আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ছুঁতে পেরেছিল তাপসি?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২১ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬,   ১৫ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ছুঁতে পেরেছিল তাপসি?

সৈয়দা সাদিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৫ ১২ মার্চ ২০১৯  

তাপসি পান্নু

তাপসি পান্নু

বড় হওয়ার স্বপ্ন কতজনেরই তো থাকে, কিন্তু কজন পারেন বড় হতে! আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন কম বেশি সবারই থাকে কিন্তু কজনই পারেন ছুঁতে। কত হাজারো কল্পনার জাল বুনে একেক মানুষ একেক প্ল্যাটফর্মে পা রাখেন। এসবে পিছিয়ে নেয় অভিনয় শিল্পীরাও। অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে তারাও পা রাখেন বলিউডে। তবে, অজস্র স্বপ্নগুলো তখনই এই ইন্ডাস্ট্রিতে পূরণ হয় যখন প্রতিভার সাথে সাথে প্রতিযোগীতায় জিতে যাওয়ার মানসিকতা থাকে। এমনই একজন প্রতিভাবান ও ‘লম্বা দৌড়ের ঘোড়া’ হলেন তাপসি পান্নু।

মডেলিং জগতে পা রাখার আগে তিনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সেখানে তিনি বেশ কিছুদিন নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। এরপর মডেলিংয়ে কাজ করে নিজের হাত পাঁকানোর পরই তিনি নাম লেখান অভিনয়ে। তবে এখন কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায়, এই প্রজন্মে তিনি অন্যতম শীর্ষ প্রতিভাবান একজন অভিনেত্রী।

বর্তমানে তিনি যখন যে চরিত্রটা করেন, দর্শকদের নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে মুগ্ধ করেন। ‘নাম শাবানা’র শাবানা খান, ‘মানমার্জিয়া’র রুমি বাগ্গা, ‘মুলক’-এর আরতি মোহাম্মদ, ‘পিঙ্ক’-এর মিনাল অরোরা অথবা ‘সুরমা’র হারপ্রিত, আবার ‘বারিশ ওউর চওমিন’-এর রাফ অ্যান্ড টাফ নিলু চরিত্রে তার সব কাজগুলোই এতটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল যে তা অনেকদিন ধরে চোখে লেগেছিল দর্শকদের। ছবি হিট হোক, কিংবা ফ্লপ– তাপসি কিন্তু সব চরিত্রের জন্য ভীষণ আলোচিত হয়েছিলেন।

এছাড়াও অভিনয়ে আসার আগে তাপসির ছিল দক্ষিণী ছবির প্রোডাকশন হাউজ। যেখান থেকে তিনি বলিউডে আসার আগে ১০ টা তামিল-তেলেগু ছবি নির্মাণ করেন। তার অভিষেক হয় ২০১০ সালে, কে. রাঘাবেন্দ্র রাও’র তেলেগু ছবি ‘ঝুমান্দি নাদাম’ দিয়ে। আর বলিউডে তিনি প্রথম অভিষেক হন ২০১৩ সালে ডেভিড ধাওয়ানের ‘চাশমে বাদ্দুর’ ছবিটি দিয়ে।

ফলে এও বলা যায়, হিট হওয়ার জন্য সিনেমায় তাপসির ক্যারিয়ারের বয়সটা নেহায়েৎ কম নয়। যদিও, সিনেমায় আসার আগে প্রথম তিনি লাইমলাইটে আসেন ২০০৮ সালের ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করে। এর আগে চ্যানেল ভি-এ ‘গেট গর্জিয়াস’-এ ছিলেন এই নায়িকা।

তাপসির জন্ম ১৯৮৭ সালের আগস্ট মাসে দিল্লীতে। বেড়ে ওঠা, পড়াশোনাও সবই দিল্লীতে। তাপসি হলেন ‘বিউটি উইদ দ্য ব্রেন’-এর বাস্তব নিদর্শন। ছোট বেলা থেকে খেলাধুলায়ও তিনি ছিলেন দারুণ। স্কোয়াশ খুব ভাল খেলেন। রোজ আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা করে এই খেলায় সময় দেন নিজেকে। এর আরো একটি কারণও আছে যাতে নিজেকে ফিট রাখতে পারেন। আর পড়াশোনায় তিনি শৈশব থেকেই তুঁখোড়। দ্বাদশ শ্রেণী পাশ করেছিলেন ৯০ শতাংশ নাম্বার নিয়ে।

ওই সময় তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। এছাড়াও এমবিএ করার জন্য ভর্তি পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। তার সিএটি স্কোর ছিল ৮৮ শতাংশ। প্রথম দফায় পাশ করে গেলেও অবশ্য এমবিএটা আর ‍শুরুই করতে পারেননি। কারণ, ওই সময় তার ধ্যান জ্ঞান ছিল শুধুই অভিনয়।

তাপসির বাড়িতে তাকে সবাই ডাকে ‘ম্যাগি’ নামে। তার একটি কারণও আছে। ম্যাগি নুডুলসের সঙ্গে তার চুলের সম্পর্ক আছে। বরাবরই তাপসির চুল কোকড়ানো, অনেকটা সেই ম্যাগি নুডুলসের মতই। সেজন্যইতো বাসায় তার এমন নামকরণ।

এদিকে তাপসির অভিনয় জীবনের বাইরে তার হাজারটা পরিচয়। তিনি একজন পেশাদার নৃত্য শিল্পীও বটে। যখন তিনি ফোর্থ স্ট্যান্ডার্ডে পড়েন, তখনই কত্থক ও ভরতনাট্যমের সাথে পরিচিত হন। এরপর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনি ক্লাসিকাল ড্যান্সিংয়ে বেশ কিছু পুরস্কারও জয় করেন। বলা যায়, এটা তাপসির মুকুটের একটি অনন্য পালক।

জীবনে কী করেননি তাপসি। ওই সময় তিনি একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানও চালাতেন। নাম ‘দ্য ওয়েডিং ফ্যাক্টরি’। এটা বিয়ে-সহ অনান্য পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কাজ করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানে তাপসির সাথে আরো আছেন বোন শাগুন পান্নু ও বন্ধু ফারাহ পারভারেশ। বোঝাই যাচ্ছে, তাপসির প্রতিভার কোনো শেষ নেই। আর জীবনে উন্নতির জন্য তিনি সব পরিসরে কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics