান হবে। এখানকার আগাম বাঙ্গি প্রতিদিন তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সুতারকান্দি চাতালের বাঙ্গির হাটে বিক্রি করে থাকেন। 

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখান থেকে বাঙ্গি কিনে নিয়ে বেশী দামে বিক্রি করছে। এখন মহাসড়কের পাশে বসে অল্প দামে বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে। এ বাঙ্গি বিক্রি চলবে প্রায় এপ্রিল পর্যন্ত। 

বাঙ্গি চাষি মোসলেম ফকির বলেন, আগাম বাঙ্গি চাষ করে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন। এ সফলতায় এবার বেশি জমিতে আগাম বাঙ্গি চাষ করবো। ক্ষেতে তার ফসলও ভাল হয়েছে। যদি পোকা না পড়ে তবে এবারের চেয়ে লাভ বেশি হবে। আগাম বাঙ্গির ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও ভাল পাচ্ছেন কৃষকরা।

সুতারকান্দি গ্রামের চুন্নু ফকির বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার দামও ভাল। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ দেয়ার কারণে বাঙ্গির ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পরিতোষ চন্দ্র বোস বলেন, বাঙ্গি চাষে সফলতা আনার জন্য সার্বক্ষণিক কৃষকদেরকে সব প্রকার পরামর্শ দান করে যাচ্ছি। 

রাজৈরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির বলেন, বাঙ্গি একটি অর্থকরি ফসল। আগাম বাঙ্গি চাষ করে রাজৈরের বাজিতপুরের কৃষকরা ক্রমশ লাভবান হচ্ছেন। বাঙ্গি উৎপাদনে এবং পোকা-মাকড় দমনে কৃষকদের মাঝে সেক্সফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় কৃষকরা বিষমুক্ত বাঙ্গি উৎপাদন করতে সফল হয়েছেন। 

এ এলাকার চাষিরা একই জমিতে তিনটি ফসল উৎপাদন করছেন। এর মধ্যে বাঙ্গি উৎপাদনে তারা লাভবান হচ্ছেন বেশি। বাঙ্গি চাষে কৃষকদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য কৃষি বিভাগ থেকে সব প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রাজৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদুল মিরাজ বলেন, আগাম বাঙ্গি চাষের জন্য বৃহত্তর ফরিদপুরের মধ্যে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। এটি একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় আবাদী জমি ও কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষকদেরকে কৃষিঋণ ছাড়া সব প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস