আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন হবে

ঢাকা, বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকারে এনামুল হক শামীম

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৪ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:৪১ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

সংগৃহি

সংগৃহি

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। তিনি শরীয়তপুর-২ আসনের এমপি নির্বাচিত হয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। শামীমের জন্ম ১৯৬৫ সালে শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পাইকবাড়িতে। 

স্কুল জীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে জাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ৯৬ এর খালেদাবিরোধী ‘জনতার মঞ্চ’ এর অন্যতম সংগঠক ছিলেন এনামুল হক শামীম। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত হন তিনি। 

সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় ও আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন নিয়ে এনামুল হক শামীম ডেইলি বাংলাদেশ- এর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাফর আহমদ:

এবারের সম্মেলন সম্পর্কে এনামুল হক শামীম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন, যারা গঠনতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্মেলন করে। আওয়ামী লীগ হলো প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন। এর ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্বের কয়েকটি ভালো রাজনৈতিক সংগঠনের তুলনা করা যায়। আওয়ামী লীগ ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলনসহ সব সংগ্রামেই নেতৃত্বের ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এখন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে সারাদেশের লোকজনের মধ্যে  উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এ সম্মেলনে প্রার্থীদের প্রাপ্তির প্রত্যাশা থাকাটা স্বাভাবিক। 

জাতীয় সম্মেলনের আগে জেলা, উপজেলার সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভাপতি? এ বিষয়ে এনামুল হক শামীম বলেন, যেসব অঞ্চলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ছিল সেখানে কমিটি করা হয়েছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সফলতা অনেক। জেলা সভা, কর্মীসভা ও প্রতিনিধি সভা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৯ সম্মেলন করা হয়েছে।

দলের মধ্যে যারা নিস্ক্রিয় ছিলো তাদের অবস্থান কোথায়- এ প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক শামীম বলেন, ত্যাগী নেতা-কর্মীরা দূঃসময়ে দলকে আগলে রেখেছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদেরকেই প্রাধান্য দেন। এবারের সম্মেলনেও তাই হবে। 

সম্মেলনের দিন সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নতুন বার্তা থাকবে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক শামীম বলেন, নিঃসন্দেহে প্রতিটা সম্মেলনের মধ্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নতুন বার্তা থাকে। এবারের সম্মেলনেও থাকবে। সম্মেলনের দিন প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।

আপনার সাংগঠনিক বিভাগে রাজনৈতিক অবস্থা কেমন- এ বিষয়ে এনামুল হক শামীম বলেন, রাজনৈতিক বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম সবচেয়ে শক্তিশালী বিভাগ। গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমার রাজনৈতিক বিভাগগুলোর প্রায় ৪০টি জায়গায় গিয়ে সভা, কর্মীসভা প্রতিনিধি সভা করেছি। আমার সাংগঠনিক এলাকায় কোনো সমস্যা নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর নতুন কমিটি করেছি। এছাড়া সব ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা সুসংগঠিত আছে।

দলে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক শামীম বলেন, প্রকাশ করা হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা পর্যায়ে বলা হয়েছে। তারা দলের কর্মী পর্যায়েও যেন পদ না পায় বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে সব জেলায় নিদর্শনা দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন? এ বিষয়ে এনামুল হক শামীম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অবদান সজীব ওয়াজেদ জয়ের। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম নিয়ে কাজ করে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছেন। পুতুলের রাজনীতিতে আসা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে। তবে আমি মনে করি সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকলে নেতাকর্মীরা গর্বিত হবে। রাজনীতিতে তাদের মতো শিক্ষিত ও দক্ষ লোক দরকার।

কেউ কেউ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী হয়েও দলের দুর্নাম করে যাচ্ছে? এ ব্যাপারে এনামুল হক শামীম বলেন, যারা আওয়ামী লীগ করে তারা এর নীতি আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতি করে। যারা আওয়ামী লীগ মুখে বলে কাজে করে না, তারা দলের চেতনায় বিশ্বাসী নয়। তারা হয়তো সুবিধা নিতে আওয়ামী লীগ সাঁজতে পারে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা পদ-পদবি না পাওয়ায় এক ধরণের হতাশা বিরাজ করছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ছাত্রলীগ করে আসেন তারা নিশ্চয়ই জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করলে ভালো করবেন; এটাই স্বাভাবিক। আমরাও ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। সে দিকটা প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য রাখেন, সবকিছুই বিচার বিশ্লেষণ করে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের রাজনীতিকে সরাসরি দেখভাল করছেন, এটা তাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। বাংলাদেশের মানুষ সবসময় মনে করে বঙ্গবন্ধুর পরে  তার কন্যা শেখ হাসিনার হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বলবো ধর্য্যের ফল বড় হয়।


 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএএম/আরএইচ