আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে গ্রুপিং, সুযোগ নিতে চায় জাপা

ঢাকা, শুক্রবার   ২১ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে গ্রুপিং, সুযোগ নিতে চায় জাপা

 প্রকাশিত: ২০:৪৬ ১৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২১:৪৩ ১৮ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জামালপুর-২ আসন।

বরাবরের মতোই গ্রুপিংয়ে বিদ্ধ বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এরই সুযোগ নিতে চায় জাতীয় পার্টি। জোটে আসন ভাগাভাগিতে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ারও গুঞ্জনও রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের ২জন সম্ভাব্য প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির ২জন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। এখানে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান প্রায় সমানে থাকলেও বিএনপি গ্রুপিংয়ের ফলে মাঠ পর্যায়ে দুর্বল। এছাড়াও জাতীয় পার্টির (এরশাদ) একজন সম্ভাব্য প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদুল হক খান দুলাল ও মাহজাবিন খালেদ বেবী। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু ও সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব এএসএম আব্দুল হালিমের মধ্যে চলছে গ্রুপিং।

জাতীয় পার্টিকে অধিকতর চাঙ্গা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মোস্তফা আল মাহমুদ। এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগে ভাগ বসাতে চান তিনি। এছাড়াও এ আসনের কেন্দ্রীয় সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খানও আলোচনায় রয়েছেন।

জামালপুর-২ আসনে বর্তমানে দু’জন এমপি রয়েছেন। একজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল এবং অপরজন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মাহজাবিন খালেদ বেবি। এ দুইজনই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এমপি প্রার্থী।

এছাড়াও ঢাকা বিমান বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আলহাজ শাহজাহান আলী মণ্ডল ও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র জিয়াউল হক জিয়া এ আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন চাইবেন সুযোগ বুঝে।

আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল এমপি বলেন, ইসলামপুরের অসহায় মানুষগুলোর কল্যাণ করার চিন্তা নিয়েই রাজনীতির মাঠে নেমেছি। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন না করে ঘরে ফেরার কোনো অভিলাষ আমার নেই। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইসলামপুরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ পূরণের চেষ্টা করেছি। এছাড়া তার আমলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করছেন।

মাহজাবিন খালেদ বেবী বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা অনেক আগে থেকেই ইসলামপুরবাসীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আমার বাবা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। চাচা সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত রাশেদ মোশারফ ইসলামপুর আসন থেকে ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়ে ইসলামপুরবাসীর কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই সুবাদে প্রধানমন্ত্রী আমাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি বানিয়ে জামালপুর তথা ইসলামপুরবাসীর কল্যাণে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে অবশিষ্ঠ জীবন ইসলামপুরবাসীর কল্যাণে উৎসর্গ করতে চাই।

বিএনপির সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, জোট সরকারের আমলে এমপি হয়ে দীর্ঘ ৫টি বছর নিরলস পরিশ্রম করেছি। যার সুফল ইসলামপুরবাসী আজো ভোগ করছেন। ইসলামপুরে বিএনপির রাজনীতিতে আমার কোন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বি নেই।

বিএনপির অপর প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এএসএম আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, এলাকা থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্যই বিএনপির রাজনীতিতে এসেছি। খালেদা জিয়া এবার আমাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিবেন।

জাতীয় পার্টির মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, দলের চেয়ারম্যান এ আসন থেকে আমাকে লাঙ্গল প্রতিকের মনোনয়ন দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী করতে আশ্বস্ত করেছেন। আমি লাঙ্গল প্রতি নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে ইসলামপুরের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাসহ চরাঞ্চলের অসহায় মানুষগুলোর কল্যাণে কাজ করতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর