আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির গ্রুপিং, বিএনপির একক প্রার্থী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৬ ১৪২৬,   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

জামালপুর-৪

আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির গ্রুপিং, বিএনপির একক প্রার্থী

 প্রকাশিত: ১৯:৪৫ ২০ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২০:৩৩ ২০ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ি) আসনটি জেলার আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই উত্তপ্ত থাকে এখানকার রাজনীতি। এ আসটিতে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি গ্রুপিং ও ক্ষমতার দাপটে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের হাফ ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। প্রার্থীদের নামের তালিকা দীর্ঘ থাকলেও আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ।

দলের আধিপত্য ও মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রুপিং আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। এরমধ্যে সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান ও অধ্যক্ষ আবদুর রশীদের মধ্যে গ্রুপিং এতটাই প্রকট যে, কেন্দ্রীয় কিছু কর্মসূচিতে উভয়ের যৌথ উপস্থিতি থাকলেও দলের অধিকাংশ কর্মকাণ্ডেই তাদের যোজন-যোজন দূরত্ব। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক সভা-সমাবেশ ও শক্তির মহড়া প্রদর্শনে ব্যস্ত।

এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী রাজনীতির মেরুকরণ কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করে আলোচনার শীর্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বাদশা। মনোনয়ন হাসিলে নিয়মিত কেন্দ্রে লবিং করছেন তিনি।  

ছানোয়ার হোসেন বাদশাজানান, বর্তমান সরকার যে হারে তৃণমুল পর্যন্ত উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ আবারো সরকার গঠন করবে। সে লক্ষ্যে আসনটি ধরে রাখতে চাইলে নির্লোভ, ত্যাগী ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে দলীয় সভানেত্রী ভুল করবেন না। দল তাকে মনোনয়ন দিলে আসনটি দলকে উপহার দিতে সক্ষম হবেন বলে জানান তিনি।

সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান জানান, তিনি এমপি থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি দলের কাছে এবার মনোনয়ন চাইবেন।

অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।তিনি বলেন, তিনি এমপি নির্বাচিত হলে বেকার সমস্যা সমাধান, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়ে তুলবেন।তিনি মনোনয়ন পেলে শুধু সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান ছাড়া সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করবে বলে আশাবাদী তিনি।

এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নূরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের পানিসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলাল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ লুৎফর রহমানের নামও শোনা যায়।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ইমেজ ও তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যই হচ্ছে এখানে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি। ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বর্তমানে জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সরিষাবাড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির একক প্রার্থী।

ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বলেন, মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলে বিএনপির সরকার গঠন করবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)থেকে মোস্তফা বাবুল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনিও তৎপর রয়েছেন।

সাংবাদিক মোস্তফা বাবুল জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। তবে কোনো এক জোট থেকে প্রার্থী হবো এটা নিশ্চিত।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত নির্বাচন হিসেবে এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন মামুনুর রশিদ জোয়ার্দার। এ আসনটি দখলে নেয়ার স্বপ্ন দেখছে জাতীয় পার্টি। জোটগত নির্বাচন হলে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বর্তমান এমপি মামুনুর রশিদ এবারো মহাজোটের মনোনয়ন নিশ্চিত।

সরিষাবাড়ি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি  মুক্তিযোদ্ধা  আবুল কালাম আজাদ জানান, এ আসনটি জাতীয় পার্টির বলে পরিচিত।  এখানে এবারো জাতীয় পার্টির নেতৃত্বেই নির্বাচন হবে। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির অপর প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান বস্তু। দলের হাইকমান্ডে জোর লবিং করে দলের তরুণ এ নেতা।

অপরদিকে জাসদ (ইনু) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ