আখাউড়া মুক্ত দিবস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

আখাউড়া মুক্ত দিবস

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৫:০৩ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৩১ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

৬  ডিসেম্বর আখাউড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কবল থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে মুক্তিকামী জনতা।

এই দিন মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীকে পরজিত করে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন সড়ক বাজার পোষ্ট অফিসের সামনে।

২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনী ঢাকায় আক্রমন করলে সে দিন থেকেই বাংলাদেশে পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ত্রিপুরা ঘেষা আখাউড়া ছিল পূর্বাঞ্চলীয় প্রবেশদার। রনাঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এ যুদ্ধে স্থানীয়দের অবদান সবচাইতে বেশী।

১৯৭১ সালে ৭ মার্চ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে আখাউড়ার সর্বস্তরের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। মুক্তিযোদ্ধ পরিচালনার জন্য দেশ প্রেমিক, বুদ্ধিজীবি, ছাত্র, যুবক, শ্রমিকনেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে আখাউড়ায় গঠন করা হয় সর্ব দলীয় সংগ্রাম পরিষদ। ওই পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন কাজী ওয়াহেদুর রহমান লিলু মিয়া।

এস ফোর্সের অধিনায়ক লে. কর্নেল সফিউল্লার তত্বাবধানে এ যুদ্ধ চলতে থাকে। ৩০ নভেম্বর ও পহেলা ডিসেম্বর আখাউড়া উত্তরে সীমান্তবর্তী আজমপুর, রাজাপুর, সিঙ্গারবিল, মিরাশানি এলাকায় আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তি বাহিনীর যুদ্ধ হয়। টানা ৩ দিন চলে এ যুদ্ধ।  এ যুদ্ধ অন্তত ৩৫ পাক সেনা নিহত হয়। বন্দী করা হয় ৫ জনকে।

মুক্তি বাহিনীর নায়েক সুবেদার আশরাফ আলী খান এ সময় শহীদ হন। আহত হয় অনেক মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধাদের মারমুখি আক্রমনে পাক বাহিনী দাড়াতে পাড়েনি। তারা তখন পিছু হটতে শুরু করে। ৩ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনীরা আজমপুরে অবস্থান নিলে সেখানেও যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর ১১জন সেনা নিতহ হয়। মুক্তিবাহিনীর ২ সিপাহী ও ১ নায়েক সুবেদার শহীদ হন।

৪ও ৫ ডিসেম্বর অবিরাম যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর প্রায় ১৭০ জন সেনা নিতহ হয়। তখন গোটা আখাউড়া এলাকা মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া পুরোপুরি হানাদার মুক্ত হয়।

আখাউড়ায় থানা খন্ড যুদ্ধের উল্লেখ যোগ্য খরমপুর, দেবগ্রাম, তারাগন, নয়াদিল , দরুইন, টানমান্দাইল, গঙ্গাসাগর, কর্ণেল বাজার, মনিয়ন্দসহ বিভিন্ন স্থান রয়েছে। আখাউড়ার মাটিতে রয়েছে অসংখ্য গণকবর। বীর শেষ্ঠ মোস্তফা কামাল আখাউড়ার মাটিতেই শহীদ হন। তাছাড়া বীর উত্তম শহীদ সাফিলের জম্ম আখাউড়ার মাটিতেই।

হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উপজেলা শাখার উদ্যোগে  র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসুচির আয়োজন করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে

Best Electronics