ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

ইখলাস: ঈমানী সতর্কতা

হাবীবুল্লাহ সিরাজ

 প্রকাশিত: ১৯:২৩ ৪ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৯:২৩ ৪ অক্টোবর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঈমান গ্রহণ করা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন ঈমানদারের কাছে যে বিষয়টি উপস্থিত থাকতে হয় এবং এর ওপর দৃঢ় থাকতে হয় তা হলো ইখলাস। উর্দুতে তার অন্য একটি নাম রয়েছে লিল্লাহিয়্যাত। 

ইখলাসের বাংলা শব্দ খুঁজতে গেলে আমাদের সামনে যে শব্দগুলো আসবে তা হলো সততা, একনিষ্ঠতা, আন্তরিকতা, অকপটতা, বিশ্বস্ততা, অন্তরের অন্তর থেকে করা, মহান আল্লাহর জন্য করা, মানুষের জন্য না করা। ঈমান গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো যদি অনুপস্থিত থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির ঈমানে দুর্বলতা রয়েছে। তার ঈমানের মধ্যে গলত রয়েছে। 

ঈমানের পর আসে আমলের কথা। আমল তো পরের কথা যদি কারো ঈমান গ্রহণের ক্ষেত্রেই দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়, তার ঈমান মহান আল্লাহর কাছে অগ্রহণযোগ্য। ইখলাস বিষয়টি মহান আল্লাহ তায়ালা এমন করে রেখেছেন যে, একজন অন্যজনের ইখলাস দেখতে পায় না। এখানেই হলো একজন খাঁটি মুমিন ও অমুমিনের পরিচয়।

একজন খাঁটি মুমিন চিন্তা করে তার ঈমান আমল ও সব ইবাদত মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য, অন্য করো জন্য নয়। আর একজন অমুমিন তথা মুনাফিক মনে করে তার সব কিছু লোক দেখানো। তার যত ভালো ক্রিয়াকর্ম আছে সবগুলো সে মানুষের সামনে করে; যেন মানুষ তাকে ভালো বলে। এই ইখলাসের নড়বড়ের কারণে দেখা যায় কেউ সারাজীবন আমল করেও জান্নাত লাভ করতে পারেনি, আবার কেউ একবার দু’বার আমল করেই জান্নাত লাভ করে ফেলে।

ইখলাস বিষয়ে পবিত্র কোরআন হাদীসে রয়েছে প্রচুর সতর্কতা ও কঠিন উচ্চারণ। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের পরতে পরতে বার বার এই ইখলাসের কথা বলেছেন। হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার অসংখ্য হাদীসের এই ইখলাসের কথা বলেছেন। 

পবিত্র কোরআন হাদীসে ইখলাসের কথা শোনার আগে ইমাম গাজালী (রহ.) রচিত কিমিয়ায়ে সাদাত গ্রন্থ থেকে ইখলাস তথা অন্তরের পরিশুদ্ধতার বিষয়ক একটি ঘটনা বর্ণনা করি। ইমাম গাজালী লিখেন- বনী ইসরাইলের কোনো এলাকায় লোকেরা মহান আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে একটি গাছ পূজায় জড়িয়ে পড়ে। একদিন দু’দিন করে এই পূজার ব্যাধি সারা এলাকা ছড়িয়ে পড়ে। তৎসময়ে ওই এলাকায় একজন মহান আল্লাহ ওয়ালা ছিলেন। তিনি ভাবলেন এভাবে চলতে দিলে সারাদেশ গোমরাহিতে ডুবে যাবে। এখনই তার একটি বিহিত করা দরকার। তিনি অনেক চিন্তা-ভাবনা করার পর সিদ্ধান্ত নিলেন ওই পূজিত গাছটাই কেটে ফেলেবেন। 

ওই মহান আল্লাহর ওলী সিদ্ধান্তানুযায়ী একদিন সকালে একটি কুড়াল নিয়ে রওয়ানা দিলেন গাছ কেটে ফেলবেন। এখানে এই কথা জানা দরকার যে, তিনি ছিলেন জীর্ণশীর্ণ এক বৃদ্ধ। কুড়াল নিয়ে তিনি চলছেন। হঠাৎ একজন লোক তাকে বাঁধা দিলো। সে ছিলো মূলত একটি শয়তান। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর ওলী তার বাঁধা মানলেন না। কোনো ভাবেই যখন তাকে ফেরানো যাচ্ছে না তখন শয়তান তার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। দস্তাদস্তির এক পর্যায়ে মানুষবেশি শয়তানের বুকের ওপর মহান আল্লাহ ওলী চেপে বসলেন। তখন নিচ থেকে ওই শয়তান লোকটি বলে তুমি গাছটি কাটিয়েও না, যদি আমার কথা মানো তবে; আমি তোমাকে প্রতিদিন দশ দিরহাম করে স্বর্ণ মুদ্রা দেব। 

মহান আল্লাহর ওলী শয়তানের জালে ফেঁসে গেলেন। সে আর গাছ কাটলো না; প্রতিদিন দশটি করে স্বর্ণ মুদ্রার লোভে। এভাবেই চলতেছে। প্রতিদিন সকালে শয়তান তাকে দশটি করে স্বর্ণ মুদ্রা দেয়। এভাবে শয়তান কিছু দিন দেবার পর দেওয়া বন্ধ করে দিলো। ওই লোকটি আবার গাছ কাটার জন্য কুড়াল নিয়ে রওয়ানা দিলেন। এবারও ওই শয়তান তাকে বাঁধা দিলো। দু’জনের মাঝে দস্তাদস্তি হলো। ওই লোকটি নিচে পড়ে গেলো, আর শয়তান লোকটি তার বুকের ওপর চেপে বসলো। তখন শয়তান বলছিল হে আল্লাহর বান্দা প্রথম যে তোমার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল, তখন তুমি বিজয়ী হয়েছো তোমার শক্তি দুর্বল হওয়ার সত্তেও। অথচ আমি ছিলাম তোমার থেকে দেহে ও কৌশলে শক্তিমান। কারণ ওই দিন তোমার ভিতরে ইখলাস ছিল, ছিলো লিল্লাহিয়্যাত। গাছ কাটতে এসেছিলে আল্লাহর জন্য। আর আজকে গাছ কাটতে এসেছো; স্বর্ণ মুদ্রার জন্য। আজকে তোমার ভিতরে ইখলাস নেই; তাই তুমি পরাজিত পরাভূত।
 
পবিত্র কোরআনে ইখলাসের শক্তিশালী বিবরণ:

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার মহাগ্রন্থ আল কোরআনুল কারিমের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে ইখলাসের বিবরণ দিয়েছেন। সুস্পষ্ট বিবরণ। কখনো ইবাদতের বর্ণনায়। কখনো পূর্ববর্তিদের ঘটনায় আবার কখনো সরাসরি ইখলাস ও লিল্লাহিয়্যাতের কথা বলেছেন। এমন কিছু আয়াত দেওয়া হলো-

 إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ  أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ 

অর্থ : (হে রাসূল!) নিশ্চয়ই আমিই এ কিতাব তোমর প্রতি নাজিল করেছি সত্যসহ। সুতরাং তুমি আল্লাহর ইবাদত কর তাঁর জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। স্মরণ রেখ, খালেস আনুগত্য তারই প্রাপ্য। যারা তাকে ছাড়া অন্যসব অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে (এই কথা বলে যে,) আমরা তাদের উপাসনা করি কেবল এজন্য যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে, আল্লাহ তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন যার মাঝে তারা মতবিরোধ করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কোনো ব্যক্তিকে পথে আনেন না, যে চরম মিথ্যুক, ঘোর কাফের।’ (সূরা: যুমার, আয়াত: ২-৩)। 

পবিত্র কোরআনের অন্যত্রে-

 وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ

অর্থ: ‘আর তাদেরকে এছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি অন্তর তথ্য ইখলাসের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করবে। সালাত কায়েম করবে এবং জাকাত আদায় করবে; আর এটিই হলো সঠিক দ্বীন।’ (সূরা: বাইয়িনাহ, আয়াত: ০৫)। 

ইখলাসের সঙ্গে আল্লাহকে ডাকার নির্দেশ রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আয়াতে কারিমাতে। যেমন- 

قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ 

অর্থ : (হে নবী!) বলুন, আমার রব আমাকে ন্যায় বিচারের আদেশ দিয়েছে আর তোমরা প্রত্যেক সিজদার সময় তোমাদের চেহারা সোজা রাখবে এবং তাঁরই ইবাদতের জন্য একনিষ্ঠ হয়ে (ইখলাসের সঙ্গে) তাকে ডাকবে। যেভাবে তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে তোমরা প্রথমে ফিরে আসবে।’ (সূরা: আ’রাফ, আয়াত: ২৯)। 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর কাছে প্রতিদান কামনা করা:

ইখলাসের একটি স্তর হলো সমস্ত কাজের প্রতিদান মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। এখন যদি কেউ লোকদের কাছে চায়? তাহলে বুঝতে হবে তার ইখলাসের কমতি আছে। সেই কথাটাই মহান আল্লাহ তায়ালা তার কালামের মাঝে ব্যক্ত করেছেন নিম্নে বর্ণিত ভাষায়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- 

فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ 

অর্থ : ‘সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো। আর আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। বরং আমার প্রতিদান তো মহান আল্লাহ তায়ালার দায়িত্বে রয়েছে।’ (সূরা: শুয়ারা, আয়াত: ১৬৩-১৬৪)। 

এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, আমি প্রতিদানের আশা রাখি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছেই। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা থেকে বুঝা যায়, দুনিয়ার কারো নিকট কোনো কিছুর প্রতিদান চাওয়া ইখলাসের পরিপন্থি। যে আমল করবে, ভালো কাজ করবে তাতেও থাকতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। অন্য কারো সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা হলে তাহলে হবে ইখলাস বহির্ভূত বিষয় যা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে গ্রহণীয় নয়। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- 

وَمَا تُنفِقُواْ مِنْ خَيْرٍ فَلأنفُسِكُمْ وَمَا تُنفِقُونَ إِلاَّ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ وَمَا تُنفِقُواْ مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لاَ تُظْلَمُونَ 

অর্থ : ‘আর যে সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, সেটা তো নিজেদের উপকারের জন্যই করে থাক। সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে খরচ করো না। তোমরা কোনো উত্তম (কাজে) বয় করলে তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। আর তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৭২)। 

শুধুমাত্র ইবাদত নয়, সবকিছুই মহান আল্লাহর জন্য হওয়াই হলো ইখলাস। এই বিষয়টাও মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তার কালামে মাজিদের মাঝে সুন্দর করে বর্ণনা করেন। ইরশাদ হচ্ছে- ‘ 

قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ

অর্থ : ‘আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি (আমার যত কষ্টসাধ্য ইবাদত আছে) এবং আমার জীবন মরণ সবকিছু সেই সত্তার জন্য যিনি এই বিশ্বে পালনকারী। তার কোনো শরিক নেই এবং আমাকে এরই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আর আমি মুসলমানদের মধ্যে সর্ব প্রথম।’ (সূরা: আনআম, আয়াত: ১৬২-১৬৩)। 

এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআনে মুফতি শফি (রহ.) লিখেন- আমাদের নামাজ রোজা, হজ, যাকাত, ইবাদত-বন্দেগী, সাদকা, বন্ধুত্ব, শত্রুতা, ভালোবাসা, বিরাগভাজন, জীবন-মরণ হাসি-কান্না, সুখ দুঃখ সবই হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য। 

ইখলাস বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসংখ্য অগণিত হাদীসবাণী করেছেন। ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (রহ.) তাদের কিতাবদ্বয়ে একটি বিশুদ্ধ সনদসহ হাদীস উল্লেখ করেছেন। তা হলো- 

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন; আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি’ তিনি বলেন, ‘আমালের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভর করে। যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত (দেশত্যাগ) করে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই হবে। আর যে দুনিয়া কামানোর আশায় হিজরত করে অথবা কোনো মহিলাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করে তার হিজরত তাই হবে, যা সে নিয়ত করেছে।

এই হাদীসের পিছনে একটি ঘটনাও আছে যে, হিজরতের সময় একজন সাহাবী (রা.) এক নারীর জন্য হিজরত করেছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তার কোনো সওয়াব হবেনা। কেন সওয়াব হবেনা কারণ তার হিজরত ছিল আল্লাহর জন্য নয়। আর ইখলাস তো তাকেই বলে যা আল্লাহর জন্য করা হয়। 

উল্লিখিত পবিত্র কোরআন-হাদীস থেকে আমরা যে শিক্ষাটা পেলাম তা হলো আমাদের সর্বকাজে সদাসর্বদা ইখলাস থাকতেই হবে। এর ব্যতিক্রম হলে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহকে জান্নাতকে পাওয়া হবে না। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার জন্য সব কিছু করার তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে