Alexa আগস্টের গায়ে আরেকটি কলঙ্কের ছাপ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

আগস্টের গায়ে আরেকটি কলঙ্কের ছাপ

রনি রেজা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪১ ২১ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

আগস্ট তুমি আর কত কলঙ্ক বইবে?
আগস্ট তুমি আর কত নীরব রইবে? 
এবার হবে জাগতে
খুনিদের রুখতে
মুছে কলঙ্কের ছাপ
দেখাও তোমার প্রতাপ।
বিচার চাই, বিচার চাই
অগস্টের সব ঘাতকের
ক্ষমা নেই, ক্ষমা নেই
কোনো ষড়যন্তজাতকের

কাব্যিকতায় আর কতাটুকুই বা প্রকাশ করা যায়! আগস্টের গায়ে লেগে আছে যে কলঙ্কের ছাপ, তা যে বড্ড বেশি ভারি। পনের আগস্ট রাতের কলঙ্কই তো ন্যুব্জ করে দিয়েছে মাসটিকে। এরপর ফের ২০০৪ সালে আরেকটি কলঙ্কের বোঝা যুক্ত হয় আগস্টের গায়ে।  

২০০৪ সালের একুশে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। 

খোলা ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষে নামার জন্য মইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন শেখ হাসিনা।আর তখনই ঘটলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে নৃশংস ও নিকৃষ্টতম অধ্যায়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হল গ্রেনেড। একের পর এক গ্রেনেড। যেন রক্তগঙ্গা। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তবে ভয়াবহ এ হামলা কেড়ে নেয় ২৪টি তাজা প্রাণ। তাদের মধ্যে ছিলেন তখনকার মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমান। এর বাইরে গ্রেনেডের স্পি­ন্টারে ক্ষতবিক্ষত হন কয়েকশ’ নেতাকর্মী, যার যন্ত্রণা তারা এখনো বয়ে চলেছেন।

এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা। তবে প্রাণ হারান আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিরপরাধ মানুষ। আর আহত হন অসংখ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। অনেকে আবার চিরজীবনের জন্য হয়ে যান পঙ্গু। 

নারকীয় সেই হামলার ১৫ বছর পরও আহতরা এখনো সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সেই হামলার কথা মনে করে এখনো মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠেন নিজের অজান্তে। এ হামলায় আহতরা অনেকে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। আহত হয়ে চিরজীবনের জন্য বয়ে রেড়াচ্ছেন দুঃস্বহ স্মৃতি। শোকের মাস আগস্টে এই গ্রেনেড হামলা ছিল বাঙালিদের জন্য আরেকটি মর্মস্পর্শী ঘটনা। যা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বকে হতবাক করে দেয়।

নারকীয় ও ন্যক্কারজনক এ হামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণা করা হয়। যেখানে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশও দেয়া হয়েছে। অবাক করা বিষয় ‘জজ মিয়া’ নামের এক নাটক সাজিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করা হয়। যার নেপথ্যে কাজ করেছিল সেই সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত। মূলত শীর্ষ পর্যায়ের ইন্ধনে হামলার পর প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচাতে সাজানো হয় ‘জজ মিয়া’ নাটক। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে ২১ আগস্ট মামলা নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এরপর সেই তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে অজানা সকল সত্য তথ্য। এরপর আদালতে দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।  

ঘটনার ১৪ বছরের বেশি সময় পর বিচার শেষে এ রায় প্রদান আইনের শাসনের জন্য ছিল বড় এক  মাইলফলক। যা মানুষকে বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী করে তুলেছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে অপরাধী যে হউক শান্তি তার অনিবার্য। 

গেল বছরের ১০ অক্টোবর মামলার রায় হয়। এই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটেছে যারা শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন বিচারের দিকে, তাদের অপেক্ষার। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের বিচারের অপেক্ষার। পুরো জাতি এই কলঙ্কের দায় থেকেও মুক্তি পেয়েছে। আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আরেকটি ধাপে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে রক্তের স্রোত বয়ে গেল আরেক আগস্ট। আগস্টের গায়ে বিঁধে রইল আরেকটি কলঙ্কময় ঘটনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর