আকর্ষণীয় নিষিদ্ধ মাছেই ঝুঁকছে পালাউবাসী

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭,   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আকর্ষণীয় নিষিদ্ধ মাছেই ঝুঁকছে পালাউবাসী

ফিচার ডেস্ক   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৫ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:০১ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সমুদ্রের তলদেশে চলাফেরা করছে রিফ মাছ

সমুদ্রের তলদেশে চলাফেরা করছে রিফ মাছ

২০২০ সালের প্রথম জানুয়ারি থেকে পাঁচ লাখ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকা অভয়ারণ্য ঘোষণা করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের দেশ পালাউ। অভয়ারণ্যে রিফ জাতীয় মাছ (বিভিন্ন আকর্ষণীয় রঙের মাছ) সংরক্ষণের কথা ছিল। তবে দেশটিতে দেদারছে ভক্ষণ হচ্ছে রিফ জাতীয় মাছ গ্রেপার, স্নেপার ও প্যারোট। কড়া নজরদারির মাঝেও রক্ষা করা যাচ্ছে না এসব মাছ। এখন অভয়ারণ্যটির লক্ষ্য বিপরীতমুখী কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠা করা সামুদ্রিক অভয়ারণ্যটি মেক্সিকো থেকে দ্বিগুণ বড় ও বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম সংরক্ষিত এলাকা, যা পালাউয়ের ৮০ শতাংশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। যেখান থেকে মাছ শিকার ও তেল আহরণ করা বন্ধ করে পালাউ।

অভয়ারণ্যের লক্ষ্য ছিল রিফ মাছের ওপর চাপ কমানো আর স্থানীয়ভাবে টুনা মাছের শিল্পায়নের প্রতি সবাইকে উৎসাহ করা। কিন্তু অভয়ারণ্য এলাকা থেকে বাণিজ্যিক মাছ ধরার ট্রলার ত্যাগের ঘোষণার পর পালাউয়ের দোকান ও রেঁস্তোরায় অরক্ষিত রিফ মাছের সংরক্ষণ ও ভোক্তাদের ভক্ষণ বেড়ে যায়। আর হ্রাস পায় টুনা মাছের যোগান।

রিফ মাছ ভক্ষণের পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখ করে পালাউ আন্তর্জাতিক কোরাল রিফ সেন্টারের (পিআইসিআরসি) প্রধান নির্বাহী ও সামুদ্রিক অভয়ারণ্যের প্রশাসক ইমনেং গুলবু বলেন, আমরা যা চাচ্ছি, তা হিতে বিপরীত হচ্ছে। তাই টুনা মাছের যোগান বাড়াতে হবে। সামুদ্রিক অভয়ারণ্যটি তৈরির আগেও দেশের রেঁস্তোরা বা সুপার মার্কেটে টুনা মাছের যোগান ছিল না। কিন্তু পালাউ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কর্পোরেশনের (পিআইটিআই) পক্ষ থেকে একটি বাণিজ্যিক মাছ ধরার জাহাজের কোম্পানিকে সামুদ্রিক অভয়ারণ্য থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়ার পরই সমস্যাটি বাড়তে থাকে। যার অর্থনৈতিকে টেকসই ছিল না।

গুলবু আরো বলেন, হঠাৎ পালাউয়ের জলসীমা থেকে সবাইকে বের করে দেয় পিআইটিআই। এতে শুরুতেই বিষয়টি খারাপ হয়ে পড়ে। এছাড়া চীনের নতুন বছর ও কেউ মাছ না ধরায় সমস্যাটি বাড়তেই থাকে। তবে স্থানীয়ভাবে ফিশারির মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারব বলে আশাবাদী।

পালাউয়ের একটি বিখ্যাত সামুদ্রিক মাছের রেঁস্তোরা ড্রপ অফ’র মালিক কেল ইটপিসন বলেন, সামুদ্রিক অভয়ারণ্য বাস্তবায়নের পর পালাউয়ের অনেক রেঁস্তোরায় খাবার মেন্যু থেকে টুনা মাছ বাদ দেয়া হয়েছে। এর বদলে রিফ মাছ বা তার মতো স্যালমন ও ফ্রোজেন বাসা ভোক্তাদের পরিবেশন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমার রেঁস্তোরা টুনা মাছের জন্য জনপ্রিয়। কিন্তু টুনা মাছের সংকটের ফলে ভোক্তাদের জোর করে রিফ মাছের ডিশ দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

কেল ইটপিসন বলেন, আমরা রিফ মাছের চেয়ে বাণিজ্যিক মাছ খেতে ভোক্তাদের উৎসাহ দেই। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে বারের মালিকরাসহ অনেকে টুনা মাছের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। কয়েকদিন পর আমরা হয়ত রিফ মাছের চেয়ে টুনা মাছ কম দেখতে পারব।

পালাউয়ের অন্যতম সুপার মার্কেটের মালিক সুরাংগেল উইপস জেআর. বলেন, টুনা মাছের সংকটের কারণে অনেক রিফ মাছ সংরক্ষণ করতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা টুনা ও প্রক্রিয়াজাত করা টুনা মাছ বিক্রি করেছি। এখন কোনো টুনা মাছ নেই। সবাই রিফ মাছ কিনছে। তাই ওই মাছ আনার ক্ষেত্রে চাপে রয়েছি আমরা।

সুরাংগেল উইপস জেআর. বলেন, সামুদ্রিক অভয়ারণ্য করা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু আমাদের স্থানীয়ভাবে বিকল্প মাছ উৎপাদনের সামর্থ্য বাড়াতে হবে।

সমালোচকরা মনে করছেন, সামুদ্রিক অভয়ারণ্য বাস্তবায়নের আগে পালাউয়ের উচিত ছিল স্থানীয়ভাবে টুনা মাছের উৎপাদন নিশ্চিত করা। 
দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ ও পর্যটনমন্ত্রী উমিচ সেনগেবাউ বলেন, স্থানীয়ভাবে টুনা মাছ উৎপাদন শিল্প তৈরি করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু রাতারাতি কিছুই হবে না।

কংগ্রেসের বরাতে তিনি আরো বলেন, স্থানীয় জেলেদের বড় জাহাজ নিয়ে সমুদ্রতীর থেকে দূরে মাছ শিকারের জন্য একটি বিকল্প পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ