আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমানে সমান

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

হবিগঞ্জ-৩

আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমানে সমান

 প্রকাশিত: ২০:২৪ ১৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২০:২৪ ১৮ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৩ আসন। মূলত হবিগঞ্জ জেলা থেকেই প্ররিচালিত হয়ে থাকে কর্মসূচি প্রণয়ন থেকে শুরু করে যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। যে কারণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে এ আসনটি।

আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছে দুই জন প্রভাবশালী নেতা। এ আসনের বর্তমান এমপি হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। অপরদিকে দলের কঠিন সময়েও হাল ধরে রেখেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব জিকে গউছ। তিনি গত পৌরসভা নির্বাচনে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে থেকেও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টি। তাদের নেই কোনো দৃশ্যমান দলীয় কার্যক্রম। কোন্দলের কারণে সমন্বয় নেই নেতাদের মাঝে। সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নেই জেলা নেতৃবৃন্দের নিয়মিত যোগাযোগ। সব মিলিয়ে জেলা জাতীয় পার্টিতে চলছে করুণ দশা।

বর্তমানে হবিগঞ্জের সবকটি আসন আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে বিবেচিত করা হয়। যদিও স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটিতে বেশি সংখ্যকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির মরহুম আবু লেইছ মুবিন চৌধুরী। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি দল পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করে এমপি নির্বাচন করেন। এ সময় প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এম এ এস কিবরিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় অর্থমন্ত্রী শাহ এমএএস কিবরিয়া নিহত হলে এ আসনটিতে উপনির্বাচন হয়। উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবু লেইছ মুবিন চৌধুরী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। তখন থেকে আজ পর্যন্ত এ আসনটি রয়েছে আওয়ামী লীগের দখলে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচন না করায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় পার্টির জেলা আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিক।

নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মেয়র আলহাজ জিকে গউছ কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে থেকেও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এ হিসেবে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে এ আসনে মেয়র জিকে গউছের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বলা যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলা, লাখাই উপজেলা ও শায়েস্তাগঞ্জ নিয়ে গঠিত আসনটিতে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমানে সমান।

আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির একক প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধারে দুবার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্র রয়েছে যোগাযোগ। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গেও রয়েছে তার সরাসরি যোগাযোগ। যে কোনো এলাকা থেকে আসা লোকজনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে দিচ্ছেন নানা সমস্যার সমাধান। গ্রাম্য বিরোধ থেকে শুরু করে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতেও সমানতালে ভূমিকা রেখে সর্বমহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন তিনি।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাক পৌর মেয়র আলহাজ জিকে গউছ। তিনি একাধারে তিনবার হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনার শীর্ষে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ড্যাব সভাপতি ডা. আহমুদুর রহমান আবদাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম তাদের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে হবিগঞ্জ লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ বাসির যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতে আর কোনো সরকারের আমলে হয়নি। উন্নয়নের ছোঁয়ায় শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরিত হয়েছে হবিগঞ্জ জেলা। এ ছাড়া জেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, আধুনিক স্টেডিয়াম, প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ শতভাগ পৌঁছে দেয়া, সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বৃন্দাবন সরকারি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা, জুডিসিয়াল ভবন নির্মাণসহ সব উন্নয়নই এ আমলে হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক কাজ পক্রিয়াধীন রয়েছে। বাকি কাজগুলো সমাপ্ত করতে আগামীতেও নোকৗয় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলহাজ জিকে গউছ বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে নিজে থেকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে। তাই দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই কাজ করবে দলীয় নেতাকর্মীরা। তিনি আরও বলেন, দল যে সময় যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা মেনে নিয়েছি। কারাগার থেকে দলের সিদ্ধান্তে পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে পৌরবাসী আমাকে নির্বাচিত করে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এছাড়াও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে সরব রয়েছেন শিল্পপতি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ আতিকুর রহমান আতিক। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সর্বশেষ চমক দেখার প্রতীক্ষায় তিনি। তবে তিনি আসলে কোনো আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ড্যাব সভাপতি ডা. আহমুদুর রহমান আবদাল বলেন, এখন দেশের যা অবস্থায় নির্বাচন বড় কথা নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করে আনাই বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়াও এবারের নির্বাচন বিএনপিকে বাদ দিয়ে করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর এলাকার কৃষক ফুল মিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি বুঝি না যে সরকার জনগণের উন্নয়ন ও কৃষকদের সঙ্গে থাকবে তাদেরই ভোট দেব।’

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর