আওয়ামী লীগ-জাপার টানাটানি, নীরব বিএনপি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী)

আওয়ামী লীগ-জাপার টানাটানি, নীরব বিএনপি

 প্রকাশিত: ২০:৪৩ ২০ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২২:৫৪ ২০ জুলাই ২০১৮

ঢাকা ৪ এর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা

ঢাকা ৪ এর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা

তিন সিটি নির্বাচনে সরগরম ভোটের মাঠের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই দেশের সংসদীয় আসনগুলোও। ঢাকা-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরইমধ্যে শুরু করেছেন তৎপরতা। নানা কৌশলে গণসংযোগে ব্যস্ত  তারা। অন্যদিকে,অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশায় ভোটাররা বলছেন, জনগণের চাওয়া পাওয়াকে মূল্যায়ন করবেন এমন প্রার্থীই বেছে নেবেন তারা।

ঢাকা-৪(শ্যামপুর-কদমতলী) আসনটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং ডিএমপির শ্যামপুর থানার শ্যামপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এলাকার মোট জনসংখ্যা- ৫,২৯,৫০০ জন। ভোটার সংখ্যা ৫৬,৯৬৬ জন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ আসনে আওয়ামী লীগের চার মনোনয়ন প্রত্যার্শী মাঠে নেমেছেন। এরা হলেন, সাবেক এমপি সানজিদা খানম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুনির হোসেন, শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ও ড. আওলাদ হোসেন। আগামী নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত স্থানীয় এমপি জাতীয় পার্টি নেতা সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে তিল পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ তারা।  আসনটিতে আওয়ামী লীগের নাকি মহাজোটের প্রার্থী দেয়া হবে, এনিয়ে রহস্যের যেন শেষ নেই। 

আওয়ামী লীগের একটি সূত্রে জানিয়েছে, এবারো মহাজোট থেকে সমর্থনের জন্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। এদিকে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে এরইমধ্যে মাঠে নেমেছেন প্রচারণায়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও করছেন আলাপ-আলোচনা। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আব্দুল হাই। বর্তমানে বিএনপি বা অন্যকোনো দলের প্রার্থীর তেমন প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। 

সানজিদা খানম বলেন, দলের কাছে নমিনেশন চাইব। কারণ আমি দুবার নৌকা প্রতীক পেয়েছি। আশা করি এবারও পাব। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বাবলার পক্ষে কাজ করবে,এতে লাভ হবে না। তবে আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে যদি আবারো মহাজোটের পক্ষে প্রার্থী দেওয়া হয়, আর নেত্রী যদি তার পক্ষে কাজ করতে বলেন- তা মেনে কাজ করতে রাজি সানজিদা। তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে রাজনীতি করি। 

এদিকে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক  মুনির হোসেন স্বপন বর্তমান এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও সানজিদা খানমকে নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দিতে নারাজ। দলীয় প্রতীক পেতে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। 

মুনির হোসেন বলেন, ঢাকা-৪ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পাটির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম,  দুইজনের একজনেরও অবস্থা ভাল নয়। তাদের কোনো আদর্শ নেই বললেই চলে। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে। যদি না দেয়, তাহলে দলের বাইরে থেকেই নির্বাচন করার হুমকিও দেন তিনি। 

জানা গেছে, দশম জাতীয় নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় কোন্দল, দ্বন্দ্ব। ভাগ-বাটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘটছে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও। এছাড়া, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সানজিদা খানমের সমর্থকদের নানা ইস্যুতে বিরোধ চলছে শুরু থেকেই। আধিপত্য বিস্তার এবং কাজের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব এখন চরমে। হামলা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার। 

গণসংযোগে পিছিয়ে নেই বর্তমান এমপি বাবলা। তিনিও নেমে পড়েছেন মাঠে। প্রায় প্রতিদিনই আসনের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন। জনে জনে,ঘরে ঘরে যাচ্ছেন দল ও জোটের প্রচারণা নিয়ে। ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিগতদিনে নিজের, জোটের এবং দলের পক্ষে উন্নয়নের ফিরিস্তি। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন করছেন বৈঠক ও সমাবেশ। মতবিনিময় করছেন স্থানীয়দের সঙ্গে। দলীয় নেতাকর্মী ও জোট সমর্থিতরাও তার পক্ষে চালিয়ে যাচ্ছেন মিছিল-মিটিং। জোট ও দলীয় মনোনয়নে শতভাগ আশাবাদি বাবলা। কে ছাড় দিল বা না দিল তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই তার। জোট নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলীয় চেয়ারম্যান এরশাদের উপর রয়েছে তার অগাধ বিশ্বাস।

শ্যামতলী ইউনিয়নের ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার এবং আওয়ামী লীগের সদস্য  হেলেনা আক্তার বলেন, সাবেক এমপি সানজিদা খানম খুবই ভালো কাজ করেছেন। নারী ভোটারসহ সাধারণ মানুষদের কখনো কোনো কাজে ফিরিয়ে দেননি তিনি। আমরা রাজনীতি করি আওয়ামী লীগের। নেত্রী যাকে এই এলাকা থেকে মনোনয়ন দেবেন তাকেই ভোট দেব। তবে বাবলাকেও ভালো প্রার্থী বলে জানান তিনি। 

হেলেনা আক্তার আরো বলেন, এখন তো সবাই আওয়ামী লীগ। কে বিএনপি, কে জামায়াত সেটা বোঝা যায় না। বলতে গেলে বিএনপি-জামায়াত নিষ্ক্রিয়। তাদের কোনো দলীয় প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় নেই। 

আল্লাহর দান বক্স-এর স্বত্বাধিকারী মো. বাদশা বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে সানজিদা দলটির নেতাকর্মীদের হাতে অনেক মার খেয়েছেন। ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক উন্নয়ন করেছেন তিনি। শুধু জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারেননি। এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, জাতীয় পার্টির এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা সানজিদার মতো এত উন্নয়ন না করলেও, তিনিও বেশকিছু কাজ করেছেন। তবে তিনি মহাজোটের সমর্থিত প্রার্থী হলেও, জাতীয় পার্টির এমপি। এলাকায় সমস্যা হলো শুধু একটা চেয়ার নিয়ে। আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি চেয়ারটা নিয়েই বারবার টানাটানি করে। তিনি বলেন, আমরা বাবলা ও সানজিদা কিছুই বুঝিনা। যে ভালো হবে, তাকেই ভোট দেব। আমরা ডাল-ভাত খেতে চাই।

এদিকে, এ আসনে বিএনপির নেতাদের প্রচার-প্রচারণা তেমন চোখে পড়ে না। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন সাবেক এমপি আব্দুল হাই ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ডিএম/এএএম/আজ/এলকে