Alexa আগাম আমনে কৃষকের মুখে হাসি

ঢাকা, রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৬,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

আগাম আমনে কৃষকের মুখে হাসি

 প্রকাশিত: ১৩:০৫ ১৯ অক্টোবর ২০১৭   আপডেট: ১৫:০৬ ১৯ অক্টোবর ২০১৭

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

লুতফর রহমান, পঞ্চগড়: অস্থির চালের বাজারের মধ্যেও আগাম ধানে এবার হাসি ফুটেছে পঞ্চগড়ের কৃষকদের মুখে। আগাম জাতের ধানে ভাল ফলন ও বাজারে ভাল দাম পাওয়ার পাশাপাশি অভাবের দিনে কৃষকের খাবারের জোগান হচ্ছে। পঞ্চগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষকরা এখন আগাম ধান কাটা মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

পঞ্চগড়ের সদর, আটোয়ারী, বোদা. দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এবার বিভিন্ন আগাম জাতের আমন ধানের চাষ হয়েছে। অন্যদের ধানের শীষ বের না হলেও আগাম জাতের ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছেন কৃষকরা। বাজার দর ভাল থাকায় ধানের ভাল ফলন পাওয়ার পাশাপাশি অভাবের দিনে খাবারের জোগান হচ্ছে কৃষকদের। সেই সাথে আগাম আমন উত্তোলনের পর নতুন ফসলের জন্য জমি তৈরি করতে পারবেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে পঞ্চগড় জেলার পাঁচ উপজেলায় এবার সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান চাষ করা হয়েছে। বিনা-৭, ব্রি-ধান ৩৩, ব্রি-ধান ৫৬, ব্রি ধান-৬২, ব্রি-ধান ৭১, ব্রি ধান-৭২ ও কমল স্বর্ণ নামে স্থানীয় একটি জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা।

আগাম জাতের ধানের রোপা জুনের প্রথম সপ্তাহে রোপন শুরু হয় তা ১২০ দিনের মধ্যে উত্তোলন করা যায়। বিঘা প্রতি খরচ হয় মাত্র ৪/৫ হাজার টাকা। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই উত্তোলন শুরু হয় আগাম জাতের আমন ধান। বিঘা প্রতি ধান হয় ১৬ থেকে ২০ মণ। বর্তমানে ধানের বাজার ভাল থাকায় কর্তনের সাথে সাথেই কৃষকরা মণ প্রতি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন। এতে কম সময়ে, কম খরচে বেশি মুনাফা হচ্ছে কৃষকদের। এছাড়া একই জমিতে ৩ থেকে ৪ টি ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। তাই আগাম আমনের সোনালী ধানে চালের অস্থির বাজারেও স্বস্তির হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া এলাকার কৃষক নাদেরুজ্জামান জানান, আমি ২ বিঘা আগাম যাতের আমন ধান চাষ করেছি। এই অভাবের সময়ে আমি আগাম ধান কাটতে পেরেছি। এছাড়া কাঁচা ধান বাজারে বর্তমানে ৯’শ থেকে ১ হাজার টাকা মণ বিক্রি করতে পারছি। এখন ওই জমিতে অন্য কোন ফসল চাষ করতে পারবো।

একই এলাকার মকছেদুল ইসলাম জানান, আগাম ধানে অনেক সুবিধা। এ সময় বাজারে ধানের দাম ভাল থাকে। সেই সাথে ঘরে খাবারের জোগান হয়। আবার ধানের নতুন খড় গরুর খাবার হয়।

ভূষিভিটা এলাকার কৃষক জুয়েল জানান, আমরা আগাম ধান চাষ করে অনেক লাভবান হচ্ছি। একদিকে দ্রুত ধান পাচ্ছি। অন্যদিকে একই জমিতে ৩ থেকে ৪ টি ফসল চাষ করতে পারছি। আমি এবার ১ একর আগাম আমন ধান চাষ করেছি। বিঘা প্রতি আমার ধান হয়েছে ১৫ থেকে ২০ মণ। বাজারে দাম ভাল থাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। এখন ওই জমিতে আবার টমেটো চাষ করবো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামছুল হক জানান, আমরা কৃষকদের আগাম জাতের আমন ধান চাষ করার পরামর্শ দিয়েছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক কৃষক আগাম জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। বাজারে ভাল দামের পাশাপাশি একই জমিতে ৪ টি পর্যন্ত ফসল চাষ করতে পারছেন তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে/এলআর